০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারের বিজ্ঞান কী?

হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারের মূল পার্থক্য কী? বিজ্ঞান কীভাবে এই দুইয়ের জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেয়?

হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারের বিজ্ঞান কী?
নারী-পুরুষের চিরচেনা কাঠামোর বাইরেও আমাদের চারপাশে বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠি বাস করে। প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির মতোই তাদের আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

নাদিম মাহমুদ নাদিম মাহমুদ

Published : 21 Aug 2026, 09:39 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

গত কয়েক বছর ধরে সারা বাংলাদেশে এই শব্দ দুটির প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কখনো পাঠ্যপুস্তক, কখনো পত্রিকা কিংবা সাহিত্যিকদের গল্পে এই দুটি শব্দের সঠিক ধারণা না থাকায় নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আর ওই বিতর্ক থেকে বাদ পড়েনি পাঠ্যপুস্তকও। বিভিন্ন সময় হিজড়া জনগোষ্ঠি নিয়ে সমাজের প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা বা 'মিথ' ভাঙতে গিয়ে পাঠ্যপুস্তক রচয়িতারা ভুলভাল ব্যাখ্যা দিয়ে দেশজুড়েই বিতর্ক ছড়িয়েছেন। মানুষের জীবনচক্রে ঘটে যাওয়া এসব বিষয়ে সমাজ, ধর্ম কিংবা রাষ্ট্রের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও 'বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে' হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার বলতে আসলে কাদের বোঝানো হয়?

আমাদের দেশে অনেক সময় সেক্স এবং জেন্ডারকে একই কাতারে ফেলা হয়। কাগজে-কলমে অনেক জায়গায় সেক্স বলতে নারী-পুরুষ বোঝানো হয়, আবার জেন্ডার বা লিঙ্গ বলতেও নারী-পুরুষই বোঝায়। কিন্তু সেক্স ও জেন্ডার কি সত্যিই একই জিনিস?

যদিও জেন্ডার সেক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে এই দুটি শব্দ কখনোই এক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সেক্স হলো মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য এবং জেন্ডার হলো সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা পরিচয়। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর শারীরিক এবং শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে সেক্স নির্ণয় বা নারী-পুরুষের পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়। ক্রোমোজোম, জিনের বহিঃপ্রকাশ, হরমোন এবং প্রজনন অঙ্গের ধরন বিচার করে সেক্স নির্ধারিত হয়।

অন্যদিকে, সামাজিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কে নারী বা কে পুরুষ হবে, তারা সমাজে কী ভূমিকা পালন করবে, তাদের আচার-আচরণ কেমন হবে এবং নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় ঘিরেই জেন্ডারের সংজ্ঞা তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সমাজভেদে জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তিত হয়, এমনকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তিতও হতে পারে। এসব সামাজিক নিয়মকানুন নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির আইন, মূল্যবোধ, ধর্ম ও শিক্ষা ব্যবস্থা। নারী-পুরুষের এই চিরচেনা কাঠামোর বাইরেও আমাদের চারপাশে বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠি বাস করে। প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির মতোই তাদের আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিজ্ঞান এসব বিষয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করে।

সেক্স কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

পৃথিবীতে শত শত প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। প্রজাতিভেদে সেক্স চিহ্নিত করার পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যায়। তবে সাধারণভাবে দুটি পদ্ধতি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। প্রথমটি হলো জিনগত বা জিনোটাইপিক সেক্স ডিটারমিনেশন এবং দ্বিতীয়টি হলো পরিবেশগত বা এনভায়রনমেন্টাল সেক্স ডিটারমিনেশন।

জিনগত পদ্ধতিতে কোনো প্রজাতির সেক্স বোঝার জন্য তাদের ক্রোমোজোম (যার ভেতরে ডিএনএ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে) পর্যবেক্ষণ করা হয়। নিষেকের সময় স্ত্রীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুর মিলনে গঠিত ভ্রূণে যে সেক্স ক্রোমোজোমটি প্রকাশিত হয়, তাকে ঘিরেই লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। আবার কিছু কিছু প্রাণী পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে নিজেদের সেক্স রূপান্তর করে। যেমন, কচ্ছপের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার সময় তাপমাত্রা যদি ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে পুরুষ কচ্ছপ জন্মায়; আর তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে স্ত্রী কচ্ছপ জন্মায় (টনি গ্যাম্বল এবং অন্যান্য, সেক্স ডিটারমিনেশন (লিঙ্গ নির্ধারণ), কারেন্ট বায়োলজি, ২০১২)।

তবে মানুষের ক্ষেত্রে জিনগত পদ্ধতিটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। ধর্মযাজক গ্রেগর মেন্ডেলের বংশগতির তত্ত্ব প্রকাশের পর জিনগতভাবে নারী-পুরুষ নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে। ১৯০০ শতকের শুরুর দিকে সেক্স নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এডমন্ড বিচিয়ার ও নিতি মারিয়া নারী-পুরুষের সেক্স নির্ধারণে একজোড়া ক্রোমোজোমকে দায়ী করেন। তাদের এই তত্ত্ব প্রাধান্য পায় ১৯৫০-এর দশকে ডিএনএ আবিষ্কারের পর। এরপর ১৯৮০-এর দশকে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোমের রহস্য উন্মোচিত হলে জিনগত সেক্স শনাক্তকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

সাধারণত মানুষের কোষে থাকা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে বিশেষ একজোড়া ক্রোমোজোম সেক্স নির্ধারণ করে। নারীদের ক্ষেত্রে দুটিই অভিন্ন এক্স (X) ক্রোমোজোম থাকে, আর পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ওয়াই ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট অংশ 'সেক্স রিজন ওয়াই' (এসআরওয়াই) জিন শনাক্ত হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোজোমটিই মানবদেহের সেক্স নির্ধারণের মূল অনুঘটক। এছাড়া একই প্রজাতির মধ্যে পুরুষ ও নারী শারীরিক বৈশিষ্ট্যের যে বৈচিত্র্য, তার মাধ্যমেও তাদের সহজে চেনা যায়।

সেক্স নির্ণয়ে হরমোন কতটা ভূমিকা রাখে?

আমাদের মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট কিছু গ্রন্থি রয়েছে, যা থেকে বিভিন্ন হরমোন তৈরি হয়। প্রজনন অঙ্গের 'গোনাড' গ্রন্থি থেকে প্রজনন হরমোনগুলো নিঃসৃত হয়। সাধারণত ভ্রূণ গঠনের প্রথম ছয় সপ্তাহ পর থেকে গোনাডাল হরমোন তৈরি শুরু হয়। অ্যান্ড্রোজেন, ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনগুলো প্রজনন অঙ্গের বিকাশ ও গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে। আমাদের অনেকের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, অ্যান্ড্রোজেন কেবল পুরুষদের এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন কেবল নারীদের শরীরে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, সব হরমোনই নারী ও পুরুষ উভয়ের শরীরে বিদ্যমান; তবে পরিমাণের তারতম্যের কারণে নারী-পুরুষের পার্থক্য তৈরি হয়। অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন (যেমন টেস্টোস্টেরন) এবং ইস্ট্রোজেন মূলত পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের ডিম্বাশয় (ওভারি) থেকে উৎপন্ন হয় (উইলসন এবং অন্যান্য, দ্য হরমোনাল কন্ট্রোল অব সেক্সুয়াল ডেভেলপমেন্ট, সাইন্স, ১৯৮১)। ভ্রূণাবস্থাতেই এই হরমোনগুলোর প্রভাবে ছেলে বা মেয়ের নির্দিষ্ট বাহ্যিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে থাকে।

বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ইস্ট্রোজেনের চেয়ে বেশি থাকার কারণে দাড়ি-গোঁফ গজানো, গলার স্বর গম্ভীর হওয়া এবং পুরুষাঙ্গের পূর্ণ গঠন সম্ভব হয়। অন্যদিকে, মেয়েদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের চেয়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকায় তা নারীদের প্রজনন অঙ্গ গঠনে ও বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে।

হিজড়া কেন হয়?

ওপরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা থেকে বোঝা গেল কীভাবে হরমোন নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেউ দেখতে নারী বা পুরুষের মতো হলেও, জিনগত বা হরমোনগত জটিলতার কারণে তাদের কেন নির্দিষ্ট কোনো এক শ্রেণিতে ফেলা সম্ভব হয় না?

সাধারণত হরমোনগুলো মানবকোষের নির্দিষ্ট গ্রাহক বা 'রিসিপ্টর'-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শারীরিক বার্তা পাঠায়। এখন কোনো পুরুষ ভ্রূণে যদি টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হওয়া সত্ত্বেও কোষের রিসিপ্টরগুলো তা গ্রহণ করতে না পারে, তবে ওই ভ্রূণে থাকা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের প্রভাবে নারীর প্রজনন অঙ্গ গঠিত হতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় 'কমপ্লিট অ্যান্ড্রোজেন ইনসেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম'। এমন ব্যক্তিদের জরায়ু ও ল্যাবিয়া তৈরি হলেও তা ত্রুটিযুক্ত থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে যখন মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হয় না, তখন চিকিৎসায় ধরা পড়ে যে তাদের ডিম্বাশয় বা ওভারি নেই; তার পরিবর্তে পেটের ভেতরে অণ্ডকোষ রয়েছে। অণ্ডকোষ থেকে টেস্টোস্টেরন তৈরি হলেও শরীর তা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে এক্স-ওয়াই ক্রোমোজোম থাকা সত্ত্বেও বয়ঃসন্ধিকালে তাদের স্তন গঠিত হয় এবং শরীরে মেদ জমে। অর্থাৎ, বাহ্যিক গঠনে তাদের নারীর মতো মনে হলেও জিনগতভাবে তারা পুরুষ। টেস্টোস্টেরন কাজ না করা এবং পিরিয়ড না হওয়ার কারণে জন্ম নেওয়া এই মানবগোষ্ঠিকেই আমরা 'ইন্টারসেক্স' বা বাংলায় হিজড়া বা উভয়লিঙ্গ বলে থাকি।

জেনেটিক্যালি পুরুষ হলেও সামাজিক বাস্তবতায় তারা নারী হিসেবেই বড় হন। তবে বিজ্ঞানীরা প্রজনন সক্ষমতা অর্থাৎ শুক্রাণু বা ডিম্বাণু তৈরির নিরিখে সেক্সের যে সংজ্ঞা দেন, এই জনগোষ্ঠি তার আওতায় পড়েন না। কারণ তারা শুক্রাণু বা ডিম্বাণু কোনোটিই তৈরি করতে পারেন না। তাদের জরায়ুর গঠন অস্বাভাবিক বা ছোট হওয়ায় সাধারণ যৌনজীবন তাদের জন্য বেদনাদায়ক হয়।

অন্যদিকে, 'পার্শিয়াল অ্যান্ড্রোজেন ইনসেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম' আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোজেন আংশিকভাবে কাজ করে। ফলে এসব পুরুষের পুরুষাঙ্গ অস্বাভাবিক ছোট হয় এবং অণ্ডকোষ দুটি পৃথক থাকে। অনেক সময় তাদের নারীদের মতো ভগাঙ্কুর (ক্লিটোরোমেগালি) থাকে এবং মূত্রনালী লিঙ্গের নিচের দিকে অবস্থান করে। বয়ঃসন্ধিকালে তাদের স্তনও গঠিত হতে পারে। এরা ছেলেদের মতো বড় হলেও তাদের টেস্টোস্টেরন হরমোন স্বাভাবিক পুরুষের মতো কাজ করে না। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যে মানুষের কোনো হাত নেই, এটি সম্পূর্ণই হরমোনের খেলা।

ট্রান্সজেন্ডার কী?

জন্মগতভাবে যাদের প্রজনন অঙ্গ (ডিম্বাশয় বা অণ্ডকোষ) স্বাভাবিক এবং সন্তান জন্মদানে সক্ষম, তাদের বৈজ্ঞানিক ভাষায় 'সিসজেন্ডার' বলা হয়। অন্যদিকে, কেউ জন্মসূত্রে নারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও পরবর্তীতে মানসিকভাবে নিজেকে পুরুষ হিসেবে অনুভব করলে তাকে রূপান্তরিত পুরুষ বা ট্রান্স ম্যান বলা হয়। একইভাবে, জন্মসূত্রে পুরুষ কিন্তু মানসিকভাবে নিজেকে নারী মনে করলে তাকে রূপান্তরিত নারী বা ট্রান্স উইম্যান বলা হয়।

ট্রান্সজেন্ডার বিষয়টির সঙ্গে জন্মগত জৈবিক ত্রুটির কোনো সম্পর্ক নেই। এই জনগোষ্ঠির মানুষেরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তায় (অস্ত্রোপচার কিংবা হরমোন থেরাপি) কৃত্রিমভাবে নিজেদের জেন্ডার বা সামাজিক পরিচয় পরিবর্তন করেন (পারফোর্স এবং অন্যান্য, ট্রান্স-ইনক্লুসিভ জেন্ডার ক্যাটাগরিজ আর কগনিটিভলি ন্যাচারাল, নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার, ২০২৩)। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক কোনো ত্রুটি না থাকলেও সমাজের কাছে নিজের কাঙ্ক্ষিত পরিচয় তুলে ধরতে তারা নাম ও পোশাক-পরিচ্ছদ পরিবর্তন করেন। 

প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন রূপান্তরিত নারী বা পুরুষ হতে চায়? এটি কি কোনো মানসিক রোগ? উত্তর হলো, না, এটি কোনো মানসিক রোগ নয়। কিছু মানুষ জন্মগতভাবে পুরুষ বা নারী হলেও তাদের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি ও মানসিক সচ্ছলতা বিপরীত লিঙ্গের পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মপরিচয়ের বিষয়। অস্ত্রোপচারের আগে এদের সন্তান জন্মদানে কোনো জৈবিক বাধা থাকে না।

আশা করি, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়গুলো বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা হলেও স্পষ্ট করা গেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো নিয়ে সমাজ থেকে ভুল ধারণার অবসান ঘটবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে অবহেলা করে কোনো সমাজ বা দেশ এগোতে পারে না। যেহেতু সেক্স সম্পূর্ণ জৈবিক একটি বিষয় এবং এতে মানুষের কোনো হাত নেই, তাই কাউকে অসম্মান করার সুযোগ নেই। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, রূপান্তরিত মানুষদের প্রতিও মানবিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা উচিত। মনে রাখতে হবে, কেউ শখ করে নিজের বায়োলজিক্যাল আইডেন্টিটি পরিবর্তন করে না। সেক্স বা জেন্ডার পরিচয় যাই হোক না কেন, সর্বোপরি মানুষকে 'মানুষ' হিসেবে দেখার মানসিকতা আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

ড. নাদিম মাহমুদ গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: nadim.ru@gmail.com