Published : 26 Sep 2025, 09:04 PM
ডাকসু ও জাকসু ভোটের মতো অনিয়ম হলে জাতীয় নির্বাচনও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে ছাপানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে আসছে তুলে ধরে উপাচার্য তা কীভাবে চাপা দেবেন সে প্রশ্ন করেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার মিরপুরে বিএনপি নেতা কাজী আসাদুজ্জামানের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছিলেন রিজভী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের ভোট হয় গত ৯ সেপ্টেম্বর, তাতে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার তথ্য দেয় নির্বাচন কমিশন।
ভোটের লড়াইয়ে ছাত্রশিবিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রার্থীরা। তবে কোনো পদেই তারা জয়ের মুখ দেখেননি। সম্পাদকীয় যে তিনটি পদ শিবিরের হাতছাড়া হয়, সেগুলোতে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
ভোটের ১৩ দিনের মাথায় গেল কারচুপির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ছাত্রদল থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। তারা ডাকসু নির্বাচনের ১১টি অনিয়ম-অভিযোগ তুলে ধরেন।
অপরদিকে দিকে ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোট শুরু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ‘কারচুপি ও অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে ছাত্রদলের প্যানেলসহ কয়েকটি প্যানেল।
এ দুটি নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বড় বিজয় জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে বলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্যে এসেছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
‘এরকম অনিয়ম হলে জাতীয় নির্বাচন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে’
ডাকসু-জাকসু নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “এরকম অনিয়মের প্রক্রিয়া যদি চলতে থাকে আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে, আগামী জাতীয় নির্বাচন অনেক প্রশ্ন উঠবে। নানা কায়দা-কানুন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ফলাফল করা হবে কি না, এই নিয়ে জনগণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৬ বছর কেউ ভোট দিতে পারেনি, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি, দিনের ভোট রাত্রে হয়েছে, ভোটারবিহীন ভোট হয়েছে। আমরা আর ‘মামুদের’ ভোট হয়েছে ২৪ সালে।
“এই সমস্ত অনাচার বাধ সুষ্ঠ নির্বাচনকে একেবারে মাটির তলায় কবর দিয়ে শেখ হাসিনা তার রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিলেন, তার ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। সেগুলোর যদি কোনো অবশিষ্টাংশ, কোনো চিহ্ন যদি এখনো থেকে থাকে এবং শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে কাউকে কাউকে জিতিয়ে দেওয়ার যদি কোনো নীলনকশা থাকে, তাহলে এটা হবে এই জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। জনগণ ছেড়ে দেবে না।”
রাকসুর সাবেক ভিপি রিজভী বলেন, “আমরা বলেছিলাম যে, ডাকসু নির্বাচন যে প্রক্রিয়ায় হয়েছে, যেভাবে হয়েছে সেইটা যথার্থ হয়নি। এখানে অনেক অনিয়মের আমরা খোঁজখবর পাচ্ছি। সেদিন আমরা বলেছি, তাদের ব্যালট পেপার, ব্যালট বই সেখানে কোনো নম্বর ছিল না, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-জাকসুতেও তাই।
“একজন ভোটার সকালবেলায়, হাতে নিচে সই করে তাকে ভোটার বানানো হয়েছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। তাদের বিরুদ্ধে যে অনিয়ম, তাদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে সেগুলো আমলে নেয়নি, পাত্তা দেয়নি।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, “প্রতিদিন আমরা দেখতে পাচ্ছি, অনিয়মের একটা পর একটা চিত্র, একটা ছবি ভেসে আসছে। ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে, ছাপানো হয়েছে নীলক্ষেতে… সংবাদপত্র এসছে, গণমাধ্যমে এসছে। এটাকে আপনি চাপা দেবেন কী করে ভাইস চ্যান্সেলর সাহেব?”
রিজভী বলেন, “এই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আমাদের কোনো বিতর্ক বা বিরোধ নেই। কিন্তু যে পদ্ধতিতে হয়েছে আমরা সেই পদ্ধতির বিরোধিতা করছি। আমরা বলেছি যে মাঠ সমতল রাখা ছাড়া নির্বাচন করা উচিত নয়।”
“কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলর সাহেব মাঠ সমতল না করে অসমতল মাঠে তিনি নির্বাচন করে সাধারণ ছাত্রদেরকে প্রতারিত করেছেন। এই কথা বলেছি আমি আগে, এই কথা আবারও প্রমাণিত হল যে, নীলক্ষেত্র থেকে পেপার ছাপানো হয়েছে। তাহলে কোনো একটি মহল বিশেষ, কোনো একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা কারো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একগুয়েমিভাবে এই ডাকসু নির্বাচন করেছে।”
স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।
তিনি কাজী আসাদুজ্জামানের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরেন।