রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে ‘গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার’
“রেড মিট যখন মানুষ অ্যাভয়েড করবে, শাকসবজি দিয়ে যখন পেট ভরা যায়—সবুজ শাক দিয়ে, তাতে মানুষের স্বাস্থ্যেরই ভালো হয়।”
রোগ হওয়ার পর মোকাবিলার চাইতে আগেই সতর্ক হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আপনারা আমাদের ভরসাস্থল আল্লাহর পরে। জনাব তারেক রহমান এখন কিন্তু... কিউরের চাইতে প্রিভেনশনের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছেন।
“এবং আমার মনে হয় হার্ট ডিজিজে মৃত্যু এখন সবচেয়ে বেশি এবং খুব মারাত্মক, হৃদয়বিদারক।”
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই সচেতন এবং সচেতনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। কিন্তু অনেক সময় সেই সচেতনতাকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করি না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হৃদয়ের কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
“শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেই জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নরসিংদী-৪ আসনের চারবারের এমপি সাখাওয়াত বলেন, “আমাদের নেতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায়... জাতিকে শূন্য থেকে টেনে এনে একটা দায়িত্ব দিলেন, উনি শুরু করেছিলেন মানুষের স্বাস্থ্য দিয়ে।
“উনি একজন বাংলাদেশের নামকরা ডাক্তারকে সাথে নিয়ে যেতেন, বক্তব্য দিতেন শীতের মধ্যে পুঁইশাক, পালংশাক, লালশাক খাওয়ার জন্য। এটা তো হার্টের উপকার হয়। রেড মিট যখন মানুষ অ্যাভয়েড করবে, শাকসবজি দিয়ে যখন পেট ভরা যায়—সবুজ শাক দিয়ে, তাতে মানুষের স্বাস্থ্যেরই ভালো হয়।”
চিকিৎসকদের সমাজের ‘শ্রেষ্ঠ মানুষ’ বর্ণনা করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানুষের দুঃসময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান। কোভিড মহামারী থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। তাদের এই মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সফিউদ্দিন৷ অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেণ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির, আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
