০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পার্বত্য চট্টগ্রাম: কেন্দ্র-প্রান্তের বৈষম্য ও না-মেটা অধিকারের হিসাব

কাপ্তাই বাঁধের মাধ্যমে এক লাখ মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া থেকে শুরু করে আজকের ৮৫ শতাংশ দারিদ্র্যের হার—পাহাড়ের মানুষ কি নিজেদের দেশেই ‘প্রান্তিক’ নাগরিক?

পার্বত্য চট্টগ্রাম: কেন্দ্র-প্রান্তের বৈষম্য ও না-মেটা অধিকারের হিসাব
কাপ্তাই বাঁধের ইতিহাস থেকে শুরু করে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছর পর আজও ভূমির অধিকার ও সমতার জন্য লড়ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি।

এম. টি. ইসলাম এম. টি. ইসলাম

Published : 10 Aug 2026, 03:39 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আদিবাসী দিবস উদ্‌যাপিত হয়ে গেল। প্রতিবছর এই দিবসের সময় বছরে দ্বিতীয়বার সমতলের মানুষের সামনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার সুযোগ আসে। অথচ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’। এই ঐতিহাসিক চুক্তি ইতোমধ্যে ২৮ বছর পার করেছে। প্রায় এই তিন দশকেও ধোঁয়াশা থেকে গেছে এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে।

জাতীয় পত্রিকায় এবার লিখতে হয়েছে: “পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছরের বেশি সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠি কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার পায়নি। […] আদিবাসীরা নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি পাননি। অভাব, অবহেলা, বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটছে জীবন। একসময়ের শান্ত পাহাড় এখন অশান্ত। বিভিন্ন গোষ্ঠির রক্তচক্ষুর সামনে বাস করতে হচ্ছে তাদের” (সমকাল, ৮ আগস্ট ২০২৬)। জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ভূমির অধিকার’, ‘পরিচয়ের স্বীকৃতির অভাব’, ‘বঞ্চনা’, ‘অশান্ত পাহাড়’—এই উদ্বেগ শুধু সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরের নয়, এই উদ্বেগ পদ্ধতিগত বঞ্চনাজনিত, যা তাত্ত্বিক আলোচনাকে উৎসাহিত করে।

একই ভূখণ্ডে বসবাসরত জনগোষ্ঠির মধ্যে এই ধরণের বঞ্চনা ও বৈষম্যকে ব্যাখ্যার জন্য ‘ইন্টারনাল কোলোনিয়ালিজম’ বা ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’ তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইকেল হেচটার এই ধারণার প্রবর্তক। হেচটারের এই ধারণার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সিডনির অধ্যাপক রবার্ট জে. হিন্ড উল্লেখ করেন, ‘১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জাতিগত বিকাশ পর্যালোচনার জন্য’ এই তত্ত্বের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। এক দশক পরে ‘ওয়েলসের রাজনৈতিক অর্থনীতির ওপর একটি গবেষণায়ও’ এই অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়। এই গবেষণাটি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী এই ধারণার বিকাশ ঘটায়।

‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’ মূলত প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজকে দুটি পৃথক ‘গোত্রে’ ভাগ করে। এই তত্ত্বের আলোকে এই বিভাজিত সমাজের শক্তিশালী পক্ষকে বলা হয় ‘কেন্দ্র’ (কোর) আর দুর্বল পক্ষকে ‘প্রান্ত’ (পেরিফেরি)। রাউল প্রেবিশ সর্বপ্রথম এই ‘কেন্দ্র’ ও ‘প্রান্ত’ ধারণাটির ব্যবহার করেন।

১৯৭৪ সালে ইমানুয়েল ওয়ালারস্টেইন এই তত্ত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেন। তার বিখ্যাত ‘ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ তত্ত্বে তিনি এই ধারণাকে যুক্ত করেন। এই তত্ত্ব নানাভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হলেও এই তত্ত্বের মূল আলোচনার বিষয় হলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভিন্নতার মাধ্যমে সৃষ্ট বৈষম্য।

