Published : 21 Sep 2026, 01:02 PM
চলতি বছর সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশের হার কমলেও এই যাত্রায় প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এই প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন।
অন্যদিকে, চলতি বছর সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী, যা গত বছরের একই সময়ের (৯৮ হাজার ৪০ জন) তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম।
আইওএম-এর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এই পরিসংখ্যানকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “সমুদ্রপথে ইউরোপে আগমন কমলেও মানুষ এখনও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। আগমন কমার পাশাপাশি মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী হার প্রমাণ করে যে, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বর্তমানে আরও বেশি বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন।”
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইতালিগামী কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে আগমন ৫৫ শতাংশ কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা ৮৪৪ থেকে বেড়ে ৯৯৬-এ দাঁড়িয়েছে। একইভাবে গ্রিসগামী পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে আগমন কমলেও প্রাণহানি ২৮৪ থেকে বেড়ে ৪১৭ জন হয়েছে এবং স্পেনগামী আটলান্টিক ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ৮৭৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া, লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্র থেকে অন্তত ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে পুনরায় লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়াসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে মানবপাচারকারীদের দেওয়া অনিরাপদ ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযানে যাত্রা করায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। ইউরোপে অভিবাসীদের আগমন কমলেও ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে সীমান্ত নীতি কঠোর করার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে এবং গত জুনেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লকের বাইরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নতুন নিয়মে সম্মত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কেবল আগমন ঠেকানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে মানবপাচার রোধ, সমুদ্রে জীবন রক্ষা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে আইওএম। সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের পথ সুগম করা গেলেই কেবল এমন অকাল প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।