সাংস্কৃতিক জোটে গোলাম কুদ্দুছই সভাপতি, সম্পাদক আহকাম উল্লাহ

শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো জরুরি,“ আলোচনায় মফিদুল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2022, 03:58 PM
Updated : 9 Sept 2022, 03:58 PM

দুই বছরের জায়গায় আট বছর পর সম্মেলন হলেও অনুমিত কমিটিই এল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটে।

শুক্রবার দিনব্যাপী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গোলাম কুদ্দুছকে আবারও সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সামরিক শাসনামলে রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিপূরক হিসেবে সংস্কৃতিকর্মীদের তৎপরতায় গড়ে উঠেছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। তবে প্রতিবাদী সেই কণ্ঠ এখন স্তিমিত বলে অভিযোগ রয়েছে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে।

প্রতিষ্ঠার পর সাংস্কৃতিক জোটের কমিটি কখনোই ব্যালটে হয়নি, এবারও তাই হয়েছে।

ফের সভাপতি মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গোলাম কুদ্দুছ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে মূল চ্যালেঞ্জ। দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলায় যারা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে লড়াই অব্যাহত রাখবে জোট। পাশাপাশি সংস্কৃতিকর্মী এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ে সরব থাকবে সাংস্কৃতিক জোট।“

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন রামেন্দু মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, মামুনুর রশিদ, মফিদুল হক, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সারা যাকের।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় কাউন্সিল অধিবেশন, যার শেষ পর্বে আসে নতুন কমিটির ঘোষণা।

ভারপ্রাপ্ত থেকে সাধারণ সম্পাদক হওয়া আহকাম উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সারাদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে আমরা জাতীয় সংস্কৃতি সমাবেশ করব।

“এর মধ্যে দিয়ে আমরা সমাজে সম্প্রীতির বার্তা দেব। এছাড়া বছরব্যাপী নানা রকম কর্মসূচি পালন করা হবে।"

সংস্কৃতির সব শাখার কর্মীদের নিয়েই নতুন কমিটি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই কমিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদী রূপকে এগিয়ে নেবে৷ মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকবে।”

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, “রাষ্ট্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, আর সমাজ সাম্প্রদায়িকতায় ডুবে যাচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পথে এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী? আমাদেরকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে।

“আমরা সরকারের কাছে ৪০০ উপজেলায় উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম, সেটা হয়নি। শিল্পকলায় আধুনিক মঞ্চ হয়েছে আটটি জেলায়। এখন সেই মঞ্চ কত টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে; সেখানে এসি, বিদ্যুৎ বিল কত খরচ হয়- তার নিরিখে যদি মিলনায়তন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়- তবে সেটি তো সংস্কৃতিকর্মীরা ব্যবহার করতে পারবে না। সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য মিলনায়তন ফ্রি করে দিতে হবে।”

শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো ‘জরুরি’ মন্তব্য করে মফিদুল হক বলেন, “স্কুল-কলেজে যে সাংস্কৃতিক উপকরণ দেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তার নজরদারি বাড়াতে হবে।"

শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন অনুষ্ঠান এখন ‘অনেক বেশি প্রশাসন নির্ভর’ হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ডিসি, পুলিশ সুপার; কোথাও র‍্যাবের কর্মকর্তা মঞ্চে প্রধান অতিথি হন। প্রবন্ধ পড়ার জন্য হয়তো কোনো সাহিত্যিক বা অধ্যাপককে ডাকা হয়। কিন্তু প্রশাসনের কাজ কী সেগুলো?

“সাংস্কৃতিক সংগঠনকে হয়ত কিছু অংশে পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য যুক্ত করা হয়, কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয়- আমি বলব৷ সংস্কৃতিকর্মীদের মাধ্যমেই এসব অনুষ্ঠান হতে হবে।”

এক নজরে সাংস্কৃতিক জোটের কমিটি

উপদেষ্টা পরিষদ

রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, আসাদুজ্জামান নূর, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সারা যাকের, লায়লা হাসান।

নির্বাহী পরিষদ

সভাপতি: গোলাম কুদ্দুছ

সিনিয়র সহ-সভাপতি: ড. মুহাম্মদ সামাদ

সহ-সভাপতি: লিয়াকত আলী লাকী, ঝুনা চৌধুরী, সালাউদ্দিন বাদল, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, মিলন কান্তি দে, মিনু হক, কামাল পাশা চৌধুরী, মীর বরকত, কুমার বিশ্বজিৎ, মিজানুর রহমান।

সাধারণ সম্পাদক: আহ্কাম উল্লাহ

সহ-সাধারণ সম্পাদক: আহাম্মেদ গিয়াস

সাংগঠনিক সম্পাদক: আজহারুল হক আজাদ

অর্থ সম্পাদক: আক্তারুজ্জামান

তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: মানজার চৌধুরী সুইট

দপ্তর সম্পাদক: শিরিন ইসলাম

প্রচার সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান রনি

প্রকাশনা সম্পাদক: ইকবাল খোরশেদ জাফর

নির্বাহী সদস্য

তারিক সুজাত, ড. নিগার চৌধুরী, ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, রফিকুল ইসলাম, রেজীনা ওয়ালী লীনা, অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, ফকির সিরাজ, আরিফ রহমান, বুলবুল ইসলাম, অনন্ত হীরা, এম এ আজাদ, মনজুর আলম সিদ্দিকী, শাজনেওয়াজ, ত্রপা মজুমদার, প্রিয়াংকা গোপ, সঙ্গীতা ইমাম, হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল, আহসান হাবিব নাসিম, নাসিরুল হক খোকন, ড. বিশ্বজিৎ রায়, আক্তার-উজ-জামান কিরণ, ফয়জুল্লাহ সাঈদ, ঝর্ণা আলমগীর, আনিসা জামান চাঁপা, ড. সোলায়মান কবির, আহসান উল্লাহ তমাল, লিলি ইসলাম, রোকেয়া প্রাচী, তানভিন সুইটি, তনিমা হামিদ, মাহবুব রিয়াজ, আবুল ফারাহ পলাশ, মাসুদুজ্জামান, শামসুজ্জামান বাবু, অনন্যা লাবনী পুতুল, রওনক হাসান, নবীন কিশোর গৌতম, হানিফ খান, ওয়ার্দা রিহ্যাব, নাঈম হাসান সুজা, এইচ আর অনিক, আশিকুর রহমান বুলু, রেজাউল করিম রেজা, রওশন আরা রুশনী, নাজনিন হাসান চুমকি, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, চৈতালী চৈতী, শহীদুল ইসলাম নাজু, তারেক আলী মিলন, শাহীন আহমেদ, অনিকেত রাজেশ, আবিদা রহমান সেতু, ফারজানা মালিক নিম্মি, ফারহিন খান জয়িতা, এনায়েত করিম বাবলু, হৃদি হক, আতিকুর রহমান উজ্জ্বল, এশা ইউসুফ, জি এম মোর্শেদ, নিয়াজ আহমেদ, তৌফিক হাসান ময়না, কাজী মিজানুর রহমান, মীর জাহিদ হাসান, শেখ শাফায়েতুর রহমান, এফ এম শাহীন, কিরীটি রঞ্জন বিশ্বাস, শামিমা তুষ্টি, মনিরুল ইসলাম, শাহ আলম সিকদার জয়, উর্মীলা শ্রাবন্তী কর, এহসানুল আজিজ বাবু, ফয়জুল আলম পাপ্পু, ঠান্ডু রায়হান, নাজমুল হাসান পাখী (চট্টগ্রাম বিভাগ), বিপ্লব প্রসাদ (রংপুর বিভাগ), সুকুমার দাস (খুলনা বিভাগ), আমিনুর রহমান ফরিদ (ঢাকা বিভাগ), কামসুল আলম সেলিম (সিলেট বিভাগ), আজমল হোসেন লাবু (বরিশাল বিভাগ), দিলীপ কুমার ঘোষ (রাজশাহী বিভাগ), গোলাম মোস্তফা (যুক্তরাজ্য), আহমেদ হোসেন (কানাডা), মাহতাব সোহেল (যুক্তরাষ্ট্র), শামসুল হুদা সেলিম (কানাডা), মিথুন আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)।

Also Read: ৮ বছর পর সম্মেলনে সাংস্কৃতিক জোট, নেতৃত্বে আসছেন কারা?

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক