Published : 21 Jun 2025, 01:24 PM
অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে দেশটির সরকার। এতে দেশটিতে বসবাসরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে পরিবহন স্টেশন, সীমান্ত অঞ্চল ও প্রধান নগরকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি এবং তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডানপন্থি লে রিপাবলিকান (এলআর) দলের নেতা ব্রুনো রোতাইয়ো ফরাসি গণমাধ্যমকে জানান, “এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, মানবপাচারকারীদের শনাক্ত এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের আটক করা।”
সরকারি তথ্যমতে, দেশব্যাপী এই অভিযানে প্রায় চার হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন পুলিশ, জাঁদারমেরি, কাস্টমস এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
শুধু বুধ ও বৃহস্পতিবার, এই দুই দিনে দেশটির প্রধান প্রধান রেল ও বাস স্টেশনগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে বিশেষ নজর দেওয়া হয় প্যারিসের ‘গার দ্যু নর্দ’ স্টেশনে, যা যুক্তরাজ্যগামী ইউরোস্টার ট্রেনের প্রধান টার্মিনাল এবং দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের অন্যতম প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। মে মাসে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অভিযানে একযোগে ৭৫০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আটকসংখ্যা ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রধান শহর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে চলাচলকারী ট্রেনযাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ইংলিশ চ্যানেল হয়ে ফ্রান্সে প্রবেশের হারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুসারে, একদিনে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী এই বিপজ্জনক পথ অতিক্রম করেছেন।
ব্রুনো রোতাইয়ো কড়া ভাষায় বলেন, “যারা অনিয়মিতভাবে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য আমাদের দেশে কোনো স্থান নেই।”
সম্প্রতি রোতাইয়ো লে রিপাবলিকান দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান এবং ‘সীমান্ত ফোর্স’ মোতায়েন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে।
এদিকে এই অভিযানে ফ্রান্সে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন।