মোল্লার ফাঁসি: শেষ হইয়াও হইল না শেষ
মঙ্গলবার রাত বারোটা এক মিনিটে 'মিরপুরের কসাই' নামে দেশব্যাপী পরিচিত কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার চূড়ান্ত ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে– সন্ধ্যায় রটে যাওয়া এই খবরে সারাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রাস্তাঘাট দ্রুতই ফাঁকা হয়ে যায়। এর মধ্যে শুরু হয় জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সন্ত্রাসী তৎপরতা। যানবাহন ভাঙচুর, আগুন, বোমাবাজিতে প্রকম্পিত হতে থাকে দেশ!
হঠাৎ-ই রাত সাড়ে দশটায় খবর পাওয়া যায়, কাদের মোল্লার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার জজের আদালত বুধবার সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত ফাঁসির রায় কার্যকর স্থগিত করেছে। আদালতের নির্দেশে কাদের মোল্লার ফাঁসি স্থগিত হলেও জামায়াত-শিবিরের ভয়াবহ তাণ্ডব স্থগিত হয়নি। যা জনমনে ব্যাপক ত্রাসের সঞ্চার করেছে।
বিষয়টি নাটকীয়। আকস্মিকভাবে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার উদ্যোগ এবং তার চেয়েও বেশি আকস্মিকভাবে রাতের বেলায় চেম্বার জজের আদালতে যাওয়া এবং আদালত থেকে বুধবার সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত 'ফাঁসি স্থগিত' রাখার সিদ্ধান্তটি জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন আর কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। চেম্বার জজের আদালত 'ফাঁসি স্থগিত' করতে পারে জেনেও ফাঁসির ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা এবং সারাদিন নিরব থাকার পর মোল্রার আইনজীবীদের হঠাৎ রাতের বেলা চেম্বার জজের কাছে যাওয়া, স্থগিতাদেশ পাওয়া– পুরো বিষয়টিই কেমন রহস্যাবৃত মনে হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটা সরকারি আইন কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতা বা অদক্ষতার ফল!
অবশ্য আমাদের দেশের পুরো রাজনীতিই বর্তমানে রহস্যের মোড়কে ঢাকা পড়েছে। কে কোথায় কী করছেন, কে কোত্থেকে কলকাঠি নাড়ছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না।
যেমন বোঝা যাচ্ছে না চলমান আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও গন্তব্য। বিরোধী দলের আন্দোলন গায়েবি ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে। ব্যক্তি নয়, ভিডিওতে তোলা ছবি আন্দোলনের দিশা জানাচ্ছে। মিছিল-পিকেটিং নয়, অজ্ঞাত বোমা মানুষকে কবর কিংবা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আন্দোলনের ঘোষণা আসছে গায়েবি কায়দায়। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে একই রকম গায়েবি পদ্ধতিতে। কে বোমা মারছে, কোত্থেকে মারছে, মেরে তারা কোথায় উধাও হয়ে যাচ্ছে, কেউ-ই তা জানে না। পুরো বিষয়টিই রহস্যাবৃত।
কাদের মোল্লাসংক্রান্ত ঘটনাগুলোও তেমনি রহস্যাবৃত মনে হয়েছে। বাংলাদেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত অপরাধীদের একজনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে কলঙ্কমোচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে– মঙ্গলবার রাত বারোটার পর বিয়াল্লিশ বছর ধরে জাতির অপেক্ষার অবসান হবে– এটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু মোল্লার আইনজীবীদের রিভিউ পিটিশনের কারণে তা বিলম্বিত হল।
যুদ্ধাপরাধের বিচার আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতার বিষয়। এ বিচার কোনো প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়, বরং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার ন্য, তাঁদের পরিবারবর্গের দুঃসহ যাতনা কিছুটা হলেও লাঘব করার জন্য, সভ্যতার বোধ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং সর্বোপরি যুদ্ধ নামক অভিশাপ থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করার জন্য।
তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বিচারের রায় কার্যকর করাটা একটা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী একটি ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া সবাই চায় যুদ্ধাপরাধের বিচার হোক, বিচারের রায় কার্যকর হোক। এ প্রেক্ষিতে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা নিয়ে সবার মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। কেননা মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এটাই হবে প্রথম রায় কার্যকর।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়– ''কাদের মোল্লার মানবতাবিরোধী অপরাধ পৈশাচিক। তার অপরাধ নারকীয়, বর্বরোচিত ও জঘন্য– যা তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংঘটিত করেছেন। তার অপরাধ জাতিকে অনন্তকাল বহন করতে হবে এবং তা পৃথিবীতে নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাই এ অপরাধের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না তিনি। এজন্য একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই কাদের মোল্লার প্রাপ্য। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হচ্ছে।''
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, রায় প্রদান এবং দণ্ড কার্যকর করার ব্যাপারটি নিয়ে নানা সমালোচনা ও ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিচার বানচালের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিতখাবে জামায়াতের সঙ্গী হয়েছে বিএনপি। দুটি দলের কর্মী-সমর্থকরা বিদেশে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন ভাড়া করেছে বিচার বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে যাচ্ছে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক প্রণীত 'আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন'-এ। ওই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল, টোকিও ট্রায়াল এবং ম্যানিলা ট্রায়ালের মডেলে।
তুলনা করলে দেখা যাবে, সেসব বিচারের ক্ষেত্রে যে আইন, নীতি ও বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল, বাংলাদেশের আইন তার চেয়ে অনেক বেশি মানসম্পন্ন। এরপরও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইন সম্পর্কে এমন সব কথা বলা হচ্ছে যে, এই আইনে যুদ্ধাপরাধীদের মানবাধিকারকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। অথচ বাংলাদেশের আইনে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা ন্যুরেমবার্গ ও টোকিওতে ছিল না।
