২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভোট এলে চক্রান্ত বাড়ে: শেখ হাসিনা

“বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে কিছু কিছু আবার আছে যারা বুদ্ধিজীবী প্রতিবন্ধী .... কীভাবে আওয়ামী লীগকে হটানো যায় ক্ষমতা থেকে, সেই চক্রান্তে ব্যস্ত।”

ভোট এলে চক্রান্ত বাড়ে: শেখ হাসিনা

গণভবনে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় শেখ হাসিনা। 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Dec 2022, 10:49 PM

Updated : 22 Dec 2022, 10:49 PM

একটি মহল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে ‘চক্রান্তে ব্যস্ত’ বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “যখনই নির্বাচন আসে তখনই তাদের চক্রান্ত বৃদ্ধি পায়।”

বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দুদিন আগে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবী আছে, সেই বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে কিছু কিছু আবার আছে যারা বুদ্ধিজীবী প্রতিবন্ধী, এ কারণে বলছি এই বুদ্ধিজীবীরা আসলে প্রতিবন্ধী। কারণ তারা কোনো উন্নয়নই দেখে না। আর কীভাবে আওয়ামী লীগকে হটানো যায় ক্ষমতা থেকে, সেই চক্রান্তে ব্যস্ত।”

চক্রান্ত কেন- তার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কারণ একটাই, যখন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকে, হয় মার্শাল ল হল বা ওই যে ইয়াজউদ্দিন, মইনুদ্দিন, ফখরুদ্দিন ওই রকম সরকার যদি আসে, যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখন তাদের মূল্য বাড়ে।

“অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের মূল্য খুব বেড়ে যায়। কারণ যারা এভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল অথবা মার্শাল ল দিয়ে ক্ষমতা দখল করে তারা তো জনগণের সমর্থন পায় না। তখন এই বুদ্ধিজীবীরা দাঁড়িয়ে পড়ে। ওই যে লেখা থাকে না ‘ইউজ মি’ মানে আমাকে ব্যবহার করুন, তো ওনারা ওই রকম জামা-কাপড় ইস্ত্রি করে রেডি হয়ে যান এবং উনারা ব্যবহারই হয়। যখন গণতন্ত্র আসে, গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ চলে, তখন তারা নিজেদের খুব হতাশ মনে করে।”

Image

গণভবনে বৃহস্পতিবার সভায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি তাদের একটা কথা বলতে চাই- তারা তাদের জ্ঞান বুদ্ধিটা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাক, অকল্যাণকর কাজের জন্য তারা কেন তাদের এই জ্ঞানটা খরচ করে?

“আমরা দেশের উন্নয়ন করছি, সেটা একটু দৃষ্টি খুলে দেখুক, আরও ভালো কাজ কী করা যায়, সেই পরামর্শটা দিক। নির্বাচিত সরকার হটিয়ে অনির্বাচিত কাউকে আনা যায় কিনা ওই চক্রান্ত করে দেশের কোন ভালো কাজটা হবে? এটা আমার প্রশ্ন।”

‘ভোট চুরি করলে জনগণ ক্ষমা করে না’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভায় বলেন, “ভোট চুরি করলে দেশের জনগণ ছেড়ে দেয় না, ক্ষমা করে না।”

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জনগণের ভোট চুরি করেছিল বলেই কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সে নির্বাচনকে মেনে নেয়নি। তখন তীব্র প্রতিবাদ হয়, গণআন্দোলন হয় এবং যার ফলে খালেদা জিয়ার পতন হয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “নির্বাচন নিয়ে খেলা-কারচুপি, এটা কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই শুরু করেছে । যেটা ৯৬ সালেও আমরা দেখলাম ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, আবার ২০০৬ সালে এক কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার দিয়ে তারা নির্বাচন করার একটা প্রহসন শুরু করল। বিএনপি যখনই ক্ষমতা এসেছে, তখনই তারা জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারকে রহমানকে নিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা, এটাই তার কাজ। আর এই যে মানি লন্ডারিং করে হাজার হাজার কোটি টাকা যে নিয়ে গেছে, সেটা এখন দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করতে ব্যবহার করছে।”

Image

গণভবনে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় শেখ হাসিনা

বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করেছে এবং সেই নির্বাচন নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন নেই। সেই নির্বাচনে বিএনপি সিট পেয়েছিল মাত্র ৩০টি। তাহলে প্রশ্ন এখানে, জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে সেই স্বপ্নটা কীভাবে দেখে?”

আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গেছে দাবি করে তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা বিশ্বাস নিয়ে আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতায় আসবে। ভোট ছাড়া, জনগণের সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগ কখনও ক্ষমতায় আসেনি।”

আবারও ভোটে জয়ের আশা রেখে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা (আওয়ামী লীগ) জনগণের ভোটে নির্বাচিত হব।

“আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে জনগণের হৃদয় জয় করে, তাদের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে। এই কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে, আমরা জনগণের জনগণ আমাদের এই দেশ আমাদের।”