১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘প্রাপ্তবয়স্কদের’ সিনেমাটি অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে

টেকিনিশিয়ানদের বকেয়া টাকা মেটাতেই বিধিনিষেধ উঠে যায়।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Nov 2025, 04:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

কলকাতার বাংলা সিনেমা ‘দি অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’ সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে এসেছে।

প্রতারণার অভিযোগ তুলে টেকনিশিয়ান ফেডারেশন পরিচালক জয়ব্রত দাসের প্রথম সিনেমাটির মুক্তি আটকে দিয়েছিল। এরপর দফায় দফায় ফেডারেশনের সঙ্গে নির্মাতা টিমের বৈঠক চলে। অবশেষে সিনেমার প্রযোজক টেকিনিশিয়ানদের বকেয়া টাকা মেটাতেই বিধিনিষেধ উঠে যায়। 

১৪ নভেম্বরের বদলে শুক্রবার মুক্তি পায় ‘দি অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’। এইই সিনেমাটি 'অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট' পাওয়া। 

দর্শককে হলে টানতে সিনেমার পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা সাধারণত বলে থাকেন, ‘সপরিবারে সিনেমাটি দেখতে আসুন’। তবে ‘দ্য একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ নির্মাতা জয়ব্রত দাশ তার নতুন কাজটি নিয়ে বলে দিয়েছিলেন, ‘সিনেমাটি সপরিবার দেখবেন না’; সিনেমার পোস্টারেও বিধিসম্মত সতর্কীকরণটি জুড়ে দিয়েছেন তিনি। সেই থেকে এই সিনেমাটি আলোচনায়।

‘দি অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের’ বিশেষ প্রদর্শনী হয় বৃহস্পতিবার। সেখানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেতা সৌরভ দাস বলেন, “সিনেমাটি করার জন্য আমাকে রাজি করিয়েছিল রুদ্রদা। অনেক বাধা পেরিয়ে সবার শেষে এসেছি, তবে সবার থেকে এগিয়ে যাব।’’ 

এই সিনেমার সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে আরও দুটি ‘ডিপ ফ্রিজ’ ও ‘লক্ষীকান্তপুর লোকাল’। তবে ‘দি অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’ বাকি সবগুলোকে ছাপিয়ে যাবে বলে নিশ্চিত সৌরভ।

সিনেমাটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর বার বার সোশাল মিডিয়ায় সরব হন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। 

মুক্তিতে খুশি তিনি। বিনা পারিশ্রমিকে এই সিনেমায় কাজ করেছেন। 

সে প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, “এই কাজ করে ডালভত খাব। না হয় মাছ, মাংস খেলাম না। তবে কিছু কাজ করলে একটা শান্তি পাওয়া যায়।”

পরিচালক জয়ব্রত দাস বলেন, “মুক্তি আটকে যাওয়ার খবরে আমরা মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু পরে এই ধাক্কা সামলে উঠি।”

তবে বদলে গেছে সিনেমার পরিবেশক। আইনক্স পিভিআরের বদলে পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন পরিবেশক শতদীপ সাহা। 

শতদীপ সাহা বলেছেন ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে এই সিনেমা। যদি প্রথম সপ্তাহে ভালো সাড়া মেলে, তাহলে প্রদর্শনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

‘দি অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’ নিয়ে প্রথম আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড; তাদের নির্দেশে ৫৪বার ছুরি কাঁচি চালাতে হয়েছিল নির্মাতাকে।

আর ১৪ নভেম্বরের আগে ফেডারেশন বলছিল, সিনেমার পোস্টারে ‘প্রমোদ ফিল্মস’ নামে যে প্রযোজনা সংস্থার নাম গিয়েছে, তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তবেই এই সিনেমা মুক্তির বিষয়ে আগানো হবে। আর জয়ব্রত, মানব ও সঙ্কেতের দাবি ছিল, তারা ছাত্র থাকাকালীন নিজেদের টাকা দিয়েই সিনেমার কাজ করেছেন। প্রমোদ ফিল্মস এই সিনেমার সঙ্গে খুব স্বল্প সময়ের জন্য যুক্ত ছিল।

সিনেমাটি তৈরি হয় ২০২১ সালে। কোভিড মহামারী পরবর্তী সময়ে এসআরএফটিআইয়ের (সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট) ছাত্রছাত্রীরা মিলে সিনেমাটি তৈরি করেন। বাজেট ছিল প্রায় ২৫ লাখের কাছাকাছি। এবং এই সিনেমার অভিনয় শিল্পীরা কাজ করেছেন বিনা পারিশ্রমিকে।

পরিচালক জয়ব্রত বলেছিলেন, তারা প্রচার চালানোর সময়ও বুঝতে পারেননি এমন কিছু হবে। 

“আমাদের টিমে আসলে স্পটবয় থেকে চিত্রগ্রাহক, সবাই ফিল্ম স্কুলের ছাত্রছাত্রী। নিজেরা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ করে টাকা তুলি। আমরা জানতামই না যে, সিনেমা বানাতে গেলে ফেডারেশনের থেকে এমন অনুমতি নিতে হয়। তাদের এত নিয়ম আছে।”

ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের ভাষ্য, “এই সিনেমা আসলে একটা বিশ্বাসঘাতকতার উদাহরণ তৈরি করেছে। একটি বাণিজ্যিক সিনেমাকে ‘স্টুডেন্ট ফিল্ম’ হিসাবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে কোনও বাণিজ্যিক সিনেমা মুক্তির ক্ষেত্রে তাদের থেকে অনুমতি নেওয়া জরুরি। যদি সিনেমাটি সত্যিই শুধু ছাত্রছাত্রীদের তৈরি হয়, তবে ফেডারেশন তাদের সহায়তা করবে।”

একগুচ্ছ অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নির্মিত এই সিনেমার চিত্রনাট্যে দেখাচ্ছে একটি দামি অ্যান্টিক মদের বোতল ঘিরে কয়েকজন অপরাধীর পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টায় প্রত্যেকে জড়িয়ে পড়ে ছলনা, প্রতারণা, বিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতার গল্পে।

সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, পায়েল সরকার, ঋষভ বসু, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, অমিত সাহা, অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, রানা বসু ঠাকুর ও অঞ্জন রায় চৌধুরী।