২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গান-স্মৃতিচারণে গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে স্মরণ

২০ হাজারের বেশি গানের এ রচয়িতা জীবদ্দশায় ভূষিত হয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 11:27 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

গান ও স্মৃতিচারণায় ‘দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ এর উদ্যোগে স্মরণ করা হল প্রয়াত গীতিকার, সুরকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে। 

রাজধানীর বনানীর ১৮ নম্বর রোডের জে ব্লকে আর্টিস্ট ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে ‘আইকনিক টিউজডে’ শিরোনামে মঙ্গলবার এই আয়োজন শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

অনুষ্ঠানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের জীবন, কর্ম ও সংস্কৃতিতে তার অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন স্ত্রী জোহরা গাজী এবং ছেলে সরফরাজ আনোয়ার উপল।

স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জোহরা গাজী বলেন, “গাজী মাজহারুল আনোয়ার তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বিবিসির জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তার…. সর্বোচ্চ ৩টি গান স্থান পাওয়া পুরো জাতির জন্য বিরাট গর্বের বিষয়।

“তিনি ব্যক্তিজীবনেও বেশ সফল ছিলেন। অত্যন্ত দেশপ্রেমিক একজন লোক ছিলেন। দেশের যে কোনো প্রয়োজনে এবং সংকটময় মুহূর্তে তার হাতে কলম উঠে যেত। তিনি অত্যন্ত সৎ, চরিত্রবান, পরোপকারী, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব-কর্তব্যপরায়ণ এবং অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন।”

বাবাকে নিয়ে সরফরাজ আনোয়ার উপল বলেন, “আমাদের পরিবারের কাছে পুরো পৃথিবীজুড়ে ছিলেন বাবা গাজী মাজহারুল আনোয়ার। একটি দেশের সমৃদ্ধির পেছনে সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর আমাদের সেই সংস্কৃতির অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন বাবা।”

বাবার লেখা ও সুর করা গানগুলো তৈরির পেছনের গল্প নিয়ে বই প্রকাশের তথ্য দিয়ে উপল বলেন, “বাবা ২০ হাজারের বেশি গান লিখেছেন এবং ৪১টি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন। উনার জীবদ্দশাতেই আমরা কালজয়ী গানগুলোর পেছনের অজানা গল্প নিয়ে ‘অল্প কথার গল্প গান’ গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্যোগ নেই। মুমিন বিশ্বাসের সহযোগিতায় বাবা প্রায় পাঁচ হাজার গানের নেপথ্য কাহিনী রেখে গেছেন, যা আমরা ধারাবাহিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করছি। 

“আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর আমরা না থাকলেও যেন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের নাম ও সৃষ্টি হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ প্রচেষ্টা।”

বইটি আগামী বছরের বইমেলায় প্রকাশ করা হবে বলে তথ্য দেন উপল।

‘দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ এর সভাপতি সুজিত মোস্তফা বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন সৃজনশীল ক্ষেত্রে অবদান রাখা আইকনিক ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি, অনন্য সৃষ্টিকর্ম এবং তাদের জীবনের নানা গল্প তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আমাদের প্রথম পর্বটি সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের এমন এক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে, যিনি দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। শুধু সংখ্যায় নয়, তার রচিত অজস্র গান এ দেশের মানুষের মুখে মুখে ফেরে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব, সস্ত্রীক কানাডিয়ান নাগরিক ব্রেন্ট জলিমরসহ অনেকে।

আলোচনা সভা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও সুর করা গানগুলো পরিবেশন করছেন তিন কণ্ঠশিল্পী অভিজিৎ দে, চৈতি মুৎসুদ্ধি এবং শামামা তাহমিদ।

২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বার্ধক্যের নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে মারা যান গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ২০ হাজারের বেশি গানের এ রচয়িতা জীবদ্দশায় ভূষিত হয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায়। 

তার লেখা তিনটি গান সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান পেয়েছে। তালিকায় থাকা তিনটি গান হল- ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’ ও ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’।

এছাড়াও তার লেখা ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’- এর মত বহু কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।