তেলের দামে জনগণের কষ্ট হবে মানছেন, তবু ‘কাইন্ডনেস’ চাইছেন তথ্য উপদেষ্টা
তেলের দামের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা শোনালেন যুক্তরাষ্ট্রের কথা; বললেন, ট্রাম্পের সামনে যেমন মিডটার্মের ঝুঁকি আছে, বিএনপির সামনেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আছে।
তেলের দাম বাড়ানোর পর বিষয়টি জনগণকে ‘সহানুভূতি ও সহমর্মিতা’র দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষের কথা স্বীকার করে তিনি সরকারের কঠিন এ সিদ্ধান্তের পেছনে ‘অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কাঠামোগত বাস্তবতার’ কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন উপদেষ্টা।
রোববার রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।
তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার অজনপ্রিয় হচ্ছে কী না–এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা এটুকু কাইন্ডনেস জনগণের কাছে চাইব। জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি—এটা কোথায় হচ্ছে না?”
যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে বলেন, “রীতিমত আমেরিকাতে ডনাল্ড ট্রাম্পের কথা যেটা বলছি, প্রেসিডেন্ট বারবার চাইছেন তেলের দামটা যাতে ঠিক রাখা যায়, কারণ তার মিডটার্ম ইলেকশনে পরাজিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। ধরুন আমাদের মিডটার্ম ইলেকশন নেই, কিন্তু আমাদের তো একটা লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন আছে।
“মানে এই সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার তো কোনো কারণ নেই, কারণ এই সরকার হাসিনার মতো লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনও প্যাকেজ ধরে ওর কাছ থেকে এত টাকা নিলাম, ওকে জিতিয়ে দিলাম—এটা করবে না, এটা নির্বাচন হবে।”
সরকারকে যে নানা খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “এখন ওখানে ভর্তুকি, তেলে ভর্তুকি—সব যদি এটাই করি, এই সরকারের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সরকার মনে করে ওয়েলফেয়ার খাতে ব্যয়, সেটা সোশ্যাল সেইফটির কথা আমরা বললাম, একই সাথে ওয়েলফেয়ারের শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যয় করতে চায়।
“তো সব যদি একসাথে করার চেষ্টা করা হয় আসলে কঠিন হয়ে যায়। সো সরকারকে কিছু ব্যালেন্স করতে হয়েছে। জনগণের কষ্ট হবে। আমরা যদি বলি কষ্ট হবে না, এটা ঠিক না।”
তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সরকারের অজনপ্রিয়তার ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটা ঝুঁকি আছে, ঝুঁকি নেই তাও বলছি না, কিন্তু আবারও বলছি জনগণের একটু কাইন্ড হওয়া দরকার। কারণ কত ভর্তুকি সরকারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব?”
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
