কুড়িলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, একজনকে ধরার ভিডিওতে যা দেখা গেল
"দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে অল্প সময় মিছিল করে তারা দৌড়ে চলে যায়,” বলেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম।
ঢাকার কুড়িলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্লোগানে ঝটিকা মিছিল হয়েছে, যেখান থেকে এক যুবক একজনকে ধরে ফেললেও আশপাশের মানুষের বিরোধিতায় ছেড়ে দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে ‘অল্প সময়ের’ এই মিছিল হয় বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
মিছিলের পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ছড়ায়। তাতে দেখা যায়, ৩০-৪০ জন কুড়িলের সড়ক ধরে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘তেল দে, বিদ্যুৎ দে, গ্যাস দে, নাইলে গদি ছেড়ে দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলটি কিছু দূর গিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু মিছিল থেকে কিশোর বয়সি একজনকে এক যুবক ধরে ফেলেন। ওই যুবক নিজেকে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। এর মধ্যে আশপাশ থেকে কয়েকজন এসে ওই কিশোরকে ছেড়ে দিতে বলেন।
আটক কিশোরের শার্টের কলার চেপে ধরা যুবককে বলতে শোনা যায়, “তোরে আনছে কে?” কিশোর উত্তর দেয়, “এক বড় ভাই আনছে।”
তখন ওই যুবক জানতে চায়, “এটা কাদের মিছিল ছিল?”
ওই কিশোর বলে, ছাত্রলীগের মিছিল। সঙ্গে দাবি করে, এক বড় ভাই তাকে মিছিলে আসার বিনিময়ে আড়াইশ টাকা দিতে চেয়েছে।
আটক কিশোরের সঙ্গে ওই যুবকের কথা হচ্ছিল একটি ফুটওভারব্রিজের নিচে। এর মধ্যে সেখানে আরও কিছু মানুষ জড়ো হন, যাদের কেউ কেউ ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন।
নিজেকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, “পোলাপাইন মানুষ, ওরে ছাইড়া দেন।…ওরে ধইরা লাভ আছে?”
তাকে ছেড়ে দেওয়া না দেওয়া নিয়ে এক পর্যায়ে ওই যুবকের সঙ্গে ‘স্থানীয় বাসিন্দার’ কথা-কাটাকাটি হয়।
দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলার সময় আরও কয়েকজন ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কিশোর ছাড় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা যায়।
ভাটারা থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে অল্প সময়ে মিছিল করে দৌড়ে চলে যায় তারা। এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারি নি।"
মিছিল থেকে একজনকে আটকে ছাত্রদলের নেতারা মব করার সময় স্থানীয় লোকজন ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, "একজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও দেখেছি।"
