'সবার উচিৎ আমার ওপর দিয়ে রাস্তা পার হওয়া'- একান্ত সাক্ষাৎকারে ফুট ওভারব্রিজ

ব্যস্ত রাস্তা। সাঁই সাঁই করে ছোটো-বড়ো, সুন্দর-কুশ্রী নানা গাড়ি চলছে। এরই মধ্যে কিছু মানুষ দৌড়ে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছে। একটু দূরেই ইয়া বড়ো একটা ফুট ওভারব্রিজ। ওভারব্রিজে না উঠে অমন দৌড়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া কি ঠিক বলো?

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/এমএইচ-এনজে/সাগর/এইচবি/অক্টোবর ১৬/১১বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 May 2013, 05:21 AM
Updated : 18 May 2013, 05:21 AM

আমি কিন্তু খুব ভালো ছেলে, তাই সিঁড়ি ভেঙ্গে ফুট ওভারব্রিজে উঠেছি রাস্তা পার হবো বলে। হঠাৎই ব্রিজটা ডেকে বললো কি, ভাইয়া, সবারই তো সাক্ষাৎকার নিলে। আমার একটা সাক্ষাৎকার নেবে না? শুনে তো আমি প্রথমটায় হকচকিয়েই গেলাম। বেশ কিছুক্ষণ লাগলো আত্মস্থ হতে। একটা ফুট ওভারব্রিজ, সে-ও কিনা কথা বলে! পরে ভাবলাম, অনেকদিনই তো তোমাদের জন্য কারো সাক্ষাৎকার নেয়া হয় না। নেই না, ফুট ওভারব্রিজটার একটা সাক্ষাৎকার! তো তখন ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ফুট ওভারব্রিজটার সাক্ষাৎকার নিয়ে নিলাম। চলো তাহলে শুনে আসি, কি বলেছে সেই ব্রিজ ভাইয়া।

: তো ব্রিজ ভাইয়া, সাক্ষাৎকার কিভাবে শুরু করা যায়, বলেন তো?

: ওই একভাবে শুরু করে দাও। শুরু আর শেষ কি আলাদা নাকি? এই আমাকে দেখো, বলো তো, আমার মাথার দিক কোনটা, আর লেজের দিক কোনটা?

: তাই তো! এভাবে তো কখনো ভেবে দেখি নি!

: তা দেখবে কেন! তোমাদের তো কেবল তাড়াহুড়ো; কিভাবে আগে যাওয়া যায়। আর সেই নেশায় কেমন পাগলের মতো দৌড়ে দৌড়ে রাস্তা পার হও। আচ্ছা, একটু কষ্ট করে আমার উপর দিয়ে রাস্তা পার হতে কী হয়!

: আসলে... সে তো অনেক কষ্টের ব্যাপার না... আর সময়ও তো লাগে।

: তাই বলে এভাবে রাস্তা পার হবে! নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে যখন দুর্ঘটনা ঘটে, তখন সবাই মিলে ফুট ওভারব্রিজ চাও, আর আমাদের বানানো হলে সেটা আর ব্যবহার করো না। আমাদের এভাবে অব্যবহৃত পরে থাকতে বুঝি একটুও কষ্ট লাগে না!

: তোমার ওপর দিয়ে রাস্তা পার হলে বুঝি তোমরা খুশি হও?

: হবো না আবার! অবশ্যই খুশি হই। সবার উচিৎ আমার ওপর দিয়ে রাস্তা পার হওয়া। এতে করে সব্বাই দুর্ঘটনার হাত থেকেও রক্ষা পাবে, আবার আমাদেরও যথাযথ ব্যবহার হবে।

: আচ্ছা, তোমার কাজ কি শুধুই রাস্তা পার করে দেওয়া? শুধু এই কারণেই এতো ঘটা করে তোমাদের বানানো হয়?

: হু, আমার কাজ শুধুই রাস্তা পার হতে সাহায্য করা। হু হু, এ কী আর যা তা কাজ নাকি!

: তা তো বটেই। আচ্ছা, তোমরা যে ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে একা একা দাঁড়িয়েই থাকো, একটুও নড়ো না, তোমাদের অস্বস্তি লাগে না?

: নাহ্... অস্বস্তি লাগবে কেন? আমাদের তো বানানোই হয় ওভাবে একা একা দাঁড়িয়ে থেকে তোমাদের রাস্তা পার হতে সাহায্য করতে। আবার দেখো না, আমার দু’পাশে তোমাদের জন্য ঘোরানো সিঁড়িও থাকে। সবই তোমাদের সুবিধার কথা ভেবেই বানানো হয়েছে।

: তোমার ওপর দিয়ে যদি কেউ পার না হয়, তার কি কোনো শাস্তি হতে পারে?

: হতে পারে না আবার! আলবত হতে পারে। আসলে হওয়ারই কথা, কিন্তু এতো বেশি মানুষ আমার উপর দিয়ে পার না হয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে পার হয়, যে পুলিশরা কিছু বলতেই পারে না। তবে চাইলে পুলিশ কিন্তু এজন্য তোমাকে ধরে নিয়ে যেতে পারে। চাই কি, তোমাকে এক-আধ দিন আটকেও রাখতে পারে।

: তো, ব্রিজ ভাইয়া, আজকে একদিনেই তো অনেক কথা হলো, এখন তাহলে আমরা সাক্ষাৎকারটা শেষ করি, কেমন?

:

হ্যাঁ, শেষ করা যাক। তো কিডজ বন্ধুরা, তোমরা ভালো থেকো, আর রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় খুবই সাবধান থেকো। আশপাশে ফুট ওভারব্রিজ থাকলে অবশ্যই সেটা দিয়েই রাস্তা পার হবে। মনে রাখবে, মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার নিজের জীবন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক