১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘প্রশংসায় বিব্রত হতেন মা’, বললেন অড্রে হেপবার্নের ছেলে

সিনেমায় হেপবার্নের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন লিলি কলিনস।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Mar 2026, 03:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:07 PM

হলিউডের অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অড্রে হেপবার্নের জীবনের গল্প আসছে পর্দায়। স্যাম ওয়াসনের লেখা বই ‘ফিফথ অ্যাভেনিউ, ফাইভ এএম: অড্রে হেপবার্ন, ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিস অ্যান্ড দ্য ডন অফ দ্য মডার্ন ওম্যান’ অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে এই বায়োপিক। 

এ সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত তারকা লিলি কলিনস গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইনস্টাগ্রামে ঘোষণা দেন সিনেমায় হেপবার্নের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। এরপর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের মাঝে আগ্রহ তুঙ্গে।

আইকনিক এই অভিনেত্রীর চরিত্রে কেমন করবেন কলিনস সেটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ফক্স নিউজ ডিজিটালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়োপিক নিয়ে নিজের মন্তব্য জানিয়েছেন হেপবার্নের ছেলে শন হেপবার্ন ফেরের।

শন বলেন, “আমি লিলিকে খুবই পছন্দ করি। বইটার লেখক স্যাম ওয়াসন আমার খুব কাছের বন্ধু এবং আমি তার জন্য অনেক আনন্দিত। সিনেমা নিয়ে আসলে আমার বেশি কিছু বলার নেই কারণ এটা এখনও তৈরি হয়নি।”

৬৫ বছরের শন আরও বলেন, “আমার মনে হয় ‘ডন অব দ্য মডার্ন ওম্যান’ বইটি নিয়ে আমার মা বিব্রত হতেন, কারণ যে কোনো ধরনের প্রশংসাতেই তিনি বিব্রত বোধ করতেন।”

সিনেমাটিতে ১৯৬১ সালের বিখ্যাত সিনেমা ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিস’ তৈরির সময়কার গল্পটা বলা হবে যেখানে হেপবার্নের ভূমিকায় দেখা যাবে ৩৬ বছর বয়সী কলিনসকে।

শন জানিয়েছেন, এটি ছাড়া ‘ডিনার উইথ অড্রে’ নামে আরও একটি সিনেমা তৈরি হচ্ছে অড্রে হেপবার্নকে নিয়ে।

গত নভেম্বরে প্রথম গণমাধ্যমে আসে ‘ডিনার উইথ অড্রে’ সিনেমার নাম। এই সিনেমায় অড্রে হেপবার্নের ভূমিকায় অভিনয় করবেন টমাসিন ম্যাকেনজি। 

এই সিনেমায় হেপবার্নের সঙ্গে ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার উবে দ্য জিভসির চার দশকের বন্ধুত্বকে তুলে ধরা হবে। জিভসির চরিত্রে দেখা যাবে অ্যানসেল এলগর্টকে।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ১৯২৯ সালে জন্ম হেপবার্নের।

মা-বাবা তার নাম রেখেছিলেন অড্রে ক্যাথলিন রুস্টন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছদ্মনাম নেন—এডা ভন হেমেস্ট্রা। একটি ইংরেজি নাম সে সময় ছিল বিপজ্জনক ঘটনা। পরে যখন তিনি আসেন সিনেমার দুনিয়ায় আসেন, পরিচিতি পান অড্রে হেপবার্ন নামে। 

তার শৈশব কেটেছে যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অধিকৃত নেদারল্যান্ডসে অনাহার, ভয় ও অনিশ্চয়তা তাকে খুব কাছ থেকে দেখিয়েছিল মানুষের কষ্ট। পরবর্তী জীবনে তার মানবিক কাজের পেছনে এই অভিজ্ঞতার বড় ভূমিকা ছিল। 

অভিনয়ে এই অভিনেত্রী যাত্রা শুরু হয় ছোট চরিত্র দিয়ে। প্রথম তিনি ১৯৪৯ সালে টেলিভিশন সিনেমায় নাম লেখান।

অস্কারের জন্য পাঁচবার মনোনীত হয়েছিলেন অড্রে হেপবার্ন। ‘রোমান হলিডে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মাত্র ২৪ বছর বয়সে অস্কার জিতেছিলেন ১৯৫৩ সালে। 

অড্রের সৌন্দর্য ছিল ভিন্ন রকম। প্রচলিত গ্ল্যামারের বাইরে তার ছিল সরলতা, স্বাভাবিকতা ও গভীর অভিব্যক্তি, যা আলাদা করে দর্শকদের নজর কাড়ে। 

এ ছাড়া ফ্যাশনের জগতেও তিনি বিপ্লব এনেছিলেন। বিভিন্ন সময় সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ সব চরিত্রে। কখনো কালো গাউন, কখনো ছোট চুল, বড় চোখ, সব মিলিয়ে অড্রে হেপবার্ন হয়ে ওঠেন স্টাইল আইকন।

বিরল অ্যাপেনডিক্সের ক্যান্সারে ভুগে ১৯৯৩ সালে ৬৩ বছর বয়সে মারা যান অড্রে হেপবার্ন।