০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

গাইবান্ধায় কুকুরে কামড়ানো ১৪ ব্যক্তির মধ্যে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 May 2026, 10:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:36 PM

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কুকুরে কামড়ানো ১৪ ব্যক্তির মধ্যে পাঁচজন এক সপ্তাহের মধ্যে মারা গেছেন।

অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশু ও নারীসহ আরও নয়জন। এলাকায় একের পর এক মৃত্যুর কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আহতদের পরিবারের সদস্যরা। 

সবশেষ বুধবার দুপুরে মারা যান ধুবনী বাজার এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৯) বলে তথ্য দেন কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার।

এর আগে সোমবার রাতে মারা যান একই এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরুজা বেগম (৪০), শুক্রবার মারা যান পার্শ্ববর্তী পূর্ব ছাপরহাটী গ্রামের খোকা বর্মণের ছেলে রতনেশ্বর বর্মণ (৫০)।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, কাঠমিস্ত্রী রতনেশ্বর ঘটনার দিন বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজে এসে কুকুরের কামড়ের শিকার হন। 

এর আগে ৬ মে মারা যান কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫) এবং নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২)।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। কী কারণে এই পাঁচজন মারা গেলেন। এখনও তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয় উদঘাটনে কাজ করা হচ্ছে।”

কুকুরের কামড়ে যারা এখন চিকিৎসাধীন তাদের তথ্যও দিয়েছে চেয়ারম্যান মনোয়ার।

চিকিৎসাধীন এই নয়জন হলেন- ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ বেপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার এবং আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন। 

তারা কেউ হাসপাতাল আবার কেউ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান চেয়ারম্যান। 

হতাহতদের স্বজনদের ভাষ্য, ২২ এপ্রিল সকালে একটি বেওয়ারিশ কুকুর বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে আকস্মিক অন্তত ১৪ ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়। পরে তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ভ্যাকসিন না পেয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সেখানেও ভ্যাকসিন নাই বলে তাদেরকে জানানো হয়। 

পরে তারা বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। তবে ততক্ষণে অনেকেরই ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যায়।

নিহত সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, “২২ এপ্রিল কুকুর মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দেয়। পরে মাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তাদের কাছে ভ্যাকসিন নেই। পরে বাইরে থেকে কিনে এনে মাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

“এরপর তিনি আরও অসুস্থ হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চার দিন আগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তখন থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার দুপুরে বাড়িতেই তিনি মারা যান।”

রতনেশ্বর বর্মণের ভাই রবীন্দ্র বর্মণ বলেন, কুকুরে কামড় দেওয়ার পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, ভ্যাকসিন নাই। পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। সেখানেও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত বাইর থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়। ততক্ষণে রোগীর অবস্থা কাহিল।   ১৪ দিন পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।” 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, “২২ এপ্রিল কুকুরে কামড়ানো ওই ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেননি। এ ছাড়া ওই সময় হাসপাতালে ভ্যাকসিনও ছিল না। সম্প্রতি ভ্যাকসিন কেনার জন্য মাত্র ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।”

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে কুকুরের কামড়ানো ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। তবে ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ কিংবা কার্যকারিতা ছিল কিনা এটাও জানা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “ভ্যাকসিনের বিষয়টি সিটি করপোরেশন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয় দেখে। তাদের টিমও আছে।”