আওয়ামী লীগ থেকে আমাদের ‘শিক্ষা’, সংবাদমাধ্যমকে মুক্ত করে দাও: তথ্যমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের মধ্যে নতুন সূচনার কোনো ইংগিত দেখতে পাচ্ছেন না তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ ইউনূস সাহেবকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত, ওই ট্রমা থেকে তারা বের হতে পারে নাই।”
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, তাদের সরকার সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেবে, পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং মানহানিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতেও নজর রাখবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা এটা যে, সংবাদমাধ্যমকে ‘মুক্ত’ করে দাও; সংবাদমাধ্যম তার কাজ করুক।
“বাট এগেইন, সংবাদমাধ্যম যাতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করে, কোনো ডেফামেশন বা মানহানিকর কাজ না করে, সেদিকেও সরকার হিসেবে আমরা খেয়াল রাখব।”
গত ২১ অগাস্ট তারেক রহমানের সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম কোনো সাক্ষাৎকার দিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
সেখানে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পরিবর্তন, নতুন টেলিভিশনের অনুমোদন, এফডিসির পরিস্থিতি, শিল্পীদের ভূমিকা ও চলচ্চিত্র নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
পাশাপাশি দেশের রাজনীতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী।
তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের নতুন করে শুরু করার কোনো ইংগিত তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।
“আওয়ামী লীগ ইউনূস সাহেবকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত, ওই ট্রমা থেকে তারা বের হতে পারে নাই।”
আন্দালিভ রহমান মনে করেন, ভারতের উচিত হবে এই আস্থার জায়গা তৈরি করা যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু হতে দেওয়া হবে না। এখানে ভারতের দায়িত্ব ‘অনেক বেশি’।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বলেছেন, প্রত্যেকেই তার স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করবেন। অতীতের সরকারগুলোও এরকম প্রতিশ্রুতি দিত। প্রতিশ্রুতিগুলো এবারও কি প্রতিশ্রুতি হয়েই থাকবে?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আপনার প্রশ্নের মধ্যেই কিন্তু আপনার জবাব আছে। যেমন অতীতের সরকার থেকে কিন্তু আমরা একটা জিনিস শিক্ষা পেয়েছি– সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে বা কোনো রকম প্রেশার ক্রিয়েট করে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
আপনি যতই চেষ্টা করেন, ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন কোনো ওয়ে নাই যেভাবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে বন্ধ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করার চেষ্টা করে নাই। এর মধ্যে থেকেও বাংলাদেশের মানুষ যতটুক জেনেছে এই স্বৈরাচার সম্পর্কে, সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছে। কিন্তু এতে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