এখন প্রশ্ন হলো, এই তত্ত্ব কীভাবে বাংলাদেশের এই পার্বত্য চট্টগ্রামকে ব্যাখ্যা করে? এই প্রশ্নের উত্তর অতটা জটিল নয়। আমরা যদি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে ক্ষমতার ‘প্যারামিটারে’ বিচার করি, তবে সেখানে ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’ তত্ত্বের ওই কেন্দ্র-প্রান্ত ভেদের একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য ও বৈষম্যের রেখা স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। আয়তনের বিচারে এই ক্ষুদ্র দেশের মানুষের সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের বিচারে তাদেরকে অনায়াসে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়; যাকে ‘সমতল’ ও ‘পাহাড়’ বা ‘সমতলী’ ও ‘আদিবাসী (উপজাতি)’—আবার কখনো কখনো ‘শিক্ষিত’ ও ‘অশিক্ষিত’ বা ‘শহরবাসী’ ও ‘গ্রামবাসী’ বলে উল্লেখ করা যেতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের এই ‘পাহাড়ি’ ও ‘সমতলী’ বা ‘শিক্ষিত’ ও ‘অশিক্ষিত’ বা ‘শহরবাসী’ ও ‘গ্রামবাসী’ বিভাজন মূলত মাইকেল হেচটারের ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’ তত্ত্বের ‘কেন্দ্র’ বা ‘প্রান্ত’। বর্তমান প্রবন্ধের আলোচনার মূল বিষয় প্রথম দিকটি, অর্থাৎ ‘সমতল’ ও ‘পাহাড়’ বা ‘সমতলী’ ও ‘আদিবাসী’ কেন্দ্রিক হওয়ায়; দ্বিতীয় বিষয় অর্থাৎ ‘শিক্ষিত’ ও ‘অশিক্ষিত’ বা ‘শহরবাসী’ ও ‘গ্রামবাসী’ বিভাজন নিয়ে আলোচনা অন্য এক সময় করা যেতে পারে।

এখন এই বিভাজনের সঙ্গে সম্প্রতি জাতীয় পত্রিকায় উল্লেখিত ‘ভূমির অধিকারে বৈষম্য’, ‘পরিচয়ের স্বীকৃতির অভাব’, ‘বঞ্চনা’, ‘অশান্ত পাহাড়’—এই প্রেক্ষাপট যুক্ত করলে তা স্পষ্টই ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’ তত্ত্বের ভিত্তিকে বৈধতা প্রদান করে। আবার প্রতিনিয়ত এই ‘সমতলী’ বা ‘আদিবাসী’দের মধ্যে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী রূপ দেয়। তাই এটি বলাও অত্যুক্তি হবে না যে, এই অনিঃশেষ দ্বন্দ্ব ক্ষমতার এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করে চলেছে এবং সেই ক্ষমতার কাঠামোতে রসদ যোগাচ্ছে। মোটা দাগে এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার হলো অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য।

এই বৈষম্যের শুরু ব্রিটিশ আমলে হলেও স্বাধীন বাংলাদেশে এই বৈষম্য আরও বৈচিত্র্যময়তা লাভ করেছে। ইতিহাসে কয়েকটি ঘটনা এই ‘কেন্দ্র’ বা ‘প্রান্ত’ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— প্রথমত, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধি (সিএইচটি রেগুলেশন ১৯০০)। এই প্রবিধির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের বসতি স্থাপনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং উপজাতি-বহির্ভূত অন্য কারো সেখানে জমি কেনার অধিকার রহিত করা হয়। দ্বিতীয়ত, ১৯২০ সালের সংশোধিত পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধি ও ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫’। এই নতুন প্রবিধিগুলোর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বতন্ত্র অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এই বিশেষ অঞ্চলকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা প্রদান করে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজার হাতে ন্যস্ত করা হয়। তৃতীয়ত, ১৮৭০-এর দশকে সাধারণ ব্যবহারের বনভূমিকে ‘সংরক্ষিত বন’ হিসেবে ঘোষণা করা। চতুর্থত, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ; যার ফলে রাঙামাটি শহর প্লাবিত হয় এবং প্রায় ৫৪,০০০ একর আবাদি জমি স্থায়ীভাবে পানিতে তলিয়ে যায়, আর ‘প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আদিবাসী (প্রায় ১,০০,০০০) উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে’। সর্বশেষ, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি। এই চুক্তিগুলো যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যায় যে ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫’ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে পাহাড়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত করা হয়েছে।

উপরোক্ত অন্যান্য চুক্তির মধ্যে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে এই চুক্তি করেছে। এই কথিত শান্তি চুক্তির প্রারম্ভে বলা আছে, “বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা”। এই কথাগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু সমস্যা হলো, একই দেশের নাগরিক হওয়ায় স্বয়ং দেশের সংবিধান যেখানে সকল নাগরিককে সমান অধিকার প্রদান করেছে, সেখানে এই বিশেষ চুক্তি কেন? এটাও কি একধরনের বিভেদরেখা নয়? এছাড়াও অনেক সংবিধান বিশ্লেষক এই চুক্তিটিকে ‘আইনি সমতা’, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বা ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’র ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন। এমন দাবি থাকলেও ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে এই চুক্তিটি পাহাড়ের মানুষ মেনে নিয়েছে। কিন্তু সেই চুক্তিটিও আজও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ২৮ বছর পরেও এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ আন্দোলন করে চলেছে।

এই রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়াও বাস্তব জীবনেও পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘প্রান্তের’ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট বিদ্যমান। ২০২৩ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত ‘পোভার্টি অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যানালিসিস: চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস, বাংলাদেশ (রিপোর্ট নং ৫৪০৪৭-০০১)’ নামক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রায় ৬৭ শতাংশ পরিবার চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং ১১.১০ শতাংশ মাঝারি মাত্রার দরিদ্র।’ ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বান্দরবানে এই দারিদ্র্যের পরিমাণ আতঙ্কের মতো—সেখানে ‘পরিবারগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশই চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে’। ২০০৯ সালের একটি গবেষণা উদ্ধৃত করে বলা হয়, ওই দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্যের হার ছিল ৬০ শতাংশ, যা তখনকার জাতীয় গড়ের (৩১ শতাংশ) তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ভূমির অধিকার ও শিক্ষাকে সামনে আনা হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ওই জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪.৩০ শতাংশ) পরিবার সম্পূর্ণ ভূমিহীন’। শিক্ষার ক্ষেত্রেও পাহাড়ের মানুষ পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে জাতীয় সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশ ছিল; অথচ বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সাক্ষরতার হার ছিল যথাক্রমে ‘৩৫.৮৬, ৪৯.৭৩ ও ৪৬.১১ শতাংশ’। পরবর্তী এক দশকে এই পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দারিদ্র্যের পরিমাণ কমেনি।

মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি যেহেতু ওপরে উল্লেখিত প্যারামিটারের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, তাই সেই প্যারামিটার অন্য কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে সেটি নিয়ন্ত্রিত জনগোষ্ঠির জন্য নির্ভরতা বয়ে আনে। এটিই মূলত ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিকতা’ তৈরির পথ। হেচটারের এই তত্ত্ব ঠিক তাই বলে—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গোষ্ঠি যদি প্রশাসন, বাণিজ্য, শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে সেই অঞ্চল বা গোষ্ঠির প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে। এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিকতা’ তৈরি করে।

তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল বিষয়ে আমাদের নতুনভাবে ভাববার সময় এসেছে। কারণ, দেশের সংবিধানে সমঅধিকার থাকা সত্ত্বেও এবং বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে সেটিকে ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা থাকলেও পাহাড়ে এই বৈষম্য কেন দূর করা সম্ভব হচ্ছে না? এই বৈষম্য ও বিভেদের মূলে কি শুধুই রাজনৈতিক চিন্তা, নাকি সেটি আসলে আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোতে ঢুকে যাওয়া ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিকতা’? এই প্রশ্নের উত্তর যেহেতু এখনো অজানা, তাই এই বৈষম্যের কাঠামো নির্ণয়ের জন্য এই বিষয়ে আরও গবেষণা ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম যেভাবে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক একইভাবে এটি চলমান দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের মূল উদঘাটন করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। সেটি করা না গেলে এই পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে না।

এম. টি. ইসলাম শিক্ষক ও গবেষক। ই-মেইল: toriqul38@gmail.com