জন্মদিনে সৎ ছেলে ফারহান থেকে যে বার্তা পেলেন শাবানা আজমী

বাহাত্তর বছর পূর্ণ করলেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান এই অভিনয়শিল্পী।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 04:45 PM
Updated : 18 Sept 2022, 04:45 PM

জন্মদিনে শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসলেন শাবানা আজমী, আর এই মিছিলের মুখ হয়েছিলেন তার সৎ ছেলে ফারহান আখতারও।

রোববার বাহাত্তর বছর পূর্ণ করেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী শাবানা; অভিনয় দিয়েই শুধু নিজের সামাজিক দায় সারেন না যিনি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সৎ মার জন্ম দিনে ইনস্টাগ্রামে একটি নোট লিখেছেন বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা-অভিনেতা ফারহান আখতার, যা অনেকের হৃদয় ছুঁয়েছে।

ফারহান একটি ছবি দিয়েছেন শাবানার সঙ্গে নাচের; আর এই ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছর তার সঙ্গে শিবানির বিয়ের অনুষ্ঠানে।

এরপর ফারহান লিখেছেন- “শুভ জন্মদিন শাবানা আজমী। পারভারিশে আপনার নাচ দেখার পর থেকে আমি আপনার ফ্যান। শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে নাচ হল।”

শাবানা আজমীর সিনেমার পারভারিশ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৭ সালে, তখন ফারহানের বয়স তিন বছর।

বলিউডের খ্যাতিমান গীতিকবি, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার তখন আরেক চিত্রনাট্যকার হানি ইরানির সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই সন্তান জোয়া আক্তার ও ফারহান আখতার নিজেদের পরিচয়েই এখন বলিউডে পরিচিত।

হানির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৮৪ সাল থেকে শাবানা আজমীর সঙ্গে সংসার করেছেন জাভেদ। তবে সতীনপুত্র-কন্যাদের সঙ্গে শাবানার সম্পর্ক অটুট রয়েছে।

Also Read: জাভেদ আখতারকে বিয়ে করতে গিয়ে যে সমস্যায় পড়েছিলেন শাবানা আজমি

শাবানার জন্মদিনে শিল্পা শেঠি, প্রিয়াংকা চোপড়াসহ অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের জুহুতে পারিবারিক আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করেছেন শাবানা। এতে উপস্থিত ছিলেন অনীল কাপুর, টাবু, দিয়া মির্জা, ফারহা খান, জোয়া আখতার।

শাবানার জন্ম সদ্য স্বাধীন ভারতে ১৯৫০ সালে, তার বাবা প্রখ্যাত কবি কাইফি আজমী, মা মঞ্চ অভিনেত্রী শওকত আজমী। ফলে অভিনয় আর কাব্যগুণ জন্মসূত্রেই পেয়েছিলেন শাবানা।

মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে পাস করার পর ১৯৭৩ সালে তিনি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় ভর্তি হন।

১৯৭৪ সালে তার চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘অঙ্কুর’ দিয়ে।  শ্যাম বেনেগাল নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে যান তিনি। ‘অঙ্কুর’ এ তার দুর্দান্ত অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সত্যজিৎ রায়।   

১৯৮৩ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছরে মুক্তি পাওয়া মহেশ ভাটের ‘আর্থ’, মৃনাল সেনের ‘খণ্ডহার’ এবং গৌতম ঘোঘের ‘পার’ সিনেমা তাকে এনে দেয় তিন-তিনটি জাতীয় পুরস্কার। ১৯৯৯ সালে সত্য কাহিনী অবলম্বনে  নির্মিত বিনয় শুক্লার ‘গডমাদার’ এ তার একজন রাজনীতিবিদ এবং গ্যাংস্টারের অনবদ্য অভিনয়ের দাপটে তিনি জিতে নেন তার পঞ্চম জাতীয় পুরস্কারটি।

মুম্বাইয়ের বাণিজ্যিক সিনেমার ফাঁকে সমানতালে ‘প্যারালাল’ সিনেমায় অভিনয় করে গেছেন শাবানা। চরিত্রের প্রয়োজনে দীপা মেহতার ‘ওয়াটার’ সিনেমার জন্য মাথা মুডিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।

মঞ্চ নাটকেও শাবানার জয়জয়কার; ‘সফেদ কুন্ডলি’, ‘তুমহারি অমৃতা’, ‘আ ডল’স হাউজ’ তারেই স্বাক্ষর বহন করে। অপর্ণা সেনের ‘সোনাটা’-এ রবীন্দ্রসংগীত গেয়েও তাক লাগিয়ে দেন তিনি।  

‘পদ্মশ্রী’ ও পদ্ম বিভূষণ খেতাব পাওয়া শাবানা জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক যে কোনো নিপীড়নমূলক ঘটনায় সরব প্রতিবাদী। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বিলকিস বানু গণধর্ষণ কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন আসামির মুক্তির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো ঘটনায় লজ্জাও প্রকাশ করেন তিনি।

সিনেমায় ৪৮ বছর পেরিয়ে এখনও সক্রিয় শাবানা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক