নেত্রকোণায় ডোবায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
সাড়ে ছয় বছরে বজ্রপাতে এ জেলায় ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে ডোবায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের মাসকা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ।
নিহত এনামুল হক (২৬) ওই গ্রামের হবুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, এনামুল হক বাড়ির পাশের ডোবায় মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজে বের হন।
ডোবার পাশে স্বজনরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর কথা বলেছেন ওসি মেহেদী মাকসুদ।
গত সাড়ে ছয় বছরে বজ্রপাতে এ জেলায় ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান নেত্রকোণা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন।
তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে প্রাণ গেছে ৬৬ জনের; আর আহত হয়েছেন অন্তত ২৯ জন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ৫ মের মধ্যে মারা গেছেন চয়জন; আহত হয়েছেন আরও একজন। হতাহতের বেশিরভাগ কৃষক। তারা হাওরের মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন।
রুহুল আমীন বলেন, হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা মাঠে জীবন বাঁচাতে কোথাও আশ্রয় নিতে পারছে না মানুষ। বাধ্য হয়ে মাঠে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া বৃষ্টির মধ্যে খেলাধুলা করার সময় শিশুও মারা গেছে। স্কুলে যাওয়ার পথেও মারা গেছে কেউ কেউ।
তিনি বলেন, ২০২২ সালে জেলায় ৩৪টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়। স্থাপন করা দণ্ড জেলার আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। সরকার বরাদ্দ দিলে হাওরে প্রয়োজনীয় দণ্ড ও ছাউনি স্থাপন করা হবে।
