৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সব প্রত্যাশা ‘মরে’ গেছে ‘ফাতিমা’ নির্মাতার

"প্রথম সিনেমার যে ফুটেজটুকু আমাকে বাদ দিতে হয়েছিল, সেটার মূল্য হবে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা।"

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 06:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:37 AM

আটবছর আগে যে সিনেমা তৈরিতে হাত দিয়েছিলেন পরিচালক ধ্রুব হাসান, সেটি আলোর মুখ দেখতে চলেছে শুক্রবার। 

এই দীর্ঘ সময়ে সিনেমার নাম বদল হয়েছে, পাল্টাতে হয়েছে চিত্রনাট্য, মাঝপথে টান পড়ে সিনেমা বানানোর টাকাতেও, তবুও হাল ছাড়েননি নির্মাতা। বাধা-বিপত্তি উৎরে ‘ফাতিমা’ নামের সেই সিনেমা আসছে প্রেক্ষাগৃহে।

কিন্তু নানা ধরনের হতাশা ভর করেছে পরিচালক ধ্রুবর মধ্যে। ‘ফাতিমা’ যে ধরনের গল্পে তৈরি হয়েছে, তেমন গল্প নিয়ে কাজ করা যে কতটা কঠিন, গত আট বছরে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন ধ্রুব।

এ সিনেমার চিত্রনাট্যকে নিজের ‘প্রাণের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন এ নির্মাতা। তিনি বলেন, "আমার আসলে সব এক্সপেকটেশন মরে গেছে। আমি জানি এই সিনেমা মুক্তির পর আমার যে টাকা খরচ হয়েছে, সেটাও উঠবে না। একটাই আশা, আমার গল্পটা দর্শক পছন্দ করবে, এটা আমাদের সমসাময়িক একটা গল্প।”

‘ফাতিমা’ নির্মাণের পেছনে দীর্ঘ আট বছরের অভিজ্ঞতা ধ্রুব গ্লিটজের কাছে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, "পুরো জার্নিটাই আমার জীবনের বিশাল এক অভিজ্ঞতা। যা অনেকটা কঠিন ছিল। এটা করতে গিয়ে আমি শিখেছি নিজের গল্প নিয়ে, নিজের সিনেমা বানানো খুব কঠিন। আপনাকে হয় কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে সিনেমা নির্মাণ করতে হবে, আর না হয় তাদের লেখা গল্প আপনার শুধু সার্ভ করতে হবে।”

এই সিনেমাটি ইরানের ৪২তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায় কিছুদিন আগে। এ সিনেমা দিয়েই চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন নাটকের অভিনয় শিল্পী ফারিণ। সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরো অভিনয় করেছেন সংগীতশিল্পী পান্থ কানাই, তারিক আনাম খান, ইয়াশ রোহান, শাহেদ আলী সুজন। 

মুক্তির আগে রাজধানীতে স্টার সিনেপ্লেক্সের মহাখালী শাখায় ‘ফাতিমার’ বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলীরা।   

ধ্রুব বলেন, সিনেমার প্রস্তুতি তিনি নেন ২০১৬ থেকে। শুটিং শুরু ২০১৭ সালে, তখন এ সিনেমার নাম ছিল ‘দাহকাল’।

“প্রায় ৭০ শতাংশ চিত্র ধারণের পর আর্থিক সমস্যায় কাজ আটকে যায়। হুট করেই মাঝপথে নির্মাণ বন্ধ করে দিতে হয়। ‘দাহকাল’ এর সেই গল্পটা ছিল কমার্শিয়াল ধাঁচের অ্যাকশন থ্রিলার। ১৯৭১ সালের পরের ঘটনা। সেই গল্পে দুজন মূল চরিত্রের শিল্পী ছিলেন। ফিকশন ছিল। কিন্তু যখন ফিন্যান্স আটকে গেল, তখন আমরা সরে আসি।”

ধ্রুব বলেন, “তারপর প্রায় এক বছর লাগে গল্পটা নতুন করে লিখতে। 'দাহকাল' গল্পের যে বীরাঙ্গনা চরিত্র ছিল, তার নাম ছিল সুবর্ণা। ওই চরিত্র মাথায় নিয়ে পুরো গল্পটা আমরা আবার নতুন করে লিখি। গল্পের মূল বার্তা পরিবর্তন না করে প্রথম গল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করি। সেখানে দুজন মেয়ের গল্প ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন পরিবর্তন করা হয় তখন একজনকে রাখতে হয়েছে। 

