১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা বার নির্বাচন: ভোটার উপস্থিতি কম কেন, জানাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার

এবার ভোট পড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 May 2026, 09:29 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:31 PM

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিত এবার কম কেন হল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন এ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন। 

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সদস্য বলছেন, "রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ভোট দানে বিরত থাকা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।"

শুক্রবার নির্বাচনের ফল গণনার উদ্বোধন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন বোরহান উদ্দিন।

তিনি বলেন, “অতীত সময় যে হারে ভোট কাস্টিং হয়েছে, সে তুলনায় এবছরের ভোট মোটেও কম নয়। এরপরেও অপেক্ষাকৃত আরো বেশি হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আইনজীবীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দের কারণে এমনটি হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বাংলাদেশ প্রধান দুটি দলে বা গ্রুপে বিভক্ত। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ যাদের দলীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। ওই গ্রুপটার টপ লিডাররাসহ অ্যাক্টিভিস্টরা ভোটদানে বিরত ছিল। এটি একটি কারণ। 

“এছাড়া দ্বিতীয় কারণ গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া । সার্বিক কারণে ভোট না হওয়ার মত যে আশঙ্কা ছিল, এজন্য হয়ত ভোটার উপস্থিতি একটু কম ছিল। তবু দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি কম হওয়ায় ভালো ভোটার উপস্থিতি ছিল।"

তিনি বলেন, "বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার সকল প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। স্বাধীনভাবে সবাই নিজের ভোট দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা হয়নি।”

তবে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কারচুপির’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। 

সংগঠনের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভিতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মত গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। 

“এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি।”

তাদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বোরহান উদ্দিন বলেন, ''আমি মনে করি না নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগের ভিত্তি আছে। কারণ যখনই কেউ মনে করে খেলায় হেরে যাবে, তখনই বলে আজকে খেলার মাঠ ভেজা ছিল। তাই ফুটবল খেলতে পারিনি। যে মঞ্চে আমাকে নাচতে বলেছে, সেটা আঁকাবাকা ছিল। গ্রাম্য ভাষায় একটা কথা আছে, নাচতে না জানলে...।”

তিনি বলেন, "শুধু এনসিপি না , যারা ভোট বর্জন করেছে, দেশকে অচলাবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, তারাই এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ব্যালটে বিভিন্ন চিত্র এঁকেছে। জানি না এরা কী ধরনের আইনজীবী হয়েছে।"

এদিন সন্ধ্যা ৬টায় ভোট গণনা শুরু হয়। শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন বোরহান উদ্দিন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার। 

২০ হাজার ৭৮৫ ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেই হিসেবে প্রায় ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।

বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ জন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য নির্বাচন কমিশনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। 

এবার নির্বাচনি মাঠে নেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। দুই দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা এবার একে অপরের বিপক্ষে লড়েছেন। 

বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থক আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বা ‘নীল প্যানেলে’ এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থকরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ বা ‘সবুজ প্যানেলে’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এ নির্বাচনে ২৩টি পদে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৫৫ জন। তাদের মধ্যে ২৩ জন করে ৪৬ জন প্রার্থী বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের, বাকি ৯ জন স্বতন্ত্র।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য বা নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন।

চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম নির্বাচন হল ঢাকা বারে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবার নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

আওয়ামী লীগ সমর্থক একাধিক আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন; তবে ‘অনুমতি’ না মেলায় তারা অংশ নিতে পারেননি। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেল।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। তাতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

সেই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ অগাস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এতদিন সেই অ্যাডহক কমিটিতেই চলছিল সমিতির কাজ।

কোন প্যানেলে প্রার্থী কারা

নীল প্যানেল (জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য)

সভাপতি: মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া

সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ আবুল কালাম খান

সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ

কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস)

সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (অ্যানি)

সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. মাহাদী হাসান জুয়েল

লাইব্রেরি সম্পাদক: খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ)

সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মারজিয়া হীরা

অফিস সম্পাদক: মো. আফজাল হোসেন মৃধা

ক্রীড়া সম্পাদক: মো. সোহেল খান

সমাজকল্যাণ সম্পাদক: এ এস এম ফিরোজ

তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক: শফিকুল ইসলাম (শফিক)

সদস্য: এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন ও সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।

সবুজ প্যানেল (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)

সভাপতি: এস এম কামাল উদ্দীন

সাধারণ সম্পাদক: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক

সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. শাহিদুল ইসলাম

সহ-সভাপতি: মো. লুৎফর রহমান (আজাদ)

কোষাধ্যক্ষ: মো. আজমত হোসেন

সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. শাহীন আক্তার

সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া

লাইব্রেরি সম্পাদক: মো. শাহাদাত হোসেন

সাংস্কৃতিক সম্পাদক: বিলকিস আক্তার

অফিস সম্পাদক: মো. আবদুর রাজ্জাক

ক্রীড়া সম্পাদক: বাবুল আক্তার (বাবু)

সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা

তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ

সদস্য: বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস ও মোশাররফ হোসেন।

স্বতন্ত্র

সভাপতি: মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস

সাধারণ সম্পাদক: বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ

কোষাধ্যক্ষ: রফিকুল ইসলাম

সহ-সাধারণ সম্পাদক: দেওয়ান আবুল হোসেন

সাংস্কৃতিক সম্পাদক: ওলিদা বেগম

অফিস সম্পাদক: জাকির হোসেন