২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জগদীশচন্দ্র বসু: প্রথম বাঙালি সায়েন্স ফিকশন লেখক

১৯২১ সালে তার প্রবন্ধ সংকলন ‘অব্যক্ত’-এ এটি ‘পলাতক তুফান’ নামে অন্তর্ভুক্ত হয়।

জগদীশচন্দ্র বসু: প্রথম বাঙালি সায়েন্স ফিকশন লেখক

১৯২০ সালে ফরাসি আলোকচিত্রী জর্জেস শেভালিয়ার ক্যামেরায় বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু।

কুমার প্রীতীশ বল কুমার প্রীতীশ বল

Published : 28 Oct 2026, 02:27 PM

Updated : 28 Oct 2026, 02:28 PM

বাংলা ভাষায় প্রথম সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির নাম ‘পলাতক তুফান’। আর এই অনন্য ধারার পথিকৃৎ লেখক হলেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু।

বিজ্ঞান সাধনার পাশাপাশি কথাসাহিত্যে তার এই অভিনব পদচারণার কারণে তাকে বাংলা সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির অন্যতম জনক হিসেবে স্মরণ করা হয়। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক কথাসাহিত্যকে সাধারণত ‘সায়েন্স ফিকশন’ বা ‘বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

তবে জগদীশচন্দ্র বসু নামটি উচ্চারিত হলেই আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে তার অমর আবিষ্কারের ইতিহাস, ‘গাছেরও প্রাণ আছে।’ ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহে একটি বাঙালি ব্রাহ্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জগদীশচন্দ্র। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের রাড়িখাল গ্রামে। তার পিতা ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী পুলিশ কমিশনার।

পিতা তাকে সাধারণের ধারা থেকে কিছুটা ব্যতিক্রমী উপায়ে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি বাংলা ভাষার স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, ইংরেজি শিক্ষার মোহে আচ্ছন্ন হওয়ার আগে সন্তানের শেকড় যেন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকে।

১৯১৫ সালে বিক্রমপুর সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে জগদীশচন্দ্র তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, “সেই সময়ে, ছেলেমেয়েদের ইংরেজি স্কুলে পাঠানো একটি অভিজাত মর্যাদার প্রতীক ছিল। আমাকে যে মাতৃভাষার স্কুলে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে আমার বাবার মুসলিম পরিচারকের ছেলে আমার ডান পাশে এবং একজন জেলের ছেলে আমার বাম পাশে বসত। ওরা ছিল আমার খেলার সাথী। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাদের পাখি, পশু এবং জলজ প্রাণীদের গল্প শুনতাম। সম্ভবত এই গল্পগুলোই আমার মনে প্রকৃতির কার্যকলাপ অনুসন্ধানের জন্য গভীর আগ্রহ তৈরি করেছিল...।”

২০০৪ সালে বিবিসির আয়োজিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জনমত জরিপে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন। প্রথমে তিনি বাবার মতো ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। পিতার নিষেধের কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে যেন এমন একজন মনীষী হন, যিনি নিজেকে ছাড়া আর কাউকে শাসন করবেন না।

জগদীশচন্দ্র উচ্চশিক্ষার জন্য ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়তে ইংল্যান্ডে যান। কিন্তু পরীক্ষাগারে রাসায়নিকের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সেই পড়াশোনা ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে তার ভগ্নিপতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় র‍্যাংলার আনন্দমোহন বসুর সুপারিশে তিনি কেমব্রিজের ক্রাইস্টস কলেজে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন।

১৮৮৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে বিএসসি এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (ন্যাচারাল সায়েন্সেস ট্রাইপোস) ডিগ্রি পান। কেমব্রিজে তার শিক্ষকদের মধ্যে মাইকেল ফস্টার, জেমস ডিওয়ার এবং ফ্রান্সিস ডারউইনের মতো ব্যক্তিরা ছিলেন। কেমব্রিজে থাকাকালীন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সূত্রপাত ঘটে। এছাড়া কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তার সখ্যতা ও বন্ধুত্বের কথা আজ সর্বজনবিদিত। ১৮৮৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জগদীশচন্দ্র বসু নারী ও সমাজকর্মী অবলা বসুকে বিয়ে করেন।

জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি বহুবিদ্যাবিশারদ জগদীশচন্দ্রের সাহিত্যপ্রীতিও উল্লেখ করার মতো। ১৮৯৬ সালে তিনি ‘নিরুদ্দেশের কাহিনি’ নামে একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি রচনা করেন। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে তার বিখ্যাত বাংলা প্রবন্ধ সংকলন ‘অব্যক্ত’-এ এটি ‘পলাতক তুফান’ নামে অন্তর্ভুক্ত হয়। শিরোনাম পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি কাহিনির পরিসরও কিছুটা বৃদ্ধি করেছিলেন।

এটিই এখন পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সায়েন্স ফিকশন হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। গল্পটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন অনুবাদক বোধিসত্ত্ব চট্টোপাধ্যায়। সায়েন্স ফিকশনটির ঐতিহাসিক মূল্যায়ন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন আমরা সেই সময়কার বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই। তখন বিশ্বজুড়ে সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জগৎটি কেবল শৈশবকাল অতিক্রম করছিল।

পাশ্চাত্যে আধুনিক সায়েন্স ফিকশনের অগ্রদূত এইচ. জি. ওয়েলস তখন সবে তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলো (যেমন—টাইম মেশিন ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত) লেখা শুরু করেছেন, আর জুল ভার্নের হাত ধরে সায়েন্স ফিকশনের আধুনিক রূপ নিতে শুরু করেছে, ঠিক সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বাংলার মাটিতে বসে সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তন ও বৈজ্ঞানিক বোধ থেকে জগদীশচন্দ্র বসু বাংলা সাহিত্যের প্রথম সায়েন্স ফিকশন ‘পলাতক তুফান’ উপহার দিয়েছিলেন।

গল্পটির সূচনা হয় আবহাওয়া অফিসের একটি ভুল পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে। সিমলার আবহাওয়া অফিস জোর দিয়ে ঘোষণা করে যে, “একটি ভয়াবহ সামুদ্রিক সাইক্লোন বা তুফান তীব্র বেগে কলকাতার দিকে ধেয়ে আসছে।” এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চারদিকে আতঙ্ক ও হুলুস্থুল পড়ে যায়। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে শুরু করে।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই ঝড়ের কোনো দেখা মেলে না। আবহাওয়া অফিসের সমস্ত বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণিত হয়। এই নিয়ে যখন চারদিকে হাস্যরস ও সমালোচনা চলছে, তখনই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য।

জানা যায়, একটি জাহাজ যখন মাঝসমুদ্রে ওই ঝড়ের ঠিক মুখোমুখি পড়েছিল, তখন জাহাজে থাকা এক বাঙালি যাত্রী সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত করতে এক অভিনব কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। তিনি জাহাজে থাকা সুগন্ধি চুলের তেল ‘কুন্তলীন’-এর পুরো এক বোতল সমুদ্রের পানিতে ঢেলে দেন। তেলের একটি পাতলা আস্তরণ সমুদ্রের পানির ওপর ছড়িয়ে পড়তেই সেই প্রকাণ্ড ঢেউ ও তুফান মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত হয়ে যায়। আবহাওয়া অফিস যে তুফানকে ট্র‍্যাক করছিল, তা মূলত এই তেলের প্রভাবে মাঝসমুদ্রে মিলিয়ে গিয়েছিল। এমন এক কাল্পনিক ও কৌতুকপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই গল্পটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গল্পটি নিছক কল্পকাহিনির মোড়কে লেখা হলেও এর পেছনে একটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক সত্য লুকিয়ে রয়েছে। তা হলো তরলের পৃষ্ঠটান বা সারফেস টেনশন। তেলের পৃষ্ঠটান পানির তুলনায় অনেকটাই কম। সমুদ্রের পানির ওপর তেল ঢেলে দেওয়া হলে তা খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে একটি পাতলা আস্তর তৈরি করে। এই তেলের আস্তরের কারণে বাতাস সরাসরি পানির সংস্পর্শে এসে বড় ঢেউ বা তরঙ্গ তৈরি করতে পারে না, ফলে উত্তাল সমুদ্র অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে জানা যায়, প্রাচীনকালের নাবিকেরা উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ শান্ত করতে তেল ব্যবহারের কৌশল জানতেন এবং ১৭৭৪ সালে বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্র‍্যাঙ্কলিন লন্ডনের ক্লাফম পন্ডে এটি নিয়ে বাস্তব পরীক্ষাও চালিয়েছিলেন। জগদীশচন্দ্র বসু এই বৈজ্ঞানিক সত্যটিকেই তার গল্পের ভিত্তি করেছিলেন।

