সাত দশকে একুশের তিন সিনেমা
খুঁজতে গেলে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত তিনটির বেশি সিনেমা পাওয়া যায় না।
ভাষা আন্দোলনের গৌরবের ইতিহাস খুব কমই উঠে এসেছে দেশের চলচ্চিত্রে। গত সাত দশকে খুঁজতে গেলে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত তিনটির বেশি সিনেমা পাওয়া যায় না। এর মধ্যে জহির রায়হানের কালজীয় সিনেমা ‘জীবন থেকে নেওয়া’ মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে। এর ৩৬ বছর পর আসে ‘বাঙলা’ নামের একটি সিনেমা। সর্বশেষ ২০১৯ সালে অভিনেতা-নির্মাতা তৌকির আহমেদ ভাষা আন্দোলনকে সেলুলয়েডে ধরেছেন ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সিনেমায়।
‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমাটি চিরচেনা পারিবারিক কাহিনীর আবহে গল্প পরাধীনতার শেকল থেকে মুক্তিকামী মানুষের অধিকার আদায়ের গল্প, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি। যে গল্পে দেখানো হয়েছে একটি দেশ, একটি সংসার-চাবির গোছা আর আন্দোলন।
অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতা, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন, আমজাদ হোসেনসহ আরও অনেকে।
এই সিনেমার বড় বোনের চরিত্রে রওশন জামিলকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক হিসেবে রূপক অর্থে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। আর আনোয়ার হোসেন সে সময়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা, রাজ্জাক প্রতিবাদী বিদ্রোহী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি।
সিনেমাটির সাথে সিনেমায় ব্যবহৃত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, ‘এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে’ , ‘কারার ওই লৌহকপাট’ গানগুলিও অমর হয়ে আছে। সংগীত পরিচালক ছিলেন খান আতাউর রহমান।সিনেমা মুক্তি না দিতে পাকিস্তানি সরকার সে সময় নানা ধরনের পাঁয়তারা করে, জহির রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নেওয়া হয় ক্যান্টনেমন্টেও। পরে জনদাবির মুখে ছাড় মেলে সিনেমাটি। ১৯৭০ সালের ১১ এপ্রিল হলে আসে ‘জীবন থেকে নেয়া”।
‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমার পর দীর্ঘ তিনদশকের বেশি সময়ে ‘ভাষা আন্দোলন’ নিয়ে কোন সিনেমা পায়নি দর্শক। ২০০৬ সালে শহীদুল আলম খোকন নির্মাণ করেন ‘বাঙলা’ নামের সিনেমাটি। আহমদ ছফার ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে এই সিনেমাটি তৈরি হয়। অভিনয় করেন ঢাকাই সিনেমার একসময়ের নায়িকা শাবনূর, অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, মাহফুজ আহমেদসহ আরও অনেকে।
মূল চরিত্রটি করেন শাবনূর। যিনি একজন বোবা নারী। কেবল ভাষার মিছিলই ওই নারীকে করে কৌতুহলী, তাকে বাংলায় চিৎকার করার তাগিদ যোগায়। রাস্তায় বের হওয়া ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান একসময় ওই নারীকে স্পষ্টভাবে প্রথমবারের মতো ‘বাংলা’ শব্দটি উচ্চারণ করায়। কিন্তু শব্দ উচ্চারণ করে সে জ্ঞান হারায়।
‘ফাগুন হাওয়ায়’-গল্পটা ভাষা, ভালোবাসার। এমন গল্প নিয়ে তৌকির আহমেদ নির্মাণ করেন সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’। টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্পের অনুপ্রেরণায় নির্মিত হয়েছে ‘ফাগুন হাওয়া’ সিনেমা।
সিনেমায় এক মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনের সময় মানুষের চিন্তাভাবনা আর চেতনাকে তুলে ধরেছেন তৌকীর আহমেদ। সিনেমায় অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম আহমেদ, আবুল হায়াত, আফরোজা বানু, ফারুক হোসেন, সাজু খাদেম, রওনক হাসান, শহিদুল আলম সাচ্চু, আজাদ সেতু এবং বলিউডের অভিনেতা যশপাল শর্মাসহ আরও অনেকে।
ভাষা আন্দোলন নিয়ে কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণ হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রির্মাতা রফিক উদ্দিন আহমেদ পরিচালিত ‘হৃদয়ে একুশ’, শবনম ফেরদৌসীর ‘ভাষা জয়িতা’ রেকেয়া প্রাচীর ‘বায়ান্ন’র মিছিল’ উল্লেখযোগ্য।
