১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর ‘পিক’ সময় আসছে: প্রতিমন্ত্রী

পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার থেকে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করছে সরকার।

সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর ‘পিক’ সময় আসছে: প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 06:49 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার থেকে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করার কথা বলেছেন তিনি। 

বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের এক আলোচনা সভায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৩৮ জন মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের আট দিনেই ১১ হাজার ৯২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন ৩৬ জন। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এখন একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য সমস্যা চলছে—ডেঙ্গু। ডেঙ্গু আবার বেড়েছে। গতকাল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে। তারও দুই দিন আগে আমরা পূর্বাভাস দিয়েছিলাম যে, এই মাসের শেষ সপ্তাহে এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর পিক সময় আসতে যাচ্ছে।”

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়; তখন হাসপাতালে শয্যা, স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের সংকট দেখা দিতে পারে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, “আমরা দুই মাস আগে থেকেই এসব স্টক করেছি। এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতিতে আমাদের কার্যক্রম চলছে, তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু টেস্ট কিট এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন আমাদের মজুদ আছে। পরবর্তীতেও যেন এই সরবরাহ অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি।” 

হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা চালু করার কথা তুলে ধরে 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে ‘পিক’ সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য শয্যাগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গুর জন্য শয্যার সংখ্যা বাড়ানো যাবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সভা করেছি। আমরা ডেঙ্গু বিষয়ক একটি তিন মাসের ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমরা সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে তিন মাসব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করব।”

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের এই কর্মসূচির দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। একটি হল ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং দ্বিতীয়টি মানুষকে সচেতন করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে সম্পৃক্ত করে যার যার ঘর এবং যার যার কর্মস্থল যদি আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে ঘরে থাকা আত্মীয়স্বজন এবং কর্মস্থলে থাকা সহকর্মীদের পাশাপাশি নিজেদেরও রক্ষা করতে পারব। পাশাপাশি আপনারা জানেন, আমরা সার্বিকভাবেই নগরগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিচ্ছি। সেখানেও এই উদ্যোগ কাজ করবে।”

সরকারের দুটো লক্ষ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং মৃত্যুর হার কমানো—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

“আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের কাজ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কাজে একসঙ্গে কাজ করছে।”

আর মৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা ডাক্তারদের রিফ্রেশার ট্রেনিং দিয়েছি। সোসাইটি অব মেডিসিনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি। তারা ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল তৈরি করেছে। 

“ইতোমধ্যে ৩০০ জন ডাক্তারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গতকাল আমরা সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সারা দেশেও আমরা প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাব।”

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসরকারি খাতকেও চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এম এ মুহিত বলেন, “হঠাৎ করে অযাচিতভাবে ওষুধ বা চিকিৎসার দাম বাড়িয়ে দেওয়া যাবে না এবং ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”