“তারপর গল্পের সঙ্গে মিল রেখে 'ফাতিমা' নাম রাখা হয়। প্রথম সিনেমার যে ফুটেজটুকু আমাকে বাদ দিতে হয়েছিল সেটার মূল্য হবে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা। আর ‘ফাতিমা’র কাজ শেষ করি ২০২৩ সালে।”

ধ্রুব জানান, ‘ফাতিমা’ সিনেমায় অর্থ লগ্নী করেছেন নির্মাতা নিজেই। ‘ফাতিমা’ নিয়ে প্রত্যাশা কেমন? ধ্রুব বলেন, “মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা এক সময় সিনেমা হলে যেত, আমাদের মা-বোনেরা সিনেমা দেখতে যেত। এখন মেয়েরা হলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যারা আর হলে যান না, তাদের বলছি, তারা যদি সিনেমাটি গিয়ে দেখেন, আমার মনে হয় ভালো লাগবে।”

এ নির্মাতা বলেন, "বাংলাদেশের সবাই কমার্শিয়াল সিনেমা বানাতে পারে। আমি চাই আমার নির্মাণে দেশের সিনেমার একটা আইডেন্টিটি হোক বিশ্ব বাজারে। আমি সেটাই করে গেছি এবং ওই চেষ্টাটা করতে চাই।"

'ফাতিমা' এক নারীর সংগ্রামের গল্প। পরিবার ছেড়ে ঢাকা শহরে একটি মেয়ের নতুন করে জীবন শুরু করার সংগ্রাম নিয়ে গল্প। 

ধ্রুব বলেন, “এটা আমাদের চারপাশের প্রতিটা মেয়ের গল্প। এই সিনেমার মূল বৈশিষ্ট্য হল কোনটা বাস্তব কোনটা অভিনয় সেটা বোঝা যাবে না। আমরা এমনভাবে সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করছি, যাতে কোনো সীমারেখা না থাকে। আমাদের জীবনে এমন কিছু কাছের মানুষ আসে, যাদেরকে দেখে মনে হবে না তার ভেতরে খারাপ কিছু আছে। এই সিনেমায়ও তেমন। সিনেমা দেখে মনে হবে সে কীভাবে এটা করল। শেষে গিয়ে সবাই একটা ধাক্কা খাবে যে সে এই কাজটা করল!"  

‘ফাতিমা’ চরিত্রের অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ বলেন, "চরিত্রের সঙ্গে আমার মিল রয়েছে। আমি স্পষ্টবাদী, প্রতিবাদী। আমি কোনো অন্যায় সহ্য করতে পারি না। নিজেকে রক্ষা করি। আমি খুব সৎ হয়ে চলি, কেউ মিথ্যা অভিযোগ তুললে আমি সেটার প্রতিবাদ করি। ফাতিমা আসলে সেটাই। আমারও জীবনে একটা সংগ্রামের গল্প আছে। তাই সিনেমাটি প্রতিটা মেয়ের চরিত্রের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিনেমা দেখলে সবার ভালো লাগবে।" 

ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা করার অনুভূতির কথা জানিয়ে ফারিণ বলেন, "২০১৬ সালে যখন এটায় যুক্ত হই, আমার প্রত্যাশা ছিল 'দাহকাল' সিনেমার মাধ্যমে আমার মিডিয়ায় অভিষেক হবে। কিন্তু যখন বন্ধ হয়ে যায় তারপর আমার ক্যারিয়ার পুরোপরি পরিবর্তন হয়ে যায়। আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আর সিনেমা করব না। নাটক করব বা অন্য কিছু করব। সিনেমা আর করব না। ২০২৩ সালে এসে আবার সিনেমার শুটিং হয়। দুটো সময়ের শুটিং মিলিয়েই এই সিনেমা।"

আগামীতে মেক্সিকো, লন্ডনে আরও দুটি চলচ্চিত্রে উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শনী হবে বলে জানান ফারিণ। 

পুরনো খবর

ফারিণের 'ফাতিমা' মুক্তি পাচ্ছে দেশে

'ফাতিমা'র এক ঝলক

'ফাতিমা'র ফারিণ পুরস্কার জিতলেন ইরানে