মস্কো উৎসবে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের ‘নির্বাণ’
সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার সিনেমার মধ্যে অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে মাত্র ১১টি সিনেমা। সেই সিনেমার মধ্যে আমাদের সিনেমাটি স্পেশাল জুরি পুরস্কার জিতেছে।
মস্কো আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৬তম আসরে প্রতিযোগিতা করেছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘নির্বাণ’। উৎসবে বিশেষ জুরি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে সিনেমাটি। পুরস্কারটি গ্রহণ করেছেন সিনেমাটির পরিচালক আসিফ ইসলাম।
গেল ১৯ এপ্রিল শুরু হওয়া এই উৎসবের সমাপনী আয়োজন ছিল ২৬ এপ্রিল। সেখানেই পুরস্কারটি গ্রহণ করে উচ্ছ্বসিত নির্মাতা।
মোবাইলে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি এই পুরস্কার। সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার সিনেমার মধ্যে অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে মাত্র ১১টি সিনেমা। সেই সিনেমার মধ্যে আমাদের সিনেমাটি স্পেশাল জুরি পুরস্কার জিতেছে।”
পুরস্কার পাওয়ার পর ঘোরের মধ্যে ছিলেন নির্মাতা। তা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সিনেমার নাম ঘোষণার পর আমি চমকে উঠি। পুরস্কার হাতে নেওয়ার পরও একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এই অর্জনটা আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।”
শনিবার রাশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন নির্মাতা। আট দিনের সফর শেষে বাংলাদেশে ফিরছেন নির্মাতা।
উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন থেকেই সেখানে ছিলেন ‘নির্বাণ’নির্মাতা আসিফ ইসলাম ও অভিনেত্রী প্রিয়াম অর্চি। উৎসবের প্রথম দিন নির্মাতা-অভিনেত্রী হেঁটেছেন লাল গালিচাতেও। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা।
সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ বলেন, “এটা আমাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশকে নিয়ে এত বড় উৎসবে আসতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। শুধু তাই নয়, আমাদের সিনেমা এত বড় বড় দেশের ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লড়বে এটাও আনন্দের।”
গেল ২২ এপ্রিল উৎসবে প্রদর্শিত হয় ছবিটি। সিনেমাটি দেখে দর্শকেরা ব্যাপক প্রশংসা করেন।
এদিকে পুরস্কার পাওয়ার খবরে সিনেমার অভিনেত্রী প্রিয়াম অর্চি বলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত। নির্বাণের পেছনে আমরা যে শ্রম দিয়েছে সেটা সার্থক হলো!”
আনোয়ার হোসেন হোসেনের গল্প ও চিত্রনাট্যে ‘নির্বাণ’ নির্মাণ করেছেন আসিফ। সিনেমার গল্প নিয়ে নির্মাতার ভাষ্য, “‘নির্বাণ’ মানব আবেগের একটি কাব্যিক অন্বেষণ। তিনজন ব্যক্তির শান্তি খোঁজার একটি অসাধারণ যাত্রার ছবি এটি।”
সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ফাতেমা তুজ জোহরা, ইমরান মাহাথিসহ কয়েকজন।
এর আগে উৎসবের ৪৪তম আসরে যুবরাজ শামীমের ‘আদিম’ এবং ৪৫তম আসরে নূরুল আলম আতিক ‘পেয়ারার সুবাস’ এই উৎসবে নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়।
