০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

এক লাখ ৬৬ হাজার কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাবে বাংলাদেশও

এ কাজে দালাল থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

এক লাখ ৬৬ হাজার কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাবে বাংলাদেশও

ইতালির ফোজিয়ার কাছে টমেটো সংগ্রহকারী শ্রমিক, ছবি: রয়টার্স।

সাইফুল ইসলাম, ইতালি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 01:06 PM

Updated : 05 Oct 2026, 01:07 PM

ইতালিতে আগামী বছর প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এ তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ৩৬ দেশের নাম রয়েছে।

তবে এজন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র, শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক, কৃষি এবং পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি শ্রমিককে বৈধপথে ইতালিতে কাজ নিয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে নন-সিজনাল ক্যাটাগরিতে ৭৬ হাজার ২০০, সিজনাল ক্যাটাগরিতে ৮৯ হাজার এবং নিজস্ব কাজের জন্য ৬৫০টি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ৩৬ দেশের নাম রয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো: আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, কেপ ভার্দে, ইকুয়েডর, মিশর, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, জাপান, জর্ডান, গুয়াতেমালা, ভারত, কিরগিজস্তান, কসোভো, মালি, মরক্কো, মরিশাস, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, নাইজার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পেরু, উত্তর মেসিডোনিয়া, সেনেগাল, সার্বিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুদান, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন ও উজবেকিস্তান।

এই সুযোগ পেতে চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ইতালিয়ান একজন মালিকের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করা যাবে।

তারপর নির্ধারিত চারটি দিনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। তারিখগুলো হলো আসছে বছরের ১২ জানুয়ারি, ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি।

এর মধ্যে ১২ জানুয়ারিতে সিজনাল কৃষিখাতের আবেদন, ৯ ফেব্রুয়ারি সিজনাল পর্যটন খাতে, ১৬ ফেব্রুয়ারি নন-সিজনাল এবং ১৮ ফেব্রুয়ারিতে নন-সিজনাল ডমেস্টিক খাতের আবেদন জমা করা যাবে।

এ বিষয়ে ভেনিসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কামরুল ইসলাম রিগ্যান বলেন, “ইতালি সরকারের এই ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি বাংলাদেশি কর্মীকে একজন সঠিক মালিকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের আগে সুযোগ থাকলে ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে মালিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। তবে দালালদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।”

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা জানান, যদিও বাংলাদেশ থেকে আসতে চাওয়া কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকারি ঘোষণায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো কোটা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে আবেদন করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।