Published : 29 Jul 2026, 11:31 AM
ভারতের টেলিভিশনের অভিনেতা রাম কাপুর একটি স্বীকারোক্তি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার মৃত্যু এগিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি ‘পাশে ছিলেন’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
নেটফ্লিক্সের রিয়েলিটি শো ‘লক আপ: সাচ ইয়ে সাজা’র একটি পর্বে এ কথা নিজে মুখে বলেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
আর এ ঘটনা জানাজানির পর রামের সঙ্গে তার মা ও বোন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাক্যালাপ বন্ধ রেখেছেন বলে ভাষ্য এই অভিনেতার।
রিয়েলিটি শোয়ে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য প্রকাশের একটি পর্বে রাম তার জীবনের এ কথা ফাঁস করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বাবার মৃত্যুর পরিকল্পনায় সাহায্য করেছিলাম।’
তার কথা শোনার পর নড়েচড়ে বসেন শোয়ে উপস্থিতরা। এরপর এই ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
রাম জানিয়েছেন তার বাবার ৬৩ বছর বয়সে অগ্নাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে সময় তাকে ১৮টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছিল। ওই সময় ক্যান্সার প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে তার বাবার।
রাম বলেন, “বাবা ৭৩ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচেছিলেন। শেষ বয়সে শরীরে ক্যান্সার ফের বাসা বাঁধে। কিন্তু সে সময় বাবা আর চিকিৎসা করাতে চাইলেন না।”
রাম জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু তিনি কখনও বাবার পরিচয়ের আড়ালে থাকতে চাননি। নিজের পরিচয়ে দাঁড়াতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাই দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা জীবন কাটিয়েছেন।সেই কারণে বাবার সঙ্গে সম্পর্কও খুব একটা সহজ ছিল না।
অভিনেতা বলেন, কোভিড মহামারীর সময়ে তার বাবা সিঙ্গাপুরে ছিলেন।
রাম বলেন, “সিঙ্গাপুর থেকে গৌতমীকে (রাম কাপুরের স্ত্রী) বাবা বলেছিলেন যে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চান।ফোনে আমরা সবকিছু নিয়ে আলোচনা করি। মূলত তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি আর এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান না। আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি কি আমাকে মরতে সাহায্য করবে?’”
প্রথমে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা।
রামের কথায়, “আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, ‘তুমি এ সব কী বলছ’”
কিন্তু পরে তার বাবা বুঝিয়ে বলেন, রাম পাশে না থাকলেও তিনি একাই শেষ সময়ের মুখোমুখি হবেন। কিন্তু, জীবনের শেষ লগ্নে কেউ অন্তত তার হাতটা শক্ত করে ধরে থাকুক, সেই আশায় ছেলেকে মনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
রাম বলেন, “বাবা চেয়েছিলেন, শেষ মুহূর্তে আইসিইউতে ছেলে যেন তার পাশেই থাকে। আমি বাবার কথা রাখি, তার পাশে ছিলাম। কেউ জানতে পারেননি যে তার চিকিৎসা আসলে চলছিল না।”
অভিনেতা আরও বলেছেন, তার বাবার ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর কেউ যেন কান্নাকাটি না করে এবং মৃত্যুর দিনেই যেন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
রাম বলেন, “সবাই রাজার মত বাঁচতে চায়। আমার বাবা রাজার মতই বিদায় নিয়েছেন।”
এই সিদ্ধান্তের জেরে পরিবারের বাকি সদস্যের সঙ্গে অভিনেতার সম্পর্কেও গভীর প্রভাব পড়ে।
রাম বলেন, “আমার মা এবং বোন আজও আমার সঙ্গে কথা বলেন না। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে।”
মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখার পর নতুন করে বাঁচতে শিখেছেন জানিয়ে রাম তার সহ-প্রতিযোগীদের উদ্দেশে বলেন, এই ঘটনার পর মৃত্যু নিয়ে তিনি ভীত নন।