২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

এমআরডিআইয়ের আলোচনা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ‘কাঠামোগত সংস্কার’ জরুরি

“নিজেরা যদি জবাবদিহি না করি, তবে সরকার কঠোর ও বিতর্কিত বিধান চাপিয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে,” বলেন সাংবাদিক কামাল আহমেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 01:26 AM

Updated : 26 Oct 2026, 01:26 AM

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নীতিগত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের গণমাধ্যমের অংশীজনেরা।

তারা মনে করেন, সেই পদক্ষেপ বিচ্ছিন্ন বা আংশিক হওয়া যাবে না; পদক্ষেপ হতে হবে সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কারের স্বার্থে।

সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে এ পদক্ষেপ জরুরি বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তারা।

রোববার চট্টগ্রামে এ সভা করে উন্নয়ন সংস্থা মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।

এর আগে খুলনা, বরিশাল ও সিলেটেও এ বিভাগীয় মতবিনিময় সভা করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে কানাডার হাই কমিশনের অর্থায়নে কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভসের (সিএফএলআই) আওতায় এসব সভা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চতুর্থ আয়োজনে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিক ও প্রকাশক, সম্পাদক, সংবাদ সিদ্ধান্তগ্রহীতা, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

এমআরডিআই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের পেশাগত ও নৈতিক মানোন্নয়ন এবং কার্যকর স্ব-নিয়ন্ত্রণের একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো যাচাইয়ের লক্ষ্যে তারা ধারাবাহিক এ আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

সভায় এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত কার্যকর হবে, সংবাদমাধ্যমে বাইরের হস্তক্ষেপের সুযোগ তত কমবে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় নিজস্ব জবাবদিহির ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, ”সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা শুধু আমাদের একার কথা নয়; সম্পাদক, মালিক ও সাংবাদিকসহ পুরো ইন্ডাস্ট্রির সম্মিলিত মতামত।

“আইন সংশোধন করে খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নিলে বর্তমান নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির টেকসই সমাধান হবে না। একটি স্বাধীন স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে এবং নিজস্ব নৈতিক আচরণবিধির ভিত্তিতে কার্যকর স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি নিজেরা নিজেদের জবাবদিহির ব্যবস্থা না করি, তবে সরকার সাইবার আইনের মতো কঠোর ও বিতর্কিত বিধান চাপিয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে।”