সুতরাং আমরা মনে করি এবং আমাদের এই সরকার মনে করে যে, আমরা ওই পলিসিতে যেয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করা বা সংবাদমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেওয়া–এগুলো করে আসলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব না। সেখান থেকেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা এটা যে সংবাদমাধ্যমকে মুক্ত করে দাও, সংবাদমাধ্যম তার কাজ করুক।
বাট এগেইন, সংবাদমাধ্যম যাতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করে, কোনো ডেফামেশন বা মানহানিকর কাজ না করে, সেদিকেও সরকার হিসেবে আমরা খেয়াল রাখব। এবং সংবাদমাধ্যমের সাথে আমরা ওই সম্পর্ক রাখব, যাতে করে–আমি তো বারবারই বলি যে গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ, আজকের যে সরকার বা আজকের যে বাংলাদেশ, সেটাতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনেক অনেক বেশি। কারণ এই ভূমিকার কারণেই আজকে আমরা এখানে আসছি।
তো এই কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও আমার কথা হয়েছে। আই ওয়ান্ট টু আপলিফট ফ্রিডম অব মিডিয়া।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কিন্তু অনেক সাংবাদিক তো এখনো কারাগারে আটক আছেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: এটা আপনি গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন করেছেন যে, ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাসিজমের জন্য আপনি চিন্তা-চেতনায় যদি আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করেন বা না করেন, আমি সামাজিকভাবে আপনাকে বয়কট করতে পারি বা আমি আপনাকে অপছন্দ করতে পারি যে, আপনি সেই ঘরানার বা সেই গণহত্যা বা যেভাবে মানুষ মারা হয়েছে ১২০০-১৪০০ বা ১৭ বছরের যে অ্যাট্রোসিটি, সেই জিনিসগুলিকে আপনি সাপোর্ট করছেন।
সেখানে আসলে জেলে রাখাটা আমার ধারণা যে ঠিক না। তবে এটা বাস্তব যে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যম, কিছু কিছু সাংবাদিক কিন্তু সাংবাদিকতার লাইনটা ক্রস করে ওই প্রক্রিয়ার মধ্যেও ঢুকে গিয়েছিল; যেখানে তারা যাকে বলে এইডিং, এবেটিং, কাউন্সেলিং, প্রকিউরিং–তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া, যেখানে বসে বাংলাদেশকে কীভাবে ধ্বংস করা যায় সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেও তারা ছিল, যেটাও আমরা জানি।
সুতরাং সব সাংবাদিককে ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগকে পছন্দ করা বা আওয়ামী ঘরানার একজন সাংবাদিকের পজিশন আর আওয়ামী লীগের যে অ্যাট্রোসিটি, যে অত্যাচার, যে অবিচার—তার পার্ট হওয়া, দুজন কিন্তু এক না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি বলছেন যে যারা আটক আছে তারা সবাই?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আমি ঢালাওভাবে বলছি না। আমি বলছি কিছু কিছু মানুষ আছে, যাদের নাম আমি নেব না, তারা আওয়ামী লীগে ওবায়দুল কাদেরের চেয়েও বড় নেতা ছিলেন। এবং আমরা দেখেছি যে সেখানে তারা বসে ১ তারিখ (২০২৪ সালের ১ অগাস্ট), ২ তারিখ, ৩ তারিখ তারা কীভাবে… এত মানুষ মারা হচ্ছে, সে ব্যাপারে কথা না বলে আরো কীভাবে শক্তিশালী হওয়া যায়, শক্ত করা যায়…।
আমি বলছি না দোষী কেউ, তবে আমি বলছি যে প্রত্যেকটা সাংবাদিককে আপনি একইভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন না। অনেক সাংবাদিক এখনো আছেন, অনেক জায়গাতেই আছেন যারা আওয়ামী ঘরানার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনারা যখন বিরোধী দলে ছিলেন, আপনারাও সমালোচনা করতেন যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, যেমন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইবুনালে মামলা হয়েছে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আমি তো আপনাকে 'না' বলছি না, আমি আপনার সাথে একমত জিনিসটাতে। বাট ওই ভয়টা আজকে সাংবাদিকদের নেই, যেই ভয়টা আওয়ামী লীগ আমলে ছিল।
আগে যেমন আপনারা একটা স্ট্যাটাস লিখে ১০ বার সেটাকে ডিলিট করতেন, আজকে আমি একটা জায়গায় লেখা দেখলাম, একটা অনলাইন সাংবাদিকের, ‘সরকারের হাতে নিষিদ্ধ ফোন’–তো লিখে দিল আর কি যে যার মত। ফোন তো আর কোনোদিন নিষিদ্ধ হয় না, যে যার মত পারেই। বাট আমরাও চেষ্টা করি এটাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে কীভাবে করা যায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সম্পাদকদের মধ্যে উদ্বেগ আছে। আইনে ‘মানহানি’, ‘অপমান’, ‘রাষ্ট্রকে অপমান’—এই জিনিসগুলো আসলে আইনিভাবে কীভাবে নির্ধারণ হবে?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আজকে সংবাদ মাধ্যমের যে ভয়ের জায়গা, এটা তো আসলে প্র্যাক্টিক্যাল; বিকজ ১৭ বছর যাবত যে আইনই করা হয়েছে, সেই আইনটি করা হয়েছে ওনাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য।
কিন্তু আমি যেটা প্রথমেই বলছি যে আমাদের গুড ইনটেনশনটা আপনাদের দেখতে হবে। আপনি, আমি—আমরা সবাই স্বীকার করি, গত দুই বছর-তিন বছরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, যে গালি দেওয়া হয়, শুধু আমাদেরকে না, যে কেউ যে কাউকে গালি দিতে পারে এবং তার কিছুই হবে না।
এই যে একটা প্রবণতা, এই যে একটা করাপশন অব পাবলিক মোরাল, এই যে সামাজিক নীতি বা আমাদের যে কালচার বা সংস্কৃতি, এটা যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং যে কেউ যে কাউকে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারে—এটার কোনো না কোনো জায়গায় অ্যাকাউন্টেবল থাকা উচিত।
সেকেন্ড কথা, ওই আইনটা অ্যাবিউজড হবে কি হবে না; অ্যাবিউজ হলে আপনারা দেখবেন, আপনারা কথা বলবেন। ইউ নো, আমাদেরও ওই ফল হবে যা আগে যারা অ্যাবিউজ করেছে তাদের হয়েছে। কিন্তু অ্যাবিউজ হবে—এইটা মাথায় রেখে আপনি আইন করতে পারবেন না, সেটা তো আর হয় না ।
সংবাদ মাধ্যমের সম্মানিত সদস্যরা যারা আমার সাথে কথা বলেছেন, আমি বলেছিলাম যে দেখুন, যার ইচ্ছা থাকে অ্যাবিউজ করার, মানে সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার বা তাদের উপরে কোনো ধরনের প্রেশার দেওয়ার, সেটা করার অনেক আইন আছে, নতুন আইন বানানোর কোনো দরকার নাই।
বাট আমরা জেনুইনলি ফিল করি যে বাংলাদেশে ডেফামেশন—যেমন, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি আমাকে গত ৪০-৫০ বছরে একটা সংবাদপত্রের নাম বলতে পারবেন যে মিথ্যা নিউজ দেওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা ফাইন দিয়েছে বা ৫ লক্ষ টাকা ফাইন দিয়েছে ডেফামেশন বা মানহানি মামলায়?
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: এক্ষেত্রে তো প্রেস কাউন্সিলের প্রশ্নটা আসে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: হ্যাঁ, আসে; কিন্তু আপনি কি শুনেছেন যে প্রেস কাউন্সিলে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া বা অন্য কোনো ধরনের জরিমানা বা কোনো কিছু হয়েছে? হয় নাই। তাহলে আপনি কি দাবি করবেন যে ৫০ বছরে কোনো রাজনীতিবিদ, কোনো ব্যবসায়ী, কোনো ভদ্রলোক বা কোনো মানুষের নামে মিথ্যা নিউজ হয় নাই, ডেফামেটরি মামলা হয় নাই, ডেফামেটরি কোনো নিউজ কাস্ট হয় নাই? হয়েছে তো।
