২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির ২ মামলায় শুনানির নতুন তারিখ

বিএনপি চেয়ারম্যান অসুস্থ বলে সময়ের আবেদন করেছিলেন।

খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির ২ মামলায় শুনানির নতুন তারিখ

দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া এখন সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে বাসায় রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে তাকে মাঝে-মধ্যেই হাসপাতালে যেতে হয়।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jul 2023, 06:53 PM

Updated : 02 Jul 2023, 06:53 PM

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির দুটি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ভুয়া’ জন্মদিন উদযাপনের মামলায় আগামী ১২ জুলাই এবং মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে করা মানহানির মামলার ২০ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নুর অভিযোগ গঠনের শুনানির এই দিন দুটি ধার্য করে দেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দিন ঠিক করেন বিচারক।

দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিন বছর ধরে নিজের বাসায় রয়েছেন। ৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া নানা রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির এই দুটি মামলার একটি হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর। জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী এই মামলা করেন।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগের এই মামলার আরজিতে বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। তিনি রাজাকার ও আলবদর নেতাদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি-গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

আদালত সেদিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে তেজগাঁও থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিন মাস বাদে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

‘ভুয়া’ জন্মদিন উদযাপনের অভিযোগের মামলাটি হয় ২০১৬ সালের ৩০ অগাস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলাটি করেন।

আরজিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ অগাস্ট লেখা হয়। আর বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন উল্লেখ করা হয় ১৯৪৪ সালের ৪ অগাস্ট। সবশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ অগাস্ট।

আরজিতে বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ অগাস্ট জন্মদিনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও উদযাপন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দিন জাতীয় শোক দিবসে (১৫ অগাস্ট) আনন্দ-উৎসব করে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করে আসছেন।