পাশাপাশি, ব্যবসায়ী হেমেন্দ্রমোহন বসু (যিনি ‘এইচ বোস’ নামে পরিচিত ছিলেন) ১৮৯৬ সালে সুগন্ধি তেল প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ চালু করেছিলেন। নিজের আবিষ্কৃত তেলের কার্যকারিতাকে বৈজ্ঞানিক স্তরে উন্নীত করে গল্পটির মাধ্যমে জগদীশচন্দ্র বসু এক অনন্য ও বুদ্ধিদীপ্ত ‘বিজ্ঞাপন’ তৈরি করেছিলেন। একইসঙ্গে ব্রিটিশ আমলের আবহাওয়া অফিসের অহংকারী ও ভারী যন্ত্রপাতি কীভাবে সাধারণ এক বোতল তেলের কাছে হেরে গেল, তা ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কোনো নাম প্রকাশ না করে ‘নিরুদ্দেশের কাহিনি’ নামে গল্পটি হেমেন্দ্রমোহন বসু ঘোষিত ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়। এটি প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০ টাকা অর্জন করে। বিচারকমণ্ডলী বৈজ্ঞানিক ভাবনার সঙ্গে হাস্যরসের এমন মিশ্রণ দেখে মুগ্ধ হয়ে এটিকে উচ্চমানের সৃষ্টি হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন।

জগদীশচন্দ্র যখন বিজ্ঞানের পাশাপাশি এমন রসাত্মক কল্পবিজ্ঞানমূলক সাহিত্য রচনা করেন, তখন তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু রবীন্দ্রনাথ আনন্দিত ও আপ্লুত হন। রবীন্দ্রনাথের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে জগদীশচন্দ্র বসু তার বৈজ্ঞানিক ও মননশীল প্রবন্ধগুলো নিয়ে ‘অব্যক্ত’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

কল্পবিজ্ঞান লেখক ও গবেষক সিদ্ধার্থ ঘোষ ১৯৮৯ সালে তার ‘বাংলা সায়েন্স ফিকশনের ঐতিহ্য’ নিবন্ধে গল্পটিকে ‘একটি অনবদ্য এস. এফ. কাহিনি’ (এস.এফ. মানে সায়েন্স ফিকশন) বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বিশ্লেষক আশরাফ আহমেদ তার একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন যে, সিদ্ধার্থ ঘোষ গল্পের বিষয়বস্তুর চেয়েও ‘নিরুদ্দেশের কাহিনি’ গল্পের উপশিরোনাম হিসেবে ব্যবহৃত ‘বৈজ্ঞানিক রহস্য’ শব্দগুচ্ছের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন।

সায়েন্স ফিকশনের বাংলা পরিভাষা ‘বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি’ শব্দগুচ্ছটি জনপ্রিয় হওয়ার বহু আগেই জগদীশচন্দ্র স্বাধীন ও সচেতনভাবে এই পরিভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া ২০০৭ সালে ‘অব্যক্ত’ বইটির পুনর্মুদ্রণ সংখ্যায় শ্যামল চক্রবর্তীও ‘পলাতক তুফান’কে বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের প্রথম রচনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

জগদীশচন্দ্র বসুর পাশাপাশি বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের গোড়াপত্তনে আরও কজন লেখকের অবদান অনস্বীকার্য। জগদানন্দ রায়ের ‘শুক্র ভ্রমণ’ এবং হেমলাল দত্তের ‘তার রহস্য’ এই ধারার প্রারম্ভিক যুগের অন্যতম নিদর্শন। জগদানন্দ রায়ের ‘শুক্র ভ্রমণ’ এইচ. জি. ওয়েলসের বিখ্যাত ‘দ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস’ (১৮৯৮) প্রকাশের আগেই রচিত হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘কুহকের দেশে’ এবং হেমেন্দ্রকুমার রায়ের ‘মেঘদূতের মর্তে আগমন’ বাংলা সায়েন্স ফিকশনের পথকে আরও প্রশস্ত করে। অন্যদিকে, বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নারীবাদী বিজ্ঞান কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। স্বাধীন বাংলাদেশে কাজী আবদুল হালিমের ‘মহাশূন্যের কান্না’ পূর্ব বাংলার প্রথম আধুনিক সায়েন্স ফিকশন হিসেবে বিবেচিত।

বিজ্ঞান সাধনার পাশাপাশি সাহিত্যে রোমাঞ্চ ও কৌতুকের মেলবন্ধন ঘটিয়ে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বাংলা সায়েন্স ফিকশনের যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৭৮ বছরের বর্ণাঢ্য জীবন কাটিয়ে ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর এই বিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির লেখক মারা যান। তবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তার সৃজনশীলতার আলো চিরকাল দীপ্ত থাকবে।