হাম: হাসপাতালে ভর্তি রোগী এখনো সাড়ে ৩ হাজারের উপরে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, হাসপাতালগুলোতে ১ মে ভর্তি ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন; ১ জুন সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৮০।
দেশের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার দাবি সরকারের তরফ থেকে এলেও হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা খুব একটা কমেনি।
বুধবার জুলাই মাসের প্রথম দিনেও দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ হাজার ৬২৭ জনের ভর্তি থাকার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকার মধ্যে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রকাশ শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তাদের হিসাবে, গত ১ মে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশু ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন। এক মাস পরে ১ জুন এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৮০ জন।
কিন্তু শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার সরকারি দাবির প্রায় এক মাস পার হলেও হাসপাতালে রোগীর চাপ খুব একটা কমেনি; এখনো তা সাড়ে তিন হাজারের উপরেই রয়েছে।
টিকা কর্মসূচির পর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও সেভাবে কমেনি। কমেনি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছে সরকার।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৭ জনের শরীরে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ৬২৬ জন মারা গেছে।
এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৬৯ জন ঢাকায় মারা গেছেন; রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮১, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে ৮ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯৫১ জন লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮২ জন।
এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৪০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৭, সিলেট বিভাগে ৬৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০০, বরিশাল বিভাগে ১২১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩২, খুলনা বিভাগে ৬০ ও রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ২৩ জন ভর্তি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ হাজার ৫০৯ জন। এর মধ্যে ৮১ হাজার ৮৮২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ দুই হাজার ২৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ১৩২ জন।
