পনের বছর বয়সি মায়ের পর হামে আক্রান্ত তার ২৩ দিনের শিশু
২০১১ সালে জন্ম নেওয়া ওই কিশোরী মা কখনো হামের টিকা নেননি।
মাত্র ১৫ বছর বয়সি মা মোছা. শাহিনুর সন্তান জন্মের কিছুদিন আগেই হামে আক্রান্ত হন। মাসখানেক আগে তিনি সুস্থ্য হলেও এখন তার ২৩ দিন বয়সি সন্তানও হামে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি।
গত শনিবার রাতে হামে আক্রান্ত নবজাতকে নিয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আসে শাহিনুর ও তার পরিবার। তাদের গ্রামের বাড়িও শরীয়তপুরে। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় বলে তথ্য দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার কিশোরী শাহিনুর বলেন, “আমার আগে হাম হয়েছিল। পরে বাচ্চা জন্মের পর তারও হাম হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে আমার সন্তান ভর্তি।’’
শাহিনুরের মা ফরিদা আক্তার বলেন, “আমরা শুরুতে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট হাসপাতালে ছিলাম। পরে এখানে আসছি। দেশের পরিস্থিতি ভালা না, তাই মেয়েরে বিয়ে দিছিলাম। এখন দুজনই অসুস্থ্য।”
শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, বাংলাদেশের নিয়ম অনুসারে ৯ এবং ১৫ মাস বয়সী শিশুরা হামের টিকা পায়। এর আগে সাধারণত সেভাবে হাম দেখা যায়নি। কিন্তু এবার বিগত সময়ের সব সব ধারণা ভেঙে যাচ্ছে। খুব অল্প বয়সি শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। ১৫ বছর বয়সি এই মাও হামের টিকা পায়নি।
শিশু হাসপাতালের তথ্য বলছে, এ বছর মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাম নিয়ে এই হাসপাতালে ২ হাজার ৬২ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে ৬৪৫ জনের বয়স ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এই পর্যন্ত মারা গেছে মোট ৬৬ জন।
শাহিনুরের সন্তানের অবস্থা বিষয়ে শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে আসার পর শিশুটির অবস্থা ভালো ছিল না। একদিন হলো আইসিইউতে রাখা হয়েছে। উচ্চমানের কিছু ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই শিশুর অবস্থা উন্নতির দিকে।”
হামের প্রকোপ ও টিকার ব্যাপারে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে টিকা দেওয়ার পরিসংখ্যান দেখিয়ে শুধু সফলতার কথা শোনানো হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি এখন দেখা যাচ্ছে। ওই নবজাতকের মায়ের জন্ম ২০১১ সালে। তাই ওই সালের শেষে অথবা ২০১২ সালে তার টিকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেনো তিনি টিকা পাননি সেটি এখন খতিয়ে দেখতে হবে।
“সেই সময়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জনের দায়িত্বে কে ছিলেন, তাকে খুঁজে বের করে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।”
