গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান
ভেতরে থাকা প্রায় চারশর মত ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে।
ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
শনিবার দুপুর ৩টা থেকে এ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা এসআই নাজমুল হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভেতরে প্রায় চারশর মত ব্যক্তি আছে। তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
“বেলা ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তিনতলায় গিয়ে জাসদ অফিসে এদের দেখে। এরা এখানে বৈঠক করছিল।”
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বিকাল সোয়া ৪টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি ওই কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান হয়েছিল, আর ভেতরে একটি মিটিং চলছিল।
“এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে, এ পর্যন্ত ৩০-৪০ জন পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। এখনো আমাদের কার্যক্রম চলছে, পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা করার সময় দুপুর আড়াইটায় তাদের ওপর ‘হামলা’ হয়েছে।
“প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।”
দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে বলতে দেখা যায়, “এখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল।
“এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসবে কেন, একটা কিছু বলে আমাদের উপর আক্রমণ করাটাই বিষয়।”
তিনি দাবি করেন, বেলা ৩টার দিকে পুলিশ এসে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জাসদ কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদ নেতাকর্মীদের আটক শুরু করে।
শাহবাগ থানা যুবদলের সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন তপন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা—বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক নিয়ে আইসা এখানে ৫০০-৬০০ লোক উইঠা তারা একটা গোপন বৈঠক করছে। দেশে জ্বালাও-পোড়াও করার জন্য, দেশকে আরও অস্থিতিশীল করার জন্য।
“আপনারা যে কিছুদিন যাবৎ দেখতেছেন বিভিন্ন জায়গায় জ্বালাও-পোড়াও করতেছে, বোমা বাাজি করতেছে, এই তারই অংশবিশেষ আজকে তারা এখানে গোপন বৈঠক বসছে।
যুবদল নেতা তপন বলতে থাকেন, “এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমরা খবর পাইছি, এখানে গোপন বৈঠক বসতেছে। তারপরে আমাদের কিছু লোকজন আইসা সত্যতা প্রমাণ পাইছে। পাওয়ার পরে ব্যাপকভাবে আমরা লোকজন আইসা তাদেরকে ব্যারিকেড দিছি। প্রশাসনের লোকজনকে আমরা খবর দিছি।
“তারপরে তো আপনারা দেখতেই আছেন প্রশাসনের লোকজন তাদেরকে এক এক করে গাড়িতে উঠাইয়া নিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত ৯৫ জনকে গাড়িতে উঠাইয়া থানায় নেওয়া হইছে। এখনো আরও অনেক লোক এখানে বাকি আছে।”
অভিযানের সময় জাসদ কার্যালয়ের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার, নিপাত যাক, নিপাত যাক’, ‘আওয়ামী লীগের গুন্ডারা, হুঁশিয়ার—সাবধান’, ‘যুবলীগের গুন্ডারা, হুঁশিয়ার—সাবধান’, ‘রাজপথে নামিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘ভাঙচুর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’।
অভিযানের সময় অনেকেই তাদের স্বজনদের খোঁজে জাসদ কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন। কিশোর বয়সি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আসেন মাঝ বয়সি এক নারী।
নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, তার স্বামী জাসদ করেন। দলীয় সভায় এসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
সাদিকুন নাহার স্নিগ্ধা নামের এক তরুণী নিজেকে এনসিপির গুলশান থানার মুখপাত্র দাবি করে বলেন, “আমার বাবা রুহুল আমিন গাইবান্ধা থাকেন। গতকাল ঢাকায় এসেছেন। আগে জাসদ করতেন, এখন করেন না।
“বাবা বন্ধুদের সাথে দেখা করতে ঢাকায় এসে এই ঝামেলায় পড়েছেন। আমাকে ফোন করে জানালে আমি ছুটে আসি।”
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাসদের আড়ালে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছে—এমন তথ্য পেয়ে আমরা আসি। এখানে বেশ কয়েকজনকে আমরা পেয়েছি।
“এদের প্রত্যেককে আমরা হেফাজতে নিয়েছি, যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাত দফায় প্রিজন ভ্যানসহ গাড়িতে করে কয়েকশ ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও জাসদ কার্যালয়ে পুলিশ হেফাজতে অনেককে দেখা যায়।
তাদের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হারুন বলেন, “আরো দুটি গাড়ি আসতে বলেছি, এরপরে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে।”
