‘ছদ্মবেশ’ নিয়ে জামায়াত-শিবির ‘ঝামেলা’ করার চেষ্টা করেছে: পুলিশ
“এখানে নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিয়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন ঢোকার চেষ্টা করছিল,” বলেন যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
জুমার নামাজের সময় সাধারণ ‘মুসল্লির ছদ্মবেশ’ নিয়ে জামায়াত-শিবির ‘ঝামেলা’ করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
তিনি বলেছেন, “পুলিশ সতর্ক আছে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
শুক্রবার দুপুরে নয়া পল্টনে নিরাপত্তা তদারকি করতে গিয়ে যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন "এই যে জামায়াতে ইসলামী এখানে ছিল... সাধারণ মুসল্লিদের ছদ্মবেশে জামাত বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সাথে ঝগড়া করার চেষ্টা করছে, ঝামেলা ধরার চেষ্টা করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
“কোনো অপরাধীকে অথবা দুষ্কৃতকারীকে অথবা নাশকতাকারী কে অথবা জামায়াত-শিবিরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।"
এ সময় সাংবাদিকরা এই কর্মকতাকে বলেন, জুমার নামাজ পড়তে আসা অনেকেই পুলিশ বাধার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
উত্তরে বিপ্লব সরকার বলেন, “জুমার নামাজ পড়তে যেতে কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না বরং পুলিশ তাদের সহায়তা করছে। এখানে নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিয়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন ঢোকার চেষ্টা করছিল।
“এই স্লোগান কারা দেয় সেটা আপনাদের বুঝতে হবে। এটা দেয় বাংলাদেশের একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলাম।“
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে জানিয়ে বিপ্লব সরকার বলেন, “এখানে নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিয়ে পুলিশের সাথে ঝামেলা করার চেষ্টা করেছে। আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। নারায়ে তাকবীর তো বিএনপির স্লোগান নয়, এটা জামায়াতের স্লোগান।“
বুধবার পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধর-পাকড়ের পর ওই রাতেই নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রাখে পুলিশ এবং সড়কে বসানো হয়েছে ব্যারিকেডও। শুক্রবারও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে।
এত ‘কড়াকড়ি’ কেন জানতে চাইলে বিপ্লব সরকার বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রণয়ন করা হয়। টাইম টু টাইম এটা চেঞ্জ হয়। যখন আমরা নিরাপদ মনে করি তখন আমরা খুলে দিই। আর যখন জনসাধারণের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে এরকম ন্যূনতম ঝুঁকি দেখা যায় তখন আমরা নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করি।“