আমরা বলতে চাচ্ছি যে এই যে গালিগালাজ, দুবাইতে বলুন বা অনেক দেশে অ্যান্টি-সোয়ারিং ল আছে। তবে এই প্রশ্নটা ঠিক যে এটার যাতে অ্যাবিউজ না হয় সে ব্যাপারে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আবার যদি কোনো কারণে আমাদের অধীন যারা, বা সরকার এই আইনকে অ্যাবিউজ করার চেষ্টা করে, আমি তো বললাম সেটার রেজাল্ট তো হবেই, আপনারা সেটা নিয়ে কথা বলবেন, সবাই জেনে যাবে যে এই আইন কেন বানানো হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বিটিভিতে পরিবর্তনের একটা চিন্তা হচ্ছে; বিটিভির লোগো বদলানোর আলোচনা আছে। আর কী গুণগত পরিবর্তনের দিকে যাবে বিটিভি?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আমি চেষ্টা করছি বিটিভি যেন অপজিশনকে কভার করে। বিটিভি যেন শুধুই সরকারের মুখপাত্র না থাকে। সো বিটিভির অনুষ্ঠানগুলোর স্ট্যান্ডার্ড আরো হাই করার জন্য এবং বিরোধী দলকে কভার করার জন্য এবং একটা সামাজিক একতা তৈরি করার জন্য বিটিভির দায়িত্ব তো অনেক। সেই জায়গাগুলোতে আমরা চেষ্টা করছি।
এতদিনের একটা প্রতিষ্ঠান, ১৭-২০ বছর একটা ধাঁচে চলেছে, এটাকে রাতারাতি চেইঞ্জ করা মুশকিল। বাট উই আর ট্রাইং। আমার বিশ্বাস, একটা সময় এটা ভালোই করবে, ইনশাআল্লাহ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশনের সংখ্যা ৫০টি, সম্প্রচারে আছে ৩৬টি টেলিভিশন। নতুন কোনো লাইসেন্সের আবেদন পেয়েছেন?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: না, এখনো মেসেজ বা ফাইল আমার কাছে আসে নাই। হয়ত নিচের লেভেলে অ্যাপ্লাই করেছে, অনেকেই ইন্টারেস্টেড। যারা ভালো কাজ করতে পারবে, তাদের বিষয় সরকার দেখবে; যা রিকোয়ারমেন্ট বা ক্রাইটেরিয়া আছে, ওগুলো যাচাই করে দেখবে। হ্যাঁ, আমাদের কোনো সমস্যা নাই, মিডিয়া ওপেন, মিডিয়া যত আসবে তত ভালো।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: সাংবাদিকদের সবশেষ ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হয়েছে ১৪ বছর আগে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে। কিন্তু অনলাইন গণমাধ্যমের কোনো নীতিমালা নেই, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে না, টেলিভিশনের বেতন কাঠামো–এসব নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: এটা ইম্পর্টেন্ট একটা ব্যাপার। এটা নিয়ে অনেকের সাথে আমরা বসেছি, কথা বলছি। এক মাস হয়েছে আমি এসেছি, কথা বলছি। সাংবাদিকদের যে রাইটগুলি, অনেক সাংবাদিকের অবস্থা—সত্যি কথা বলতে ফিনান্সিয়াল অবস্থা থেকে আরম্ভ করে অনেক কিছুই আমরা জানি। আমরা এই জিনিসটাকে নিজেরা–আমি, আমার মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং আমাদের উপদেষ্টা, আমরা সবাই বসে বারবার এটা নিয়ে কথা বলছি যে এই জিনিসটাকে আমাদের আসলে একটা বাস্তবে রূপ দিতে হবে, তাদের রাইটটা প্রটেক্ট করা আমাদের জন্য খুবই দরকার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: প্রেস কাউন্সিলের কথা সামনে আসে। তথ্য কমিশন অচল পড়ে আছে। এগুলো কি আপনার চিন্তার মধ্যে আছে?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আচ্ছা, আমরা কাজ করছি। তথ্য কমিশনে তো বাছাই কমিটিতে, আমি নিজেই ছিলাম, আমি মন্ত্রী হওয়ার পরে ওটা ছেড়ে দিতে হয়েছে। আরেকজন আসছে, খুব শীঘ্রই ওটার কমিটি হয়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি প্রত্যেকটা অর্গানকেই কাজে লাগানোর ।
গত ১৭ বছরে তথ্য কমিশনের কাজটাই ছিল একটা ব্যক্তি বা একটা রাজনৈতিক দলকে প্রমোট করা; এটা কোনো কর্পোরেট স্ট্রাকচারে চলে নাই। আপনি বিটিভি থেকে আরম্ভ করে যাই দেখুন, আপনি অবাক হবেন, বিটিভিতে অপজিশন বিট কভার করার মত সাংবাদিকই ছিল না। এটা এদের কাজের মধ্যেই ছিল না।
এখন আমরা চেষ্টা করছি। আপনি দেখবেন বিটিভির নিউজে আমরা অপজিশনের নিউজ কভার করছি, সামনে আমরা আরো করব। বিটিভিকে সম্পূর্ণরূপে রাখা হয়েছিল সরকারের কথা বলার জন্য—মানুষ শুনুক কি না শুনুক।
এর আগের যে সরকার ছিল, দে ফেইলড টু রিয়ালাইজ দ্য ফ্যাক্ট দ্যাট; কথা বললে লাভ হবে না, যদি কন্টেন্ট মানুষ গ্রহণ না করে; টেলিভিশন চলে কন্টেন্টে। সো, আপনি আপনার কথা বলতে পারেন, কিন্তু জনগণ তো শোনে না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: সারাদেশে দুই দশকে শত শত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। এফডিসি চলছে ধুঁকে ধুঁকে। নতুন কমপ্লেক্সের প্রকল্প চার বছরের জায়গায় সাত বছর পার হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আপনি অনেক বড় একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছেন। এফডিসির অধঃপতনটা কিন্তু একদিনে হয় নাই। এবং এফডিসি যেহেতু কন্টেন্ট এবং কোয়ালিটি রিলেটেড জিনিস, ভালো সিনেমা হলে কিন্তু মানুষ দেখবে। আর ভালো সিনেমা যখন আসবে না, তখন হল বন্ধ হয়ে যাবে–এটা খুবই স্বাভাবিক।
আমার মনে হয় আমাদের এফডিসির ইমপ্রুভমেন্ট, ইনফ্রাস্ট্রাকচার–এগুলোর চেয়েও বড় কথা ভালো শিল্পী আনার ব্যবস্থাটা করতে হবে। এবং লং টার্ম প্ল্যান নিয়ে আমরা কথা বলছি যে হয়ত সিস্টেম যখন ভালো থাকবে, তখন আপনি ভালো সিনেমা বানাবেন।
অথবা আমাদের এখানে হয়তো ইন্ডিভিজুয়াল ট্যালেন্ট যারা, তারা হয়ত দুই-একটা ভালো সিনেমা বানাচ্ছে, আমি-আপনি হয়তো ফ্যামিলি নিয়ে দেখতে যাচ্ছি, বাট ওইটা সিস্টেম ডেভেলপ করে না; উনি যখন বানানো বন্ধ করে দেবেন, তখন আর এই সিনেমা আসবে না।
আরেকটা কথা এখানে বলতে হয়, গত সরকার শিল্পীদেরকে এমনভাবে কালার করে দিয়েছে, অনেকে ওই ট্র্যাপে কালারড হয়ে গিয়েছে, বা অনেকে হয়তো একসময় গণভবনে গেছেন বা কথা বলেছেন। এরকম করে বিরাট একটা গ্রুপ, যারা আতঙ্কিত, ভীত-সন্ত্রস্ত, এদের মধ্যে অনেক ভালো শিল্পীও আছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: পৃথিবীর নানা দেশে তো সরকারি দল বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শিল্পীদের দেখা যায়।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: ‘না’, যখন আপনি ওই লাইনটা ক্রস করে যান… কিছু কিছু শিল্পী আছেন তারা ওই লাইনটা ক্রস করে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে গিয়েছেন। যারা আওয়ামী লীগে সরাসরি জয়েন করেছেন বা আওয়ামী লীগের ক্যাম্পেইনে গিয়েছেন, এত বড় একটা পতন, এত বড় একটা সামাজিক পতন হওয়ার পরে উনাদেরকেও ফেইস করা প্রবলেম হচ্ছে বাংলাদেশে। বা উনাদের প্রফেশনাল অপোনেন্ট যারা আছেন, তারাও হয়ত ওই জিনিসটাকে পুঁজি করছেন।
কিছু কিছু তো আছেই যারা ওইভাবে ঢুকে গেছে, আওয়ামী লীগের এমপি ইলেকশন করেছেন বা লীগের ক্যাম্পেইন করেছেন, সেগুলি বাদ দিলাম; কিন্তু সবার মনেই কেমন জানি একটা ভয়। এ কারণে অনেক শর্টেজও হয়ে গেছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: এখন কি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আর্টিস্টরা ওভাবে মিশছে না?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আপনি কোথায় দেখছেন ওরকম? এই এক মাসের মধ্যে ওরকম নতুন আর্টিস্ট বা ইয়ং আর্টিস্ট বা আমরাই বা কতখানি প্রমোট করেছি?
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি তো সবে দায়িত্ব নিলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: না, কিন্তু আপনি গত ছয় মাসেই কতখানি দেখেছেন? যে যেভাবে একদম গণভবনে চলে যাওয়া আর্টিস্টদের, সেখানে যেয়ে গান গাওয়া, বসা, একটা হোমলি অ্যাটমোস্ফিয়ার—এভাবে আর্টিস্টদেরকে কালার করা হয়েছে। শুধু আর্টিস্ট না, অনেককেই কালার করা হয়েছে বাংলাদেশে, যত সেলিব্রিটি ছিল সবাইকে নষ্ট করার জন্য কালার করা হয়েছে। আনফরচুনেটলি উনারা বুঝতে পারে নাই।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি মনে করেন এটা রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: অবশ্যই পরিকল্পিতভাবে। যখন সরকারের পপুলারিটি কমে যায়, এটা ইন্ডিয়াতেও হয়েছে। একটা সময় ইন্ডিয়াতে অমিতাভ বচ্চন, রাজ বাব্বর এরকম অনেককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যখন সরকারের পপুলারিটি কমে যায়, তখন ইন্ডিভিজুয়াল পপুলার লোকদেরকে নিয়ে যেয়ে তার পপুলারিটিকে ব্যবহার করা হয়, তার রাজনৈতিক শিক্ষা-দীক্ষা থাকুক আর না থাকুক।
আর এই ট্র্যাপে ধরা পড়ে তারা তাদের সর্বস্ব হারায়। প্লেয়ার থেকে আরম্ভ করে নাটকের লোক, সিনেমার লোক…।
আপনি নাটকের মানুষ, আপনি হঠাৎ করে এমপি হবেন–আপনাকে ওই স্বপ্ন দেখানো, ‘আপনি মন্ত্রী হবেন’–আপনাকে স্বপ্ন দেখানো। তার মানে কি, একচুয়ালি ইউজিং ইউর পপুলারিটি বিকজ আই লস্ট মাই পপুলারিটি ।
আমি মনে করলাম এই লোকটাকে নিয়ে গেলে আমি গেইন করব। ওই ট্র্যাপে অর্ধেক মানুষ ধরা পড়েছে। এজন্য আমি উনাদেরকে কোনো বেনিফিট দিচ্ছি না যে উনারা খুব ভালো। বাট আমি বলছি যে এটা একটা বড় প্ল্যানের অংশ এবং তাই করা হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি সম্প্রতি বলেছেন, সরকার চায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোনো বাধা যেন না থাকে, কিন্তু সারাদেশে অনেকগুলো জায়গায় বাধা দেওয়ার খবর আসছে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: কে বাধা দিচ্ছে? সরকার?
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাধাদানকারীরা নানান পক্ষের, দলের।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আমি বলছি, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মতভেদের মানুষ আছেন। কথার কথা বলি, আপনি কট্টরপন্থি কোনো একটা জায়গায় গিয়ে যদি নামাজের সময় কিছু করেন, অনেকে অনেকভাবে রিয়্যাক্ট করে। মাঝে মাঝে ওইসব জায়গায় পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য দেখা যেতে পারে ওই জিনিসটাকে অ্যাভয়েড করা হয়। কিন্তু আতিফ আসলামের কনসার্ট কি হচ্ছে না ঢাকা সিটিতে? বড় বড় শিল্পীরা ঢাকা সিটিতে আসছে না? বড় বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে না?
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: তা হচ্ছে কিন্তু বাধার ঘটনা ঘটছে। সরকার কি দায় এড়াবে?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আমি তো সেটাই বললাম যে, এটা সরকার না, সরকার করছে না। এটা যদিও আমাদের দায়িত্ব, এই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে, বাট আমরা ‘দায়ী’ না। মানে একটা গোষ্ঠী যখন এই জিনিসটার বিরুদ্ধে যায় পার্টিকুলারলি, তখন আমাদের দায়িত্বটা প্রোটেকশন দেওয়া।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: এক্ষেত্রে আগের সরকারের কোনো অবদান আছে বলে আপনি মনে করেন?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: না, এগুলো হল কালচার। এখানে সরকার—বাংলাদেশ এমন একটা মাল্টিকালচারাল সোসাইটির মধ্যে আমরা থাকি, ইভেন সামাজিক অবস্থান বা রিলিজিয়াস অবস্থান, এর মধ্যে অনেক অনেক ভাগ আছে, আমরা প্রচণ্ড জাজমেন্টাল।
বিভিন্ন জায়গা আছে, সেখানে আপনি যদি একটু জোরে মাইক বাজান বা গান বাজান, ওখানকার মানুষ একটু ডিফারেন্টভাবে রিয়্যাক্ট করে, যেটা হয়ত ঢাকা সিটিতে করবে না। সো একটা কনসার্ট যেটা ঢাকাতে হয়, সেটা গ্রামে যখন হয়, সেখানে ওই পার্টিকুলার জায়গাটাতে ঝামেলা হয়।
বাট ওইটার দায়িত্ব আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, বিকজ বাংলাদেশ ইজ আ ফ্রি কান্ট্রি, এবং সবাই কালচার প্র্যাকটিস করতে পারবে, সেখানে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমি তো বললাম, দায়ী আমরা না হলেও দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে, যাতে যে কেউ বাংলাদেশে তার সংস্কৃতি প্র্যাকটিস করতে পারে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি আপনার তরফে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: আপনার লোকালিটিতে যদি কোনো গান-বাজনা বা বাউলদের অনুষ্ঠানে ঝামেলা হয়, সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন, এটা আপনার ‘রাইট’। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এখানে সরাসরি কাজ নাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন। তবে আমাদের কানে এলে বা নলেজে এলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বাট ওই মুহূর্তের দায়িত্বটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বা এখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: এবার রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাই, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী, আপনি কী মনে করেন?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: দেখুন, রাজনৈতিক পার্টির ভবিষ্যৎ আসলে এভাবে হিসাব করে বলা যায় না। আওয়ামী লীগ তো একটা রাজনৈতিক দল, যদিও সে তার চরিত্র শেষের দিকে হারিয়ে ফেলেছে। যে অন্যায়-অত্যাচার ১৫ বছর করেছে এবং শেষে জুলাইতে যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, রাজনৈতিক চরিত্রই উনাদের এখন আর নেই।
তো এটাকে আবার রাজনীতিতে ফেরত আনা এবং জুলাইকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার ইচ্ছা পোষণ করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন—প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি তরুণ, যাদের বয়স ২৫-৩০ এর নিচে, এরা সবাই জুলাইটাকে উইটনেস করেছে।
১৭ বছর আওয়ামী লীগ যখন ছিল, অনেক তরুণ বাকশাল কি জানত না, ওই ন্যারেটিভ আমরা ক্রিয়েট করতে পারি নাই বা আমাদের সুযোগ ছিল না। বা ৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত যে অত্যাচার, যে দুর্ভিক্ষ, মানুষ জানতো না। আওয়ামী লীগ সবসময় খুনটাকে রাজনীতির একটা পন্থা ধরে নেয় সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া হিসেবে।
এখন ৫ কোটির বেশি তরুণ উইটনেস করেছে আওয়ামী লীগের অ্যাট্রোসিটি। আওয়ামী লীগের মত এত বড় একটা ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল তার চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ এতই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে এত বছর পর নেত্রী আসছে প্রেস কনফারেন্স করছে, সেখানে বসানো হল সাকিব আল হাসান আর নওফেলকে। পারসোনাল ইমেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে, বিকজ সবাই তার অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসাও কঠিন, কারণ আমি আমার চোখে কোনো তাজউদ্দীন আহমদ তো দেখি না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কিন্তু দলটিতে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ অনেক নেতা রয়েছেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: অভিজ্ঞ আর গ্রহণযোগ্য এক জিনিস না। আপনি ৫০ বছর রাজনীতি করতে পারেন, কিন্তু আপনার রাজনীতি জনগণের কথা বলে কিনা, জনগণ আপনাকে গ্রহণ করে কিনা সেটা ইম্পর্টেন্ট।
