Published : 24 Sep 2024, 04:57 PM
রাজবাড়ীতে নিখোঁজের দুই দিন পর মালটা বাগানে দেওয়া বিদ্যুতের তারে জড়ানো শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার পূর্ব ভবদিয়া গ্রামের একটি মাল্টা বাগান থেকে শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত সরকার।
১২ বছর বয়সী মিনহাজ একই গ্রামের আজাদ শেখের ছেলে। তার বাবা ভ্যান চালায় আর মা পাশেই একটা কারখানায় কাজ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে মিনহাজ বড়। সে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে পরে আর পড়েনি।
নিহত শিশুর স্বজন শাহিন বলেন, রোববার বিকালে বাড়ি থেকে বের হয় মিনহাজ। রাতে বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি। পরদিন তার খোঁজ পেতে এলাকায় মাইকিংও করা হয়।
পরে মঙ্গলবার সকালে একই গ্রামের মুক্তারের মালটা বাগানের বিদ্যুতের তারে মিনহাজের মরদেহ জড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
শিশুটির বাবা আজাদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। মিনহাজ ছোট মানুষ, মালটা বাগানে গিয়ে মালটা ছিড়তেই পারে তাই বলে মেরে ফেলবে?
“আমার ছেলেকে আমি অনেক খুঁজেছি, সোমবার মালটা বাগানেও খুঁজেছি কিন্তু তখন তার খোঁজ পাই নাই। আজ বাগানে বিদ্যুতের তারের সঙ্গে আমার ছেলের লাশ পাওয়া যায়। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”
প্রতিবেশি সালমা খাতুন বলেন, “আমরা বাগান মালিক মুক্তারের বিচার চাই। সে বাগানে বিদ্যুতের তার দিয়ে রাখতে পারে না। সবাই তো জানে না বাগানে বিদ্যুতের তার ফেলে রাখা হয়েছে।”
এই বিষয়ে জানতে মালটা বাগানের মালিক মুক্তারের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা জানান ঘটনার পর থেকে মুক্তার পলাতক।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার বলেন, “ওই মালটা বাগানের চারপাশে তারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ছিল। প্রাথমিক ধারণা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”
শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।