১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুবার্ষিকীতে নায়করাজকে নিয়ে চ্যানেল আইয়ে দিনব্যাপী আয়োজন

এই অভিনেতার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আই আয়োজন করেছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানসূচি।

মৃত্যুবার্ষিকীতে নায়করাজকে নিয়ে চ্যানেল আইয়ে দিনব্যাপী আয়োজন
অভিনেতা রাজ্জাক

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2024, 12:17 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:18 AM

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক রাজ্জাক। পাঁচশর বেশি চলচ্চিত্রের অভিনেতা আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মানুষের কাছে খ্যাত ছিলেন ‘নায়করাজ’ রাজ্জাক নামে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগ থেকে শুরু করে রঙিন যুগ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন তিনি। 

২০১৭ সালের ২১ অগাস্ট পৃথিবীর মায়া কাটান এই অভিনেতা।

নায়করাজের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আই আয়োজন করেছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের। 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের স্মরণে সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে গানের অনুষ্ঠান 'গান দিয়ে শুরু'। অনুষ্ঠানে গান করবেন শিল্পী মো. খুরশীদ আলম। তার সঙ্গে থাকবেন সেরাকণ্ঠের বিকসাম এবং অনন্যা আচার্য্য।

এদিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আয়োজন করা হয়েছে ‘তারকা কথন’ এর বিশেষ পর্ব। যেখানে উপস্থিত হবেন রাজ্জাকের ছেলে চিত্রনায়ক ও নির্মাতা সম্রাট। 

শাইখ সিরাজ নির্মিত নায়করাজের জীবনীনির্ভর প্রামাণ্যচিত্র ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’ দেখানো হবে বিকেল ৩ টা ৫ মিনিটে। 

রাত ১০ টা ২০ মিনিটে রয়েছে আবদুর রহমানের উপস্থাপনায় ‘সাময়িকী’র বিশেষ পর্ব।

অভিনেতা রাজ্জাক 

অভিনেতা রাজ্জাক

১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হলে সেখানে অভিনয়ের সুযোগ পান রাজ্জাক। তখন ধারাবাহিক নাটক ‘ঘরোয়া’য় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। আবদুল জব্বার খানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান তিনি, তবে নায়ক হিসেবে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে।

সেই সময়ের সংগ্রামের কথা রাজ্জাক নিজেই বলে গেছেন এভাবে- “আমি আমার জীবনের অতীত ভুলি না। আমি এই শহরে রিফিউজি হয়ে এসেছি। স্ট্রাগল করেছি, না খেয়ে থেকেছি। যার জন্য পয়সার প্রতি আমার লোভ কোনোদিন আসেনি।”

সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার মধ্যেই ‘তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজ্জাক। এরপর ‘ডাকবাবু’, উর্দু ছবি ‘আখেরি স্টেশন’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।  

রাজ্জাক ও সুচন্দা জুটি

রাজ্জাক ও সুচন্দা জুটি

এক সময় জহির রায়হানের নজরে পড়েন রাজ্জাক। ‘বেহুলা’ সিনেমার অভিনেত্রী সুচন্দার নায়কের চরিত্রে জহির রায়হান নেন রাজ্জাককে। এই সিনেমায় লখিন্দরের ভূমিকায় অভিনয় করে রাজ্জাক পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা। এরপর জহির রায়হানের ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমা করে পেলেন সাত হাজার টাকা। রাজ্জাক পায়ের নিচে দাঁড়ানোর মতো মাটি পেলেন।

সুচন্দার পর শবনম, কবরী, ববিতা, শাবানাসহ তখনকার প্রায় সব অভিনেত্রীকে নিয়ে একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র দেন ঢালিউডকে। এর মধ্যে রাজ্জাক-কবরী জুটি ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। 

রাজ্জাক ও কবরী জুটি

রাজ্জাক ও কবরী জুটি

সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাজ্জাক-কবরী জুটির শুরু। এরপর একের পর এক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন তারা। ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘ঢেউ এর পরে ঢেউ’ এবং স্বাধীনতার পর ‘রংবাজ’, ‘বেঈমান’সহ বেশকিছু চলচ্চিত্র উপহার দেন এই জুটি।

রাজ্জাকের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আনোয়ারা’, ‘সুয়োরাণী-দুয়োরাণী’, ‘দুই ভাই’, ‘মনের মতো বউ’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বেঈমান’।

রাজ্জাক ও শাবানা জুটি  

রাজ্জাক ও শাবানা জুটি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ‘রংবাজ’ দিয়ে বাংলাদেশে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রের সূচনা ঘটান রাজ্জাক। এরপর ‘পিচ ঢালা পথ’, ‘স্বরলিপি’, ‘কি যে করি’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘আনার কলি’, ‘বাজিমাত’, ‘লাইলি মজনু’, ‘নাতবউ’, ‘মধুমিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘সাধু শয়তান’, ‘পাগলা রাজা’, ‘মাটির ঘর’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘কালো গোলাপ’, ‘নাজমা’সহ অসংখ্য ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবে রাজ্জাককে পর্দায় দেখেছে দর্শক।  

তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র 'কার্তুজ', পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র 'আয়না কাহিনী'।

রাজ্জাক ও ববিতা জুটি

রাজ্জাক ও ববিতা জুটি

অভিনয়ের জন্য রাজ্জাক পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা। ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। ২০১৫ সালে তিনি পান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার।

'বদনাম', 'সৎ ভাই', 'চাপা ডাঙ্গার বউ' সহ প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন রাজ্জাক। তার মালিকানার রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন থেকে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়।

অভিনয় জীবনের বাইরে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও কাজ করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক।