Published : 05 Mar 2026, 09:06 PM
ইরান যুদ্ধে বন্ধ থাকার মধ্যে দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন এমিরেটস স্বল্প পরিসরে ফ্লাইট আবার চালাবে। তাদের ঘোষিত ৭৫টি গন্তব্যের তালিকায় ঢাকাও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় গত ছয় দিনে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ২১০টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিয়েছে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচক। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৩৪টি ফ্লাইট।
এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, বিশেষ করে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীরা।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দুদিন আগে মঙ্গলবার দুবাই কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে তাদের আকাশ সীমা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলো আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট দুবাই যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ইরান যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া ৩৭৮ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে দেশে ফিরেছে ফিরতি ফ্লাইটটি।
বৃহস্পতিবার আবার একই উড়োজাহাজ দিয়ে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইনটি।
বুধবার এটি ছাড়াও সৌদিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক উড়োজাহাজ সেবা সংস্থা দুবাই, শারজাহ, মাস্কাট, রিয়াদ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমিরেটসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে জানানো হয়।
এয়ারলাইনটি বলছে, সীমিত পরিসরে ফ্লাইটের বুকিং এখন উন্মুক্ত। তবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তাদের আসন নিশ্চিত করা হচ্ছে যাদের আগে থেকে বুকিং করা আছে।
“দুবাইয়ে ট্রানজিট করা যাত্রীদের ভ্রমণের অনুমতি কেবল তখনই দেওয়া হবে, যদি তাদের পরবর্তী সংযোগকারী (কানেকটিং) ফ্লাইটটি সচল থাকে। আপনার যদি এই ফ্লাইটগুলোতে নিশ্চিত বুকিং না থাকে, তবে দয়া করে বিমানবন্দরে যাবেন না।”
সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি ওয়েবসাইটে প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে এয়ারলাইনটি।
ঘোষণায় বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের ওয়েবসাইটে ফ্লাইটের বুকিং যাচাই এবং ইমেইল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর সংযোগের ক্ষেত্রে এমিরেটসে যাতায়াত করেন অনেকে। এ কারণে ঢাকা থেকে দুবাইয়ে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করে দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইনটি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আগের সূচিতে চারটি ফ্লাইট ছিল, যেগুলো বাতিলের তালিকায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুবাইও আক্রান্ত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত এ শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তাদের চারজন কর্মীও আহত হয়।