১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে ঐকমত্য কমিশন

বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানানো হয়নি।

সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে ঐকমত্য কমিশন
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Oct 2025, 04:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:29 PM

জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দুই দিন আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বুধবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। 

এদিন সন্ধ্যায় ৬টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।

কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সন্ধ্যায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ‘অতি জরুরি’ বৈঠকে মিলিত হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক দল ও জোটের কাছ থেকে একজন করে প্রতিনিধির নাম চেয়েছে কমিশন। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিঠিতে কিছু বলা হয়নি।

বৈঠকের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বুধবার দুপরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা জরুরি বৈঠকের চিঠি পেয়েছি।”

আগামী শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

তার আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কমিশনের তরফে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও একটি জোটের কাছে চূড়ান্ত জুলাই জাতীয় সনদ পাঠানো হয়েছে। এসব দল ও জোটের পূর্ণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ১৭টি বিষয়ে ৮৪ দফার জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বাকি ৬৭টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বিরোধিতা করেছে; দিয়েছে নোট অব ডিসেন্ট।

জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ৮৪ দফা, তার মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন।

জুলাই সনদের পটভূমি ব্যাখ্যা করে সংস্কারযজ্ঞ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম তুলে ধরার পর সংস্কারের ৮৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে ৪০ পৃষ্ঠার সনদে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কী অঙ্গীকার করছে, তা উল্লেখ করার পর রাখা হয়েছে স্বাক্ষরের জায়গা।

‘জাতি গঠনের ইতিহাস সনদে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে’

জুলাই সনদে জাতি গঠনের ইতিহাস ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে দাবি করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)।

সংবিধানের চার মূলনীতি ঠিক না রাখলে সনদে স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে না বলে এক বিবৃতিতে বলেছেন দলটির সমন্বয়ক মাসুদ রানা।

জুলাই সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি পাওয়ার পর তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রশ্ন সনদের অঙ্গীকারনামা নিয়ে। বিভিন্ন দল সনদের বহু পয়েন্টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। কিন্তু এই অঙ্গীকারনামার প্রথম পয়েন্টে বলা হয়েছে, ‘...এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব’। স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া বেশিরভাগ দলের পক্ষেই এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা সম্ভব নয়।

“একইভাবে দ্বিতীয় পয়েন্টে ‘...পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসাবে অথবা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব’ এই কথার উল্লেখ আছে। সনদকে সংবিধানে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের কোন আপত্তি নাই। 

“তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন দলের ভিন্ন ভিন্ন মতসহ লিখিত একটা দলিল কীভাবে সংবিধানে যুক্ত হতে পারে- সে ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট হতে পারছি না।”

মাসুদ রানা বলেন, “সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমরা জুলাই সনদ ২০২৫ এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না...’ । কোনো দল যদি দেখে, যে বিষয়গুলোতে তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল, সেগুলোই অনুমোদিত ও কার্যকর হতে যাচ্ছে, তবে তার পক্ষে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। জুলাই সনদের মতো একটা গণতান্ত্রিক সনদে এই ধরনের অঙ্গীকার থাকাটা অনভিপ্রেত।”

চার মূলনীতি নিয়ে বিবৃতিতে দলটি বলছে, “সংবিধানের মূলনীতির আলোচনাটি এই উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। আদর্শিক-রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে আলোচনার বাইরে রাখা উচিত। কারণ এ ব্যাপারে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য সম্ভব নয়। তাই এই অংশে আলোচনার সময়ে আমরাসহ চারটি দল ওয়াক আউট করেছিলাম। এর বাইরেও দুটি দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এই বিষয়টি বাদ দিয়ে সনদ রচিত হবে। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় সেটার প্রতিফলন আমরা দেখলাম না। আমাদের জাতি গঠনের ইতিহাসটাও সনদে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। 

“আমরা দীর্ঘদিন আলোচনা করেছি এই বিষয়গুলো নিয়ে। এর একটা সুন্দর পরিণতি আমরা সকলেই চাই। আমরা আবারও কমিশনকে অনুরোধ করব সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। সেটা না হলে এই সনদে স্বাক্ষর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।”

চূড়ান্ত জুলাই সনদে যা থাকছে