‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে: মঈন খান
“কোনো ঝড় এ সম্পর্কের ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না,” বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র অভিহিত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
বুধবার ঢাকার শেরাটন হোটেলে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।
“চীনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং ভবিষ্যতমুখী বিভিন্ন প্রস্তাব এ সম্পর্কের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, ওই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎসমৃদ্ধ বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তোলার দিকে আরও এগিয়ে গেছে।
দিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে আব্দুল মঈন খান বলেন, গত ৭৭ বছরে চীনের যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটেছে, তা আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বিশেষ করে সমাজের তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
‘কোনো ঝড় সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না’
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে মন্তব্য করে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, কোনো ধরনের ঝড়ই এই সম্পর্কের ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না।
তিনি বলেন, শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সরকারকে সমর্থন করে চীন। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থনের পাশাপাশি বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তার দেশ।
তিন বছর বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন শেষে এখন বিদায় যাত্রায় আছেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও। তিন সরকারের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের এই সময়ে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে বড় পরিবর্তনের সাক্ষীও ছিলেন তিনি।
এই সময়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “বিগত তিন বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে এই দেশের মানুষের ঐতিহাসিক সব সিদ্ধান্ত আমি প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের অসাধারণ সহনশীলতা এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মন্ত্রী, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