ক্ষমতায় বসে রাজনীতি করা আর মাইনাস থেকে উঠে আসা প্রচণ্ড কঠিন ব্যাপার। আওয়ামী লীগ যে ব্যান হয়েছে, আওয়ামী লীগ তো একটা রিট পিটিশনও করে নাই ফেরত আসার জন্য।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ আছে, আদালতেই কি ফয়সালা হবে?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: না, পলিটিক্যালি হবে, কোর্টের মাধ্যমেও হবে। আদৌ আওয়ামী লীগ এই দেশে রাজনীতি করতে পারবে কিনা, এটা বাংলাদেশের জনগণ ঠিক করবে । আওয়ামী লীগের তরফ থেকে তো পজিটিভ কিছু দেখছি না যে তারা অনুশোচনা প্রকাশ করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে চায়। নীলফামারীতে কোনো রিকশাওয়ালা বলল যে ‘শেখ হাসিনার আমল ভালো ছিল’, বা টুঙ্গিপাড়ায় কেউ বলল—ওটা দেখে যদি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খুশি হয়ে যায়, এটা ওভাবে কাজ করে না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: দলটির তো অসংখ্য সমর্থক, নেতাকর্মী রয়েছে। একসময় আপনাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ বলত, ‘আপনাদের সমর্থন নাই’।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: না না, জুলাইয়ের এক মাসে আওয়ামী লীগের অবস্থান কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট থিং। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আপামর জনসাধারণ নেমে গিয়েছিল। পলিটিক্স স্ট্যাটিস্টিকসে চলে না। জুলাইতে আওয়ামী লীগের সামাজিক পতন হয়েছে, এখানকার মসজিদের ইমাম পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে । এরশাদ সাহেবের পতন রাজনৈতিক ছিল, এরশাদ সাহেব ৩ মাস পর নির্বাচন করে ৩৫টা সিট পেয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের যেরকম পতন হয়েছে, এটা বাংলাদেশে কখনো দেখা যায় নাই; এখান থেকে বের হওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। এখন পর্যন্ত কোনো পলিটিক্যাল স্টার্ট আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে দেখতে পাচ্ছি না। আওয়ামী লীগ ইউনূস সাহেবকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত, ওই ট্রমা থেকে তারা বের হতে পারে নাই। অহংকার, আত্মবিশ্বাস থেকে এভাবে পালিয়ে যাওয়া–এই ট্রমা তো সরবে না। আর সাড়ে চার-পাঁচ কোটির জেনারেশন যা দেখেছে, সেই ন্যারেটিভ আপনি সরাতে পারবেন না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা আলোচনা আছে, ‘মন্ত্রীরা সফল হতে পারেন না আমলাদের কারণে’। আপনি কী অনুভব করছেন তেমন কিছু?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: পলিটিশিয়ানের কাজ হল ‘টু মিটিগেট দ্য হার্শনেস’ এবং সবার সাথে ‘ব্লেন্ড’ করা। আমি যদি আমার আমলার সাথে মিশতে না পারি, সেটা আমার ব্যর্থতা। আমি এক মাস কাজ করছি, আমার সেক্রেটারি বা ডেপুটি সেক্রেটারি যারা আছেন, তারা প্রচণ্ড হেল্পফুল এবং আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। আমি কোনো প্রবলেম দেখছি না।
পলিটিশিয়ান হিসেবে আমার দায়িত্ব সব পরিস্থিতিতে সামঞ্জস্য বা ব্যালেন্স করে কাজ বের করে নিয়ে আসা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: শেষ প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে ফিরে এলেন। ভারত সফর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কি?
আন্দালিভ রহমান পার্থ: ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। গত ১৫-১৭ বছরে ভারতের ভূমিকা কী ছিল আমরা জানি। ভারতকে বাংলাদেশের মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে রিকভার করতে হবে। ভারত সাংঘাতিকভাবে একটা রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক রেখেছিল এবং ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে উঠে গেছে। এই রিকভার করার দায়িত্ব ভারতের।
কূটনৈতিকভাবে আমি বলব, ভারতের উচিত হবে আমাদেরকে কনফিডেন্স দেওয়া যে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু হতে দেওয়া হবে না। আর আগামীতে যে চুক্তিই হোক, তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে হবে।
বাংলাদেশের মাটি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না, ভারতের মাটিও হবে না। ভারতের রিয়ালাইজ করতে হবে যে ১৫ বছর একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক রেখে সেই দল পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের আশ্রয় দিয়েছে। ভারতের গুড ইনটেনশন দেখাতে হবে, এখানে ভারতের দায়িত্ব ও বার্ডেন অনেক বেশি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আন্দালিভ রহমান পার্থ: থ্যাংক ইউ।
