ভারতে আর নয়, বাংলাদেশে গাইব: কবীর সুমন
দুর্গাপুজোর পঞ্চমীতে কলকাতার কলামন্দিরে এক অনুষ্ঠানে টেলিফোন বাজা ও লোকজনের কথায় বিরক্ত হয়েছেন এ গায়ক।
জীবনের ৭৫ বছর পেরিয়েও কবীর সুমন এখনও লিখছেন, সুর করছেন, গাইছেন। গান দিয়েই বারবার বাঙালির ভালোবাসা কুড়িয়েছেন তিনি। তবে এবার গান গাওয়া নিয়েই আফসোস ঝরে পড়ল তার কথায়।
হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা বলেছে, কিংবদন্তী এই গায়ক আর ভারতে বাংলা গান গাইবেন না, গাইলে বাংলাদেশে গাইবেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন বলেছেন, “আমি যদি আর কোথাও গান গাই তবে বাংলাদেশেই গাইব। ভারতে আর গাইব না।
“১৩ বছর পর বাংলাদেশে গিয়েছিলাম, আর তার কিছুদিন আগে দুর্গাপুজোর পঞ্চমীতে কলকাতার কলামন্দিরে একটি অনুষ্ঠান ছিল। পুরো অনুষ্ঠানটাতেই শুধু টেলিফোন বাজল, আর লোকজন কথা বলল! তাই ভারতে আর আধুনিক বাংলা গান গাইব না। গাইলে বাংলা খেয়াল গাইব। কিন্তু বংলাদেশে কেউ আমাকে অপমান করেনি। একটা ফোনও বাজেনি, একটা কথাও হয়নি। তাই গান গাইলে বাংলাদেশে গাইব, ভারতে নয়। বাংলাদেশ যেদিন বলবে আমি সেদিনই ছুটে যাব, গাইব।”
স্পষ্ট কথা বলতে কোনোদিনই ভয় পান না সুমন। তাকে পরবর্তী প্রজন্মের অবক্ষয় নিয়েও কথা বলতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, “ভয়ঙ্কর! দেখ অবজেকটিভ কন্ডিশন এখন পাল্টে গিয়েছে। যে গুরুদের আমি পেয়েছিলাম, তখন মাস্টারমশাইকে বাংলার বাঘ বলতাম আমরা। উনি ক্লাসে ঢোকার সময় বলতেন আমি কিন্তু সব দেখতে পাচ্ছি। আর উনি ক্লাসে ঢুকলেই বদমায়েশি শুরু করে দিতাম।
“এটাই আমাদের দেশ, আমরা রবীন্দ্রনাথকে পেয়েছি, রামমোহন, বিদ্যাসাগরকে পেয়েছি। লজ্জা করে না বাঙালির রবীন্দ্রনাথকে ভেঙাতে! যে বাঙালি তাসের দেশ করেন, তারা কীভাবে এমনটা করেন! অন্য কারোর যায় আসে না, তবে আমার যায় আসে। ক্ষমতা থাকলে ভজন নিয়ে এটা করে দেখাও, ওরা মেরে ফেলবে।”
