২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্য হাজতির পরিচয়ে কারামুক্ত হয়ে পালালেন হত্যা মামলার আসামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তির কিছুক্ষণ পরই বন্দিদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Feb 2026, 10:43 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:50 PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে এক হাজতির জামিনের কাগজ ব্যবহার করে ও ‘পরিচয় জালিয়াতি’ করে কারামুক্ত হয়ে হত্যা মামলার এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় পলাতক আসামিসহ কয়েকজন কারাবন্দির বিরুদ্ধে মামলা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন বলে শনিবার রাতে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম।

পালিয়ে যাওয়া হৃদয় আখাউড়া থানার একটি হত্যা মামলার আসামি ও কসবা উপজেলার বাসিন্দা। 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টা ৫২ মিনিটে ২নং হাজতি দিদার হোসেনের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ১নং হাজতি হৃদয় কৌশলে নিজেকে দিদার পরিচয় দেয়। সেজন্য কেস হিস্ট্রি টিকিটে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। এ সময় কারাগারে থাকা আরও কয়েকজন হাজতি তাকে দিদার হিসেবে শনাক্ত করে সায় দেয়। 

তখন ডিউটিতে থাকা কারারক্ষীরা কাগজপত্র ও বন্দিদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে দিদার হোসেনের বদলে হৃদয়কে কারামুক্ত করে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু মুক্তির কিছুক্ষণ পরই বন্দিদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন বন্দি পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ওই হাজতিকে পালাতে সহায়তা করেছে বলে স্বীকার করেছে-এমন দাবি মামলার বাদীর। 

মামলার আসামিরা হলেন, পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্কপাড়ার বাসিন্দা হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের বাসিন্দা কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা কোন্নাবাড়ির বাসিন্দা কয়েদি আক্তার হোসেন ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার সুলতানপুরের বাসিন্দা হাজতি শিপন মিয়া (৪৫), কসবার সোনারগাঁওয়ের বাসিন্দা হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। 

মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ-সাত জনকেও আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, “অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামে এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।”

বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষীরা হলেন, মো. মোরশেদ আলম, ফটকের মো. হানিফ, মুক্তি শাখার মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা শাখার মো. জাহিদ হাসান, আইসিটি শাখার মো. আবু খায়ের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি শহিদুল ইসলাম