১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যবিপ্রবিতে সংঘর্ষ: ছাত্রীকে উত্ত্যক্তে মামলা-গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক ইমরান খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে এ দায়িত্বে ছিলেন ওমর ফারুক।

যশোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Nov 2025, 05:14 PM

Updated : 10 Sep 2026, 05:57 PM

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার মূল আসামিকে। 

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ওমর ফারুক বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন যশোর কোতয়ালি থানার এসআই দেবাশীষ হালদার।  

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস মেরামতের কাজে যশোর সদরের আমবটতলা এলাকার ‘মোনায়েম টেলিকমে’ যান। 

দোকানে ভিড় থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ডিভাইস খোলার চেষ্টা করলে একজন ছাত্রীর হাত সামান্য কেটে যায়। এ সময় দোকানি মোনায়েম তার হাত স্পর্শ করেন, বিব্রত হয়ে ছাত্রী তার হাত সরিয়ে নেন।

তখন ছাত্রীরা দোকানীর আচরণের প্রতিবাদ জানালে তিনি ‘ঔষধ লাগানোর চেষ্টা’ করার অজুহাত দেন। পরে দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় মোনায়েম ছাত্রীদের উদ্দেশে অশ্লীল কথা বলেন। 

ছাত্রীরা বিষয়টি তাদের সহপাঠীদের জানালে রাইয়ানুল ইসলাম, মেহনাজ মুনিব তন্ময়, আব্দুল্লাহ আল জোবের, সাব্বির আহম্মেদ, ইয়াছিন আরাফাত শেখ, রাতুল হাসানসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সে দোকানে যান। তখন মোনায়েম তাদের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ছাত্রীকে উক্ত্যক্ত করার এ ঘটনার জেরে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে প্রায় ২৭ জন শিক্ষার্থী, তিন সাংবাদিক ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা আহত হন।

গুরুতরভাবে জখম হন আইপিই বিভাগের রোহান, গণিত বিভাগের তানজিল আল ফাহিম, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদ সৈকত। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সাংবাদিক সাব্বিরের সাইকেল।

রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টারে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। অভিযুক্ত দোকানীকে গ্রেপ্তারসহ কয়েক দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটিমে রাত ১টা ৩০ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ছাড়া পান উপাচার্য। 

এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যবিপ্রবি প্রশাসন।  

বুধবার বিকেলে এক জরুরি সভায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য আব্দুল মজিত। 

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- ডিন পরিষদের আহ্বায়ক কোরবারন আলী, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সিরাজুল ইসলাম, ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন শিরিন নিগার এবং পদাধিকার বলে প্রক্টর ও ছাত্র পরামর্শ উপদেষ্টা।

এছাড়া বুধবার বিকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান উপাচার্য আব্দুল মজিত, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। 

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসা খরচ বহনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক ইমরান খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন ড. ওমর ফারুক।

পরে সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় স্থানীয় আমবটতলা ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে বসেন। বিকাল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সভা চলছিল। 

যশোর কোতয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা মল্লিক পাড়া থেকে মোনায়েমকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে।

আগের সংবাদ

শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র যশোর বিশ্ববিদ্যালয়আহত ২৫