শান্তিনিকেতনের এক সময়ের ‘মাস্টার মশাই’ এখন নিরাপত্তা কর্মী
রবি ঠাকুরের গান তার ‘প্রাণের আরাম’।
শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত ভবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের তালিম নিতেন শোভন চক্রবর্তী। সময়ের সাথে সাথে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠছিলেন যে, নিচু ক্লাসের কিছু ছাত্র-ছাত্রীও জুটেছিল তার।
তাদের কাছে শোভন ছিলেন ‘মাস্টারমশাই’। কিন্তু তার গান শেখা এবং শোখানো দুটোই থেমে যায় কোভিড মহামারীতে।
ভাগ্যের দুর্বিপাকে পড়ে সেই সঙ্গীত শিক্ষক এখন নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। তবে অবসরে তিনি রবীন্দ্রনাথের গান চালিয়ে যান বলে জানিয়েছে ‘সংবাদ প্রতিদিন’।
এই সংবাধমাধ্যমটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শোভন বলেন, আড়াই বছর বয়সে মা পুতুল চক্রবর্তীর হাত ধরে গান শেখা শুরু। তারপর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সাধনায় মনোযোগী হন তিনি।
মহামারীতে বদলে যায় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। একের পর এক কমতে থাকে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখানো থেকে নিয়মিত আয়ও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালানোর তাগিদে বাধ্য হয়েই বেছে নিতে হয় বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর কাজ।
গান নিয়ে পড়াশোনাও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার জন্য।
শোভন চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘রবীন্দ্রনাথকে সঙ্গী করেই শান্তিনিকেতনে রয়েছি। তার গানই আমার সঙ্গী। নিরাপত্তারক্ষীর কাজের পাশাপাশি কেউ গান শুনলে বা শিখতে চাইলে সানন্দে গ্রহণ করব। রবীন্দ্রসঙ্গীত আমার জীবনে সুখ এবং পরম প্রাপ্তি।”
রবি ঠাকুরের গান তার ‘প্রাণের আরাম’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
শোভনের চাওয়া রবীন্দ্রসংস্কৃতির পরিসর আরও বিস্তৃত হোক। কেউ যদি তার কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখে উপকৃত হন তাহলে নিজের শ্রমের যথাযথ পারিশ্রমিক নিতে আপত্তি নেই তার।
