২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

টোকিওর মত পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চান তারেক রহমান

তিনি বলেছেন, পরিবেশের উন্নয়ন, বায়ুদূষণ কমানো এবং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখেন।

টোকিওর মত পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চান তারেক রহমান

ছবি: পিএমও

সুমন মাহমুদ সুমন মাহমুদ

টোকিও থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 07:13 PM

Updated : 28 Oct 2026, 07:13 PM

টোকিওর মত ঢাকা ও সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন করার পরিকল্পনার কথা জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, পরিবেশের উন্নয়ন, বায়ুদূষণ কমানো এবং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখেন।

বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা ও বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমি আজকে আমাদের সঙ্গে আসা একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, টোকিও কেমন দেখলা? বলে যে রাস্তায় কোনো ময়লা দেখি নাই। আর ঢাকায় চারদিকে এত ময়লা।

“এখন আপনারা নিশ্চয় এর মধ্যে নিউজে দেখেছেন কিনা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন কিনা, আমরা চেষ্টা করছি যে ঢাকাসহ সারা দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করতে।”

Image

ছবি: পিএমও

তিনি বলেন, “নিউজে আমরা প্রায়ই দেখি যে, ঢাকা শহরের বায়ু দূষিত, খুব পলিউটেড… এটাকে একটু বেটার করা, ফিল্টার করা, বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগানো।”

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। চারদিকে আবর্জনা জমতে থাকলে সেখান থেকে জীবাণু ও রোগ ছড়াতে পারে। মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করা এবং আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ করা প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়াকে সরকারের অন্যতম সংস্কার ভাবনা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “মানুষ যে আবর্জনার জন্য হাঁটতে পারছে না, মানুষ আবর্জনার জন্য খুব অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বা দেশের বাতাস দূষিত হয়ে যাচ্ছে—এর চেয়ে বেটার সংস্কার কী হতে পারে?”

বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা বা পরিকল্পনা দেখেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা কোনো একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের সন্তানরা, দেশের মানুষেরা, মা-বোনেরা, নারীরা সুস্থ থাকবে—এটাই আমার কাছে বড় সংস্কার মনে হয়। যদিও আমরা টোকিওর মতো ঢাকা শহরকে ক্লিন করতে পারি, জাপানের মতো ক্লিন করতে পারি।”

Image

ছবি: পিএমও

‘প্রান্তিক মানুষের উপকার হয়, এমন সংস্কার চাই’

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক মানুষের উপকার হয়—এমন সংস্কার বাস্তবায়নে তার সরকারকে ‘বাধা দেওয়ার চেষ্টা’ হচ্ছে।

“যে সংস্কার করলে একদম প্রান্তিক মানুষটা উপকার পাবে, সেই সংস্কারগুলো যাতে বিএনপি করতে না পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি যদি এই সংস্কারকাজগুলো করতে পারি, তাহলে আপনি বা আপনার সন্তানরা ভালো থাকবেন, উপকার পাবেন।”

সরকারের উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বলছি না যে, ভোট দেন। কাজগুলো যদি বলেন আমরা সঠিক করার চেষ্টা করছি, তাহলে কাজগুলোকে সমর্থন দেন, অন্তত কাজগুলো আমরা করতে পারি।”

এ সময় উপস্থিত প্রবাসী নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।

Image

ছবি: পিএমও

‘আম তারেকের’ পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক

আম জনতা পার্টির সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হচ্ছে, অনুষ্ঠানে তারও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপান সফরে আম জনতার তারেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেই রয়েছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, “এই যে এখানে আম তারেক আছে। তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে… অথচ দেশের নানা সমস্যা তা নিয়ে কারও কোনো কথা নেই।”

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মত খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পেতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমি যেসব সংস্কারের কথা বললাম (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ), এতে একজন রিকশাচালক, একজন সিএনজিচালক, একজন ধনী, একজন গরিব, একজন ডাক্তার, একজন উকিল, একজন চাকরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী—যার কথাই বলুন না কেন, একজন শিক্ষক—প্রত্যেকটা মানুষের উপকার হবে।”

বিভিন্ন মহলে আলোচিত সংস্কার প্রস্তাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে উপকার হবে না, তা তিনি বলছেন না। তবে তার মতে, সংস্কারের সুফল কত মানুষের কাছে পৌঁছাবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

“সংস্কার বলতে একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে আমি সেই সংস্কারকেই বুঝি, যেই সংস্কারের সুবিধা আমার প্রান্তিক মানুষটা পায়। সংস্কার অনেক ধরনের আছে… এয়ার কন্ডিশন রুমের সংস্কারও আছে, আর খেটে খাওয়া মানুষের লাইফ একটু বেটার করার জন্য সংস্কার আছে।”

খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশের গণতান্ত্রিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

“আপনাদের সকলের সহযোগিতা যদি থাকে, দেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক মানুষের সহযোগিতা যদি থাকে, ইনশাল্লাহ তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের এই বাংলাদেশকে, আমাদের কাঙ্ক্ষিত যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশে আমরা গড়ে তুলতে পারব।”

এ জন্য পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

Image

ছবি: পিএমও

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন মিঠু, এস ইসলাম নান্নু, সাইফুল্লাহ জাহেদ আসিক, মীর কাজু, মোল্লা দেলোয়ার, টিটু ব্যাপারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম পাঠান ও আসমা পাঠান উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থী মো. নিলয়সহ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।