তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা ছাড়া ‘কোনো বিকল্প নেই’: সালাহউদ্দিন
এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের পর সংসদে যখন বিতর্ক হবে তখনো অনেক পরামর্শ, প্রস্তাব আসতে পারে, বলেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ‘কোনো বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তত্ত্বাবধয়ক সরকার ব্যবস্থা আমাদেরকে প্রবর্তন করতে হবেই। এর কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু কি প্রক্রিয়ায় এর গঠন হবে এবং তার কর্মপরিধি কি হবে কয়দিনের ভেতরে গঠন করতে হবে, কোন কোন সার্চ বডি অথবা সিলেকশন কমিটির মধ্য দিয়ে সেটা করলে বিতর্কিত হবে না, এগুলো সবই আমরা পরীক্ষা করব।”
এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের পর সংসদে যখন বিতর্ক হবে তখনো অনেক পরামর্শ, প্রস্তাব আসতে পারে তুলে ধরে তিনি বলেন,
কমিটি প্রতিবেদন তৈরির পর তা সবাই দেখবেন।
এদিন সংবিধান সংশোধন কমিটি জুলাই শহীদ এবং বিগত ১৭ বছরে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা এমপি হয়েছেন, তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
তার ধারাবাহিকতায় জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয়, যা বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জনমত নেওয়া হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি এর আগে রাজনৈতিক দল ও জোট, পেশাজীবীদের প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনের অংশীজন, বিশিষ্ট নাগরিক, আইন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমের সম্পাদক ও শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেছে।
দশম বৈঠকে জুলাই শহীদ ও গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা শুনল সংবিধান সংশোধন কমিটি।
গুমের অপসংস্কৃতি, অপরাজনীতি চিরতরে বন্ধ করার পাশাপাশি পুলিশের হেফাজতে বা কারা হেফাজতে কারও যেন মৃত্যু না হয়, সেই প্রত্যাশা সংবিধানে ধারণ করার বিষয়ে বৈঠকে প্রস্তাব এসেছে বলে জানান সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গুমের অপসংস্কৃতি অপরাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে আমরা চাই। বাংলাদেশে কোনোদিন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে না, গুমের শিকার কেউ হবেন না, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কেউ হবেন না এবং কাস্টডিয়াল ডেথ অর্থাৎ পুলিশের হেফাজতে, কারা হেফাজতে কারো মৃত্যু হবে না।
“সেরকম একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশায় আমাদের সন্তানরা, ছাত্রগণ অভ্যথান সৃষ্টি করেছে। এদেশের জনগণ, আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে। আমরা অবশ্যই তাদের আবেদন যথাযথভাবে প্রতিপালন করব। যেটা সংবিধানে ধারণ করা দরকার সেটা সংবিধানে, আর যেগুলো আইন বিধিবিধান করে করা যায় সেগুলো সেভাবে।”
সরকারের এ অবস্থানের বিপরীতে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের বিষয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে আমি গতকালকে আমার বক্তব্য দিয়েছি, এটা মিডিয়াতে এসেছে। আপনাদের কাছে আমি একটা প্রশ্ন করি। আমাদের এ সরকারের এখন আট মাস পার হয়ে গেল। কোন কি ক্রসফায়ার হয়েছে? বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে? একটিও? কোন কাস্টডিয়াল ডেথ হয়েছে, হেফাজতে? একটিও? কোনো কি গুমের শিকার হয়েছে কেউ? একটিও? একটিও না।”
গুমের একটি অভিযোগ ওঠার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার তদন্ত করেছে এবং অনেক মানবাধিকার সংস্থাকে স্বাধীন তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সে বিষয়ে ফাইন্ডিংস দিতে পারে, সেখানে কোনো সরকারের কোনো অন্তর্ভুক্তি আছে কিনা? এটা আমরা ওপেনলি বলেছি, আমরাও তদন্ত পরিচালনা করেছি। এটা নিয়ে অনেক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন উত্থাপন করলে তাদেরকেও আহ্বান জানিয়েছি, আপনারাও তদন্ত পরিচালনা করতে পারেন।”
তিনি বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তবে সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।”
বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও তাহসিনা রুশদীর লুনা উপস্থিত ছিলেন।
