Published : 16 Jul 2025, 05:51 PM
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় যুবশক্তি।
কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই বুধবার এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি একদল নেতাকর্মী বিকালে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের দখল নেয়।
এ সময় গোল চত্বর হয়ে চারদিকের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
যুবশক্তির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা দিনের আলোয় প্রকাশ্যে আক্রমণ চালিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বহুদলীয় গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে।
“আমরা জোরালোভাবে ঘোষণা করছি, কোনো প্রকার সন্ত্রাস, দমন-পীড়ন ও হামলার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চেতনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্তব্ধ করা যাবে না। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে মুজিববাদের কবর রচনায় আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে যুবশক্তি। এছাড়া দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলেছে তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, “এনসিপি সবসময় গণতন্ত্র, শান্তি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিল এবং থাকবে। এ হামলার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
“গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতৃবৃন্দের ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ন্যাক্কারজনক হামলা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনার প্রতিবাদে, সারাদেশে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি ঘোষণা করছে জাতীয় যুবশক্তি।”
এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলা মোটরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন যুবশক্তির কর্মী শাওন।
এদিকে সারা দেশে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার দুপুরে সংগঠনের ফেইসবুক পেইজে ওই ঘোষণায় বলা হয়, “গোপালগঞ্জে জুলাইয়ের নেতাদেরকে হামলার প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
“সারাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল ইউনিটকে স্থানীয় ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল সহ সর্বস্তরের ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো যাচ্ছে।”
এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়।
বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলা হয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ পরিস্থিতিতে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।