তাই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে রায় কার্যকর করার ব্যাপারে আমাদের একটা সামগ্রিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদার 'দুর্বৃত্তের' হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা কর্মী-সংগঠকদের ধারাবাহিকভাবে হত্যা করা হচ্ছে। সর্বশেষ বগুড়ায় গণজাগরণ মঞ্চের এক সংগঠককে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে।
ওদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সারাদেশ জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলের উপযুক্ত বিচার করা হবে বলেও হুংকার ছাড়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করাটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যদিও সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তেমন কোনো সতর্কতা বা দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক বিখ্যাত গানে প্রেম সম্পর্কে বলেছেন, 'জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায় না, হায় ভীরু প্রেম হায়রে, আশার আলোয় তবুও ভরসা পায় না… হায় ভীরু প্রেম হায়রে।' শুধু প্রেম নয়, সব ক্ষেত্রেই বাঙালি মধ্যবিত্তের একই সংশয়। আমরা জয় করেও ভয়ে থাকি– হারানোর ভয়ে, অর্জিত বস্তু লুণ্ঠিত হবার ভয়ে। তাই তো আমরা আশার আলোয় ভরসা পাই না, ভরসা পাই না প্রতিশ্রুতিতেও।
এক কাদের মোল্লার রায় কার্যকর করতেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কুখ্যাত খুনি, ধর্ষক, মানবতাবিরোধী অপরাধীরা আরও রয়ে গেছে। রয়ে গেছে তাদের দল, তাদের সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীরা। যুদ্ধাপরাধের দল জামায়াত-শিবির যে গণতন্ত্রবিরোধী, সভ্যতা ও মানবতাবিরোধী একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি– তা তারা গত এক বছরে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন মানবতার দুশমন এই গণবিরোধী ফ্যাসিস্টদের শক্তভাবে মোকাবিলা করা জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সরকার কেন তাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেলার ব্যাপারে সর্বাত্মক ভূমিকা নিচ্ছে না, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।
যে দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে বা ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, আদালতের রায়ে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে যাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে– তারা মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে, প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠবে– এটাই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে যারা আছেন, তারা যদি গালভরা বুলি নিয়ে যে যার মতো বসে বসে একে অপরের ভুল ও কৃতকর্মের সমালোচনা চালিয়ে যান, কে কার চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক, কে কত ভালো, কে কত খারাপ এই তর্কে মেতে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট সকলকেই কঠিন মূল্য দিতে হবে।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ দলটিকেকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের অহমিকা ভুলে ছাড় দিয়ে হলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে কাছে টানতে হবে, ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আর অন্যদেরও বুঝতে হবে, জামায়াত-শিবির আগুন জ্বালানো শুরু করলে সে আগুনে শুধু আওয়ামী লীগ একাই পুড়বে না, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কেউই রেহাই পাবে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকের আঁতাত-সমঝোতা করে পিঠ বাঁচানোর কৌশল জানা আছে; অন্যদের তা জানা নেই।
কাজেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের হিসেব না কষে সবাইকেই এখন বাস্তবতার নিরিখে বৃহত্তর স্বার্থে এক হতে হবে। আওয়ামী লীগকেও নিজেদের অপকর্মের কথা স্বীকার করতে হবে, ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে, আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার করতে হবে। তা না হলে অন্যরা আস্থা পাবে না। তবে সবাইকে এটাও বুঝতে হবে যে, দেশে আওয়ামী লীগের চেয়ে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিষ অনেক বেশি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতির জন্য বিরাট কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। বিএনপি নেতৃত্বকেও বুঝতে হবে জামায়াতের মতো একটি ফ্যাসিস্ট শক্তির কাঁধে সওয়ার হয়ে ক্ষণিকের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু শেষপর্যন্ত এ জন্য বড় মূল্য দিতে হবে। জামায়াতের সংসর্গ ত্যাগ করে নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়ালে বিএনপির শক্তি এবং সমর্থন বাড়বে বৈ কমবে না। দেশে সুস্থধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে জামায়াতের মতো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে ছুঁড়ে ফেলার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়।
এ মুহূর্তে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকল নাগরিক, রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে, আত্মোপলব্ধিতে পৌঁছুতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের সামনে এখন ঘোরতর বিপদ। একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সীমাহীন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে কেউ বলতে পারছেন না, এর মধ্যে চলছে জ্বালাও-পোড়াও, বোমা-ককটেল, গুলি, মৃত্যু। এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষের সংযত আচরণই কেবল পারে দেশকে নিশ্চিত ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা করতে। না হলে কেবল রক্তগঙ্গা বইবে; সেই রক্তনদীতে স্নান করে সমৃদ্ধ হবে রক্তচোষা হায়েনার দল।
দেশটা তো রক্তলোলুপ হায়েনাদের নয়– আমাদের সকলের, বাংলাদেশের সকল মানুষের। সবাই মিলেই আমাদের দেশ, দেশের মানুষ ও গণতন্ত্র রক্ষার শপথ উচ্চারণ আজ সবচেয়ে জরুরি।
চিররঞ্জন সরকার: কলামিস্ট।
