সাঈদীর রায়ে ‘মিষ্টি বিতরণকারী’ আওয়ামী লীগ নেতাকে মিষ্টি খাইয়ে পিটুনি
স্থানীয়রা বলছেন, ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর ‘মিষ্টি বিতরণকারী’ পিরোজপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মিষ্টি খাইয়ে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইন্দুরকানী উপজেলার ঘোষেরহাট বাজার এলাকায় শনিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে ওই এলাকা থেকে আটক করে বলে ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছেন।
আটক মো. এহসান হিরণ ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
স্থানীয়রা বলছেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর হিরণ এলাকায় আনন্দ উল্লাস করে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন।
পরে আপিল বিভাগ সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। সেই দণ্ড ভোগ করার মধ্যে ২০২৩ সালে ১৪ অগাস্ট মারা যান ৮৩ বছর বয়সী সাঈদী।
সাঈদীর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাউদখালী গ্রামে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াতের মনোনয়নে পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্যও হয়েছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন হিরণ। শনিবার রাতে ঘোষেরহাট বাজার এলাকায় তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আটক করে।
প্রথমে তারা হিরণকে মিষ্টি খাওয়ায়, পরে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
হিরণের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে ওসি মারুফ হোসেন বলেন, তাকে আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।
