Published : 21 Aug 2024, 09:52 PM
গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুবক নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আ ক ম মোজাম্মেল হক, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানায় মামলাটি করা হয় বলে ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান।
মামলার বাদী নিহত নূর আলমের (২২) বাবা মো. আমির আলী (৪৪)।
তিনি কুড়িগ্রাম সদরের মোল্লাপাড়া মধ্য কুমরপুর এলাকার বাসিন্দা।
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিপাড়া এলাকার নাহিদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
মামলায় আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, মোজাম্মেল হক, আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, মেহের আফরোজ চুমকি, রুমানা আলী টুসি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্ল্যাহ খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মতিসহ ১৩৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাদের সহযোগী আওয়ামী লীগের আরো ১০০-১৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ছয় জনের নির্দেশে গত ২০ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের তেলিপাড়ার হানিমুন রেস্টুরেন্টের সামনের রাস্তায় বন্দুক, পিস্তল, লাঠি, লোহার রড, রামদা, ছেনি, চাপাতি দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ চালায় হামলাকারীরা।
তখন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট ও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নূর আলমসহ ২৫-৩০ জনকে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
এক পর্যায়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজমত উল্লাহ খান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের সরাসরি হুকুম ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্রধারীরা ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন।
তাদের ছোড়া গুলিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া নূর আলম নিহত হন।