২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ তৈরির ইতিহাস পর্দায় আনছেন সৃজিত

সৃজিত দেখাবেন ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর নির্মাণপর্ব।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 12:06 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু সিনেমা আছে, যেগুলোর আবেদন ফুরনোর নয়। সেই তালিকায় কিংবদন্তী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ নামটি জ্বলজ্বলে। কিন্তু যে সিনেমা ঘিরে কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কৌতূহল রয়েছে, সেটির নির্মাণ ও শুরুর ইতিহাস সম্পর্কে মানুষ কতটা জানেন?

সেই নেপথ্যকাহিনী এ বার বড়পর্দায় তুলে আনতে চলেছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। 

তার আগামী সিনেমা ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’; এই চলচ্চিত্রটি তুলে ধরবে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সৃষ্টির নেপথ্যের মানুষগুলোকে এবং সেই সময়ের গল্পকেও।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’ কোনও জীবনীচিত্র হবে না। আবার শুধুই কোনো সিনেমা তৈরির ইতিহাসও হয়ে উঠবে না। 

সৃজিত দেখাবেন ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর নির্মাণপর্ব।

তাতে অভিনয় করেছেন জীতু কমল, ঋত্বিক ভৌমিক, রুদ্রনীল ঘোষ, শতাক্ষী নন্দী, সৈরিতি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরিজিৎ দত্ত। 

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় আগেও বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির নানা অধ্যায়কে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরেছেন। 

সৃজিত বলেন, “ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ কী ভাবে ভাবা হয়েছিল, কী ভাবেই বা তৈরি হল, সেই ঘটনাটাই আমি বলতে চাই।”

সত্যজিৎ রায় ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ পর্দায় আনেন ১৯৬৯ সালের ৮ মে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছিল পূর্ণিমা পিকচার্স।

গল্পের দুই নায়ক গুপী ও বাঘা সঙ্গীতের অনুরক্ত, অথচ সাংগীতিক প্রতিভাহীন। এই কারণে গুপী নিজের গ্রাম আমলকী ও বাঘা তার গ্রাম হরতুকী থেকে বিতাড়িত হয়। 

পথে এক বনে দুজনের সাক্ষাৎ হয় ও সেখানে ভূতের রাজা তাদের তিনটি বর দেন। প্রথম বরে তারা যখন ইচ্ছে মনমত খাবার পাওয়ার ক্ষমতা পায়; দ্বিতীয় বরে দুই জোড়া জুতা ও দুজনের হাতে হাতে তালি দিয়ে দেশবিদেশ ঘোরার ক্ষমতা আসে।

আর তৃতীয় বরে তাদের সংগীত প্রতিভা পৌঁছায় অনন্য মাত্রায়; এমনকি তারা গান শুনিয়ে মানুষকে অবশ করে দেওয়ার ক্ষমতার অধিকারী হয়। 

এরপর দু-জনে শুন্ডী রাজ্যের রাজাকে গান শুনিয়ে তার সভাগায়ক হয়ে সেখানেই থেকে যায়। শুন্ডীর প্রতিবেশী হাল্লা শুন্ডীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে, তারা গুপ্তচরের বেশে হাল্লায় যায় ও হাল্লার রাজা ও মন্ত্রীদের সততা ও সংগীত প্রতিভা ব্যবহার করে পরাস্ত করে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।

এরপর শুন্ডীর রাজকন্যা মণিমালার সঙ্গে গুপীর ও হাল্লার রাজকন্যা মুক্তামালার সঙ্গে বাঘার বিয়ে হয়।

গুপি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তপেন চট্টোপাধ্যায় আর বাঘা চরিত্রে রবি ঘোষ; শুন্ডী রাজা হন সন্তোষ দত্ত।