২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘আমরা থাকি গণরুমে, ভিসি স্যার কী করেন’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল হক জানান, লোকবলের অভাবে হল চালু করতে পারছেন না তারা।

‘আমরা থাকি গণরুমে, ভিসি স্যার কী করেন’

নতুন হল চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2023, 11:25 AM

Updated : 31 Jul 2023, 11:51 AM

নতুন হল চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া হলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নিয়ে ‘আমরা থাকি গণরুমে, ভিসি স্যার কী করেন’, ‘গণরুমের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘দাবি মোদের একটাই, নতুন হলে সিট চাই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় তাদের সমর্থন জানাতে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রীতিলতা ও সুফিয়া কামাল হলের নারী শিক্ষার্থীরাও।

শিক্ষার্থীদের দাবি, শেখ হাসিনা হল ও বেগম খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থীদের গণরুম থেকে সরিয়ে নতুন হলগুলোতে আসন নিশ্চিত করা হোক।

এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মুহসিনা রহমান মীম সাংবাদিকদের বলেন, “২৩ তারিখ নতুন হলে সিটের ব্যাপারে আমরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। তখন উপাচার্য স্যার নিজে আমাদের কথা বলেছিলেন, এ মাসের ২৮ তারিখ একটা সুরাহা করবেন। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত আসন পাইনি।”

“২৮ তারিখ আমাদের সাথে কর্তৃপক্ষের কেউই কথা বলেনি। হল প্রাধ্যক্ষ হলে এসেছিলান কী না তাও জানি না। ওনি কখন আসেন আর কখন বের হন তা আমাদের নজরের বাইরে। আমাদের লিখিত না দিলে আজকে বাস ভবনের সামনে থেকে সরবো না।”

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে রাত ১১টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নিগার সুলতানা।

নিগার সুলতানা বলেন, “২৭ জুলাই ইউজিসির সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিন্তু এত দ্রুত নতুন হল চালানোর মতো লোকবল নিয়োগ করা সম্ভব না। লোকবল নিয়োগ না হলে আমাদের নতুন হল চালানোও সম্ভব না।”

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল হক।

তিনি বলেন, “মেয়েদের তিনটি নতুন হলের মধ্যে একটি হল চালু হয়েছে আরও দুটি হলের চাবি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু লোকবলের অভাবে হল চালু করতে পারছি না। গত ২৭ জুলাই নতুন হলে লোকবল নিয়োগের বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা বাকি সদস্যদের সঙ্গে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।”

“১ অগাস্ট আমাদের ইউজিসির সাথে আরেকটি মিটিং রয়েছে। আমরা সেখানে নতুন হলে লোক নিয়োগ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হল চালুর ব্যাপারে জানাব। ইউজিসি থেকে পজিটিভ সাড়া আসলেই গণরুম বিলুপ্ত করে সবার জন্য আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে সরে আসেন।

এর আগে একই দাবিতে ২৩ জুলাই উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই হলের শিক্ষার্থীরা।