Published : 29 Sep 2025, 01:32 PM
দ্বন্দ্ব ও বিভক্তির কারণে জাতীয় পার্টিতে নেতৃত্বের এবং অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির রওশন এরশাদপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশিদ।
সংকট ও ভাঙন থেকে বের হতে দলের সব পক্ষকে এক টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় পার্টির আরেক অংশের মহাসচিব ও দুই সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন কাজী মামুন।
তিনি বলেন, “খণ্ড খণ্ড হয়ে পল্লীবন্ধু এরশাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যাবে না। বারবার বিভক্তির মাধ্যমে সংগঠনের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। স্বৈরাচারী মনোভাব, ব্যক্তিস্বার্থ ও একগুয়েমির কারণে দল বারবার বিভক্ত হচ্ছে।
“দলের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে আজ। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করতে হবে আমাদের। সকল পক্ষকে এক টেবিলে বসে জাতীয় পার্টিকে নতুন করে সংগঠিত করতে হবে। আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ইতিহাস ভুলে গিয়েছি।”
বিবৃতিতে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির উপর আস্থা রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মামুন।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের একাংশের বিদ্রোহের মধ্যে নতুন মহাসচিব বেছে নেওয়ার পর সোমবার জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং দুই কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও (মহাসচিব) মজিবুর রহমান চুন্নুকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন জিএম কাদের।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয় জাতীয় পার্টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। পরদিন মঙ্গলবার অব্যাহতিপ্রাপ্তরা সংবাদ সম্মেলনে এসে জিএম কাদেরের সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম বলেন, “২৮ তারিখের কোরামবিহীন প্রেসিডিয়াম বৈঠকটি গঠনতন্ত্র মোতাবেক ডাকা হয়নি। সেই প্রেসিডিয়ামের মিটিংয়ের দোহাই দিয়ে যে সিদ্ধান্ত উনি (জিএম কাদের) নিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রূপে বেআইনি এবং অবৈধ।
“সুতরাং আমরা সকলে পার্টিতে স্বপদে বহাল আছি এবং পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুই আছেন।”
তারা জাতীয় পার্টিতে ‘স্বপদেই বহাল’ আছেন এবং দল ছাড়বেন না বলেও দাবি করে অব্যাহতি পাওয়া এ কো-চেয়ারম্যান বলেন, কাউন্সিল থেকেই সব সিদ্ধান্ত আসতে হবে।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে রওশন এরশাদ অংশের মহাসচিব কাজী মামুন বিবৃতিতে বলেন, “আমরা ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছি। কিন্তু দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করার জন্য যে ব্যক্তির অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত, তিনি তা করছেন না, বরং তার কার্যকলাপ দেখে মনে হয় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় ব্যস্ত তিনি। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুবা দল ধ্বংসের জন্য দায়ীদের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কখনও ক্ষমা করবে না।”
মামুন বলেন, “দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সারা দেশের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। খণ্ডিত জাপা কখনও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না, তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টির কোনো বিকল্প নেই।”
নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মত ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে, ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফা ভাঙন হয়।
কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মত ভাঙে জাতীয় পার্টি।
